Subscribe Us

হে পথিক ভবিষ্যৎ বলে কিছু নাই ,আসোল ভবিষ্যৎ হলো পরোকাল।।

🌙 লাইলাতুল কদর সংক্রান্ত সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদিসসমূহ



🌙 লাইলাতুল কদর সংক্রান্ত সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদিসসমূহ

১. লাইলাতুল কদরের ফজিলত:

·        আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী কারীম (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম (ইবাদত) করবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" (সহিহ বুখারী: ৩৫, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)


২. এটি রমজানের শেষ দশকে হওয়ার প্রমাণ:

·        আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, "রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন—তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।" (সহিহ বুখারী: ২০২০, সহিহ মুসলিম: ১১৬৯)

·        আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছিল, অতঃপর আমার পরিবারের কেউ আমাকে জাগিয়ে দিলে আমি তা ভুলে যাই; সুতরাং তোমরা তা (রমজানের) শেষ দশকে অনুসন্ধান করো।" (সহিহ মুসলিম: ১১৬৬)

·        আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, "আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বলতে শুনেছি—তোমাদের কেউ কেউ স্বপ্নে দেখেছে যে এটি প্রথম সাত দিনের মধ্যে, আবার কেউ কেউ দেখেছে যে এটি শেষ সাত দিনের মধ্যে; অতএব তোমরা একে শেষ দশকে অনুসন্ধান করো।" (সহিহ মুসলিম: ১১৬৫)

·        আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা লাইলাতুল কদর শেষ দশকে অনুসন্ধান করো—অথবা তিনি বলেছেন: শেষ নয় দিনে।" (সহিহ মুসলিম: ১১৬৫)


৩. শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান:

·        আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।" (সহিহ বুখারী: ২০১৭)

·        আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: "আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছিল, কিন্তু আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে; সুতরাং তোমরা একে শেষ দশকের প্রতি বেজোড় রাতে অনুসন্ধান করো।" (সহিহ বুখারী: ২০৩৬, সহিহ মুসলিম: ১১৬৭)


৪. শেষ দশকের নবম, সপ্তম ও পঞ্চম রাতে অনুসন্ধান:

·        ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সা.) বলেছেন: "তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো; যখন (মাস শেষ হতে) নয় দিন বাকি থাকে, সাত দিন বাকি থাকে অথবা পাঁচ দিন বাকি থাকে।" (সহিহ বুখারী: ২০২১)

·        ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "এটি (কদরের রাত) শেষ দশকে; যখন নয় দিন অতিবাহিত হয় অথবা সাত দিন বাকি থাকে।" (সহিহ বুখারী: ২০২২)

·        উবাদাহ বিন সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নবী (সা.) আমাদের লাইলাতুল কদরের সংবাদ দিতে বের হলেন, তখন দুজন মুসলিম ঝগড়া করছিল। তিনি বললেন: "আমি তোমাদের কদরের রাতের সংবাদ দিতে বের হয়েছিলাম, কিন্তু অমুক অমুক ঝগড়া করায় তা (আমার স্মৃতি থেকে) তুলে নেওয়া হয়েছে। সম্ভবত এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। এখন তোমরা একে (শেষ দশকের) নবম, সপ্তম ও পঞ্চম রাতে তালাশ করো।" (সহিহ বুখারী: ২০২৩, সহিহ মুসলিম: ১১৭৪)

·        (এর অর্থ: ২৯তম রাত ও তার আগের বেজোড় রাতগুলো, অথবা ২১তম রাত ও তার পরের বেজোড় রাতগুলো, অথবা ২২তম রাত ও তার পরের জোড় রাতগুলো।)


৫. শেষ সাত দিনে অনুসন্ধানের নির্দেশ:

·        আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা লাইলাতুল কদর শেষ দশকে তালাশ করো। যদি তোমাদের কেউ দুর্বলতা বোধ করে বা অক্ষম হয়, তবে সে যেন শেষ সাত দিনে পরাজিত (অলস) না হয়।" (সহিহ মুসলিম: ১১৬৫)

·        ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: কিছু মানুষ স্বপ্নে দেখেছিল যে কদরের রাত শেষ সাত দিনে, আবার কিছু মানুষ দেখেছিল শেষ দশ দিনে। নবী (সা.) বললেন: "তোমরা একে শেষ সাত দিনেই তালাশ করো।" (সহিহ বুখারী: ৬৯৯১, সহিহ মুসলিম: ১১৬৫)

·        ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সা.) বলেছেন: "তোমরা শেষ সাত দিনে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।" (সহিহ মুসলিম: ১১৬৫)

·        ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সা.)-এর কতিপয় সাহাবী স্বপ্নে দেখলেন যে কদরের রাত শেষ সাত দিনের মধ্যে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: "আমি দেখছি তোমাদের স্বপ্নগুলো শেষ সাত দিনের ব্যাপারে একমত হয়েছে; সুতরাং যে ব্যক্তি এটি তালাশ করতে চায়, সে যেন শেষ সাত দিনে তালাশ করে।" (সহিহ বুখারী: ২০১৫, সহিহ মুসলিম: ১১৬৫)


৬. এটি ২৩তম রাতে হওয়ার প্রমাণ:

·        আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছিল, অতঃপর ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি স্বপ্নে দেখলাম এর সকালে আমি পানি ও কাদায় সিজদা করছি।" বর্ণনাকারী বলেন, ২৩তম রাতে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে তাঁর কপাল ও নাকে পানি ও কাদার চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল। আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস বলতেন, এটি ছিল ২৩তম রাত। (সহিহ মুসলিম: ১১৬৮)


৭. এটি ২৭তম রাতে হওয়ার প্রমাণ:

·        উবাই বিন কাব (রা.) লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বলেন: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই জানি এটি কোন রাত। এটি সেই রাত যে রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের কিয়াম (ইবাদত) করার নির্দেশ দিয়েছিলেন; তা হলো ২৭তম রাত।" (সহিহ মুসলিম: ৭৬২)

·        আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে লাইলাতুল কদর নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন: "তোমাদের কার মনে আছে, যখন চাঁদ উদিত হয়েছিল এবং তা দেখতে একটি বড় থালার অর্ধেকের.. মতো ছিল?" (সহিহ মুসলিম: ১১৭০)

·        (বিখ্যাত ভাষ্যকার আবুল হুসাইন আল-ফারিসি বলেন: এটি ২৭তম রাতের বিবরণ; কারণ ২৭ তারিখে চাঁদ ঐভাবেই উদিত হয়।)


৮. লাইলাতুল কদরের আলামত (চিহ্ন):

·        উবাই বিন কাব (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, "এটি ২৭তম রাতের পরের সকাল। এর চিহ্ন হলো—সেদিন সকালে সূর্য উদিত হবে একদম সাদা হয়ে, যাতে কোনো তীব্র রশ্মি থাকবে না।" (সহিহ মুসলিম: ৭৬২)



Post a Comment

0 Comments