Subscribe Us

হে পথিক ভবিষ্যৎ বলে কিছু নাই ,আসোল ভবিষ্যৎ হলো পরোকাল।।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: রোযার নিয়তের সময় প্রথম শাখা: ফরয রোযার নিয়তের সময়

শাহরু রমাদান ২০২৬ - ডেইলি কার্ড
শাহরু রমাদান ২০২৬
📍 গোধনপাড়া, রানীনগর, মুর্শিদাবাদ
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: রোযার নিয়তের সময়
প্রথম শাখা: ফরয রোযার নিয়তের সময়
প্রথম মাসআলা: রাতে নিয়ত করা (তাবয়ীতুন নিয়্যাহ)-এর বিধান:
ফরয রোযার জন্য সুবহে সাদেকের আগেই রাতে নিয়ত করা ওয়াজিব। এটি জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের মত।
মালিকী মাযহাব: ইবনে আব্দুল বার (রহ.) বলেন— "সূর্যাস্ত থেকে সুবহে সাদেক পর্যন্ত সময়ের মধ্যে রাতে নিয়ত করা ছাড়া রমজানের রোযা বৈধ হবে না।" [রেফারেন্স: আল-কাফী (১/৩৩৫)]
শাফেঈ মাযহাব: আল-মাজমু’ (৬/২৯৯)। হাম্বলী মাযহাব: আল-ইনসাফ (৩/২০৮)।
সালাফগণের অভিমত:
ইমাম শাওকানী (রহ.) বলেন— "হাদিসটি প্রমাণ করে যে, রাতে নিয়ত করা এবং রাতের কোনো একটি অংশে তা সম্পন্ন করা ওয়াজিব। সাহাবীদের মধ্যে ইবনে ওমর ও জাবির ইবনে যায়েদ এবং ইমাম মালিক, লাইস ও ইবনে আবি যিব এই মত পোষণ করেছেন।" [নাইলুল আওতার (৪/২৩২)]
দলিলসমূহ:
১. সুন্নাহ থেকে: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী— "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল..."।
দলিলের ধরণ: রোযা একটি আমল, আর আমল নিয়ত সাপেক্ষে গণ্য হয়। যেহেতু দিনের অংশগুলো রাতের সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে যুক্ত, তাই রাতের কোনো অংশে নিয়ত থাকলেই তা দিনের শুরুতে কার্যকর হবে। [রেফারেন্স: সুবুলুস সালাম (১/৫৬১)]

২. আসার (সাহাবীর বাণী) থেকে: নবী (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত হাফসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— "যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোযার সংকল্প সংহত করেনি, তার কোনো রোযা নেই।" [রেফারেন্স: নাসাঈ (২৩৩৬), মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা (৯১১২), বুখারী-তারীখুল আওসাত (৫৭২), দারাকুতনী (২২১৭)। ইবনে হাজম ও আলবানী একে সহীহ বলেছেন।]
দ্বিতীয় মাসআলা: রমজানের প্রতিদিন নতুন করে নিয়ত করার বিধান
রমজানের প্রতিদিন আলাদা নিয়ত লাগবে কিনা—এ বিষয়ে ওলামাদের দুটি মত রয়েছে:
প্রথম মত: প্রতিদিনের জন্য পৃথক নিয়ত শর্ত (জমহুর ওলামা)
এটি জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের মাযহাব।
হানাফী মাযহাব: জাসাস, শারহু মুখতাসারিত তহাবী (২/৪০৩); সারাখসী, আল-মাবসুত (৩/৬৬)।
শাফেঈ মাযহাব: আল-মাজমু’ (৬/৩০২)। হাম্বলী মাযহাব: আল-ইনসাফ (৩/২০৯); আল-মুগনী (৩/১০৯)।
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: "এটি ইমাম আবু হানিফা, ইসহাক ইবনে রাহুয়াহ, দাউদ এবং ইবনুল মুনযিরেরও মত।" [আল-মাজমু’ (৬/৩০২)]
যুক্তিনির্ভর দলিল: রমজান মাসের প্রতিটি দিনের রোযা একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। এক দিনের রোযা নষ্ট হলে অন্য দিনের রোযায় তার প্রভাব পড়ে না।
কিয়াস (সাদৃশ্য): যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের জন্য আলাদা নিয়ত লাগে, তেমনি রোযার ক্ষেত্রেও প্রতিদিনের জন্য আলাদা নিয়ত প্রয়োজন। [রেফারেন্স: আল-মুহাল্লা (৪/২৯০), নাইলুল আওতার (৪/২৩৩)]
দ্বিতীয় মত: পুরো মাসের শুরুতে এক নিয়তই যথেষ্ট
যে সকল রোযায় ধারাবাহিকতা (তাতাবু) শর্ত, সেগুলোর শুরুতে একবার নিয়ত করাই যথেষ্ট।
সমর্থক: মালিকী মাযহাব [আশ-শারহুল কাবীর (১/৫২১)], হানাফী মাযহাবের ইমাম যুফার [আল-মাবসুত (৩/৫৬)] এবং শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.)।
যুক্তি: যেহেতু ধারাবাহিক রোযাগুলো একটি একক ইবাদতের মতো, তাই একটি নিয়তই যথেষ্ট। [রেফারেন্স: আশ-শারহুল মুমতি (৬/৩৫৬)]

Post a Comment

0 Comments