দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রমজান মাসের রোজা পরিত্যাগ করার
বিধান:
প্রথম
অনুচ্ছেদ: ফরজ হওয়াকে অস্বীকার করে রোজা ত্যাগ করার বিধান:
যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজার আবশ্যকতা
বা ফরজ হওয়াকে অস্বীকার (Deny) করে রোজা ত্যাগ করবে, সে কাফের বলে গণ্য
হবে। তবে যদি সে নতুন মুসলিম হয় (ইসলাম সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকে) অথবা এমন
কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে বড় হয় যেখানে মুসলমানদের সাথে যোগাযোগ নেই এবং রোজা ফরজ হওয়ার
বিষয়টি তার কাছে অজানা থাকা সম্ভব, তবে সে কাফের হবে না।
ইজমা (ঐক্যমত) থেকে দলিল:
ইমাম কাসানী (রহ.) এ বিষয়ে ইজমা বর্ণনা করে বলেন:
"উম্মত রমজান মাসের রোজা ফরজ হওয়ার
ব্যাপারে একমত হয়েছে। সুতরাং কাফের ছাড়া আর কেউ এটি অস্বীকার করে না।"
[রেফারেন্সঃ বাদায়েউস সানায়ে: ২/৭৫]
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অলসতাবশত ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ত্যাগ
করার বিধান:
যদি কোনো ব্যক্তি রোজার আবশ্যকতা স্বীকার
করে কিন্তু অলসতাবশত বা অবহেলা করে রমজানের একটি রোজাও ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করে,
তবে সে কবিরা গুনাহ (মহা পাপ) করল। তার ওপর উক্ত রোজার কাজা করা ওয়াজিব। এটি
চার মাজহাবের আলেমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত:
১. হানাফি মাজহাব: [তাবিইনুল
হাকায়েক: ১/৩২৭; দুরারুল হুক্কাম: ১/২০৫]
২. মালিকি মাজহাব: [আল-কাফি:
১/৩৩৫; শারহু মুখতাসারিল খালিল: ২/২৫০]
৩. শাফেয়ি মাজহাব: [আল-মাজমু:
৬/৩২৮; ফাতহুল আজিজ: ৬/৪৬১]
৪. হাম্বলি মাজহাব: [কাশশাফুল
কিনা: ২/৩০৯; আল-মুগনি: ৩/১৩০]
কাজা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ইজমা:
কোনো ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ত্যাগকারীর ওপর কাজা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে ইজমা বা ঐক্যমত
বর্ণনা করেছেন:
ইবনে আবদিল বার (রহ.) বলেন:
"উম্মতের আলেমগণ এবং সর্বস্তরের ফকীহগণ এই মর্মে একমত হয়েছেন যে—যে ব্যক্তি রোজার
ফরজ হওয়ার প্রতি বিশ্বাস রাখা সত্ত্বেও দম্ভ ও অহংকারবশত ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা রাখেনি,
অতঃপর তওবা করেছে, তার ওপর উক্ত রোজার কাজা করা আবশ্যক।"
রেফারেন্সঃ
[আল-ইস্তিজকার: ১/৭৭]
ইবনে কুদামা (রহ.) বলেন:
"যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে ফেলে, তার ওপর কাজা করা ওয়াজিব। এ বিষয়ে কারও
কোনো ভিন্নমত আমাদের জানা নেই।"
[রেফারেন্সঃ
আল-মুগনি: ৩/১৩০]
ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন:
"আমরা এ বিষয়ে একমত যে, যদি কেউ বিনা ওজরে ইচ্ছাকৃতভাবে রমজানের একদিন রোজা ত্যাগ
করে, তবে তার ওপর কাজা ওয়াজিব।"
[রেফারেন্সঃ
তাফসিরে কুরতুবি: ১১/১৭৮]
কেন এটি গুনাহ এবং কেন কাজা করতে
হবে?
১.
কবিরা গুনাহ হওয়ার কারণ: সে ইসলামের একটি অন্যতম রুকন বা স্তম্ভ এবং একটি মহান
ফরজ বিধানকে অবজ্ঞা করেছে।
[রেফারেন্সঃ মাজমু ফাতাওয়া ইবনে বাজ: ১৫/৩৩২]
২.
কাজা ওয়াজিব হওয়ার কারণ: আল্লাহ তাআলা অসুস্থ এবং মুসাফিরের ওপর ওজর থাকা সত্ত্বেও
কাজা করা ওয়াজিব করেছেন; সুতরাং কোনো ওজর ছাড়া রোজা ত্যাগকারীর ওপর কাজা ওয়াজিব হওয়া
আরও বেশি যুক্তিসঙ্গত।
[রেফারেন্সঃ
আল-মাজমু: ৬/৩২৮]


0 Comments