ইমাম ইবনুল জাওজি (রহ.) বলেন—
“দুনিয়াটা এক বিশাল যুদ্ধক্ষেত্র। সব
মানুষই দাঁড়িয়ে আছে এই যুদ্ধের সারিতে। শয়তান হলো এ যুদ্ধের প্রধান প্রতিপক্ষ। সে মানুষের
দিকে একের পর এক আসক্তির তীর নিক্ষেপ করে, সুখ ও স্বাদের তরবারি দিয়ে অবিরাম আঘাত হানতে
থাকে।
যারা আসক্তি ও ভোগ-বিলাসে মগ্ন হয়ে যায়,
তারা এই যুদ্ধে ভূপাতিত ও পরাজিত হয়। আর যারা মুত্তাকি, তারা দৃঢ় ও অবিচল থাকে। আসক্তি
ও স্বাদের আঘাত তাদের পরাস্ত করতে পারে না। হ্যাঁ, কখনো কখনো তারা আহত হয়, কিন্তু চিকিৎসা
করে আবার সুস্থ হয়ে ওঠে। তারা কখনো চূড়ান্ত পরাজয় বরণ করে না।
প্রকৃত মুত্তাকি মুজাহিদগণ এই যুদ্ধে সামান্য আহত হওয়াকেও নিজেদের মর্যাদাহানি মনে করে। তাই তারা অত্যন্ত সতর্কতা ও সচেতনতার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যায়।”
📚 [সাইদুল খাতির : ২৫৭]
শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ (Lessons):
১.
দুনিয়া পরীক্ষা ও সংগ্রামের ময়দানঃ
দুনিয়াকে আরামের জায়গা ভাবলে ভুল হবে; এটি মূলত ঈমান রক্ষার এক যুদ্ধক্ষেত্র।
২.
শয়তান প্রকাশ্য শত্রুঃ
শয়তান সরাসরি পাপে টানে না; সে আসক্তি,
স্বাদ ও ভোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আঘাত করে।
আসক্তির তির →
হারাম, সন্দেহজনক ও অতিরিক্ত হালালের প্রতি আকর্ষণ
সুখ ও স্বাদের তরবারি → আরামপ্রিয়তা, নফসের খুশি, দুনিয়ামুখিতা
৩.
আসক্তি সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র
হারাম বা অতিরিক্ত বৈধ আসক্তি মানুষকে
দুর্বল করে, ইবাদত ও আত্মনিয়ন্ত্রণ নষ্ট করে দেয়।
যারা—
দুনিয়ার স্বাদকে লক্ষ্য বানায়
গুনাহকে হালকা ভাবে
তওবা বিলম্বিত করে.
৪.
পরাজয়ের কারণ: গাফিলতি
যারা দুনিয়ার স্বাদে ডুবে যায়, তারা বুঝতেই পারে না কখন ঈমানি যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে।
৫.
মুত্তাকিরা স্থির ও সচেতন
প্রকৃত মুত্তাকি মানুষ ফিতনার মাঝেও সচেতন থাকে, নিজেকে লাগামহীন হতে দেয় না।
৬.
আহত হওয়া ≠ পরাজয়
সাময়িক ভুল বা গুনাহ হয়ে গেলে তাওবা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আবার শক্ত হওয়া সম্ভব।
৭.
তাওবা হলো চিকিৎসা
গুনাহের ক্ষত সারানোর ওষুধ হলো—অনুতাপ, তাওবা, ইস্তিগফার ও সংশোধন।
৮.
উচ্চ মানসিকতা: ইহসান
প্রকৃত মুত্তাকি সামান্য আহত হওয়াকেও লজ্জা মনে করে; তাই তারা সবসময় আত্মসমালোচনায় থাকে।
৯.
জীবনব্যাপী মুজাহাদা
ঈমান রক্ষা একদিনের কাজ নয়; সারাজীবনের সচেতন সংগ্রাম।
১০.
সতর্কতা = সম্মান রক্ষা
যত বেশি আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আল্লাহভীতি,
তত বেশি মর্যাদা ও নিরাপত্তা।
@rasikulindia


0 Comments