দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাজীদের জন্য আরাফার দিনের রোজা
- মূল
হুকুম:
আরাফার ময়দানে অবস্থানরত হাজীদের জন্য আরাফার দিনে রোজা
রাখা মাকরূহ (অপছন্দনীয়)।
(১)। আর এটিই জুমহুর (অধিকাংশ) বিজ্ঞ ফিকহবিদদের মত; যার মধ্যে রয়েছে মালেকী (২), শাফেয়ী (৩) এবং হাম্বলী (৪) মাযহাবের আলেমগণ।
এটিই জুমহুর বা অধিকাংশ ফকীহদের মতামত। এই মতের সপক্ষে
রয়েছেন:
§
মালেকী মাযহাব: (রেফারেন্স:
আল-হাত্তাব লিখিত মাওয়াহিবুল জালীল: ৩/৩১২; আন-নাফরাবী লিখিত আল-ফাওয়াকিহ আদ-দাওয়ানী: ১/৯১)।
§
শাফেয়ী মাযহাব: (রেফারেন্স: ইমাম
নববী লিখিত আল-মাজমূ: ৬/৩৮০; আশ-শিরবীনী লিখিত মুগনী আল-মুহতাজ: ১/৪৪৬)।
§ হাম্বলী মাযহাব: (রেফারেন্স: ইবনে মুফলিহ লিখিত আল-ফুরূ: ৫/৮৮; আল-বুহূতী লিখিত কাশশাফুল কিনা: ২/৩৪০)।
শরয়ী দলীলসমূহ
প্রথমত: পবিত্র সুন্নাহ থেকে প্রমাণ
১. উম্মুল ফজল বিনতুল হারিস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীস:
"তিনি (উম্মুল ফজল) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম-এর নিকট এক পেয়ালা দুধ পাঠালেন, যখন তিনি আরাফায় তাঁর উটের পিঠে দাঁড়িয়ে অবস্থান করছিলেন; অতঃপর তিনি তা পান করলেন।"
- রেফারেন্স: এটি ইমাম
বুখারী (হাদীস নং ১৬৫৮) এবং ইমাম মুসলিম (হাদীস নং ১১২৩) বর্ণনা করেছেন।
- দলীল
হিসেবে গ্রহণের যৌক্তিকতা (وجه
الدلالة): আরাফার ময়দানে
উপস্থিত লোকজনের সামনে নবী করীম (সা.)-এর এভাবে দুধ পান করা স্পষ্ট প্রমাণ
করে যে, হাজীদের জন্য
এই দিনে রোজা না রেখে ইফতার অবস্থায় (না খেয়ে না থাকা) থাকাটাই মুস্তাহাব বা
উত্তম। (রেফারেন্স: কাযী ইয়ায লিখিত ইকমালুল মুক্লিম বি-ফাওয়াইদি মুসলিম: ৪/৭৫)।
২. হযরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীস:
"তিনি (ইবনে উমর) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, অতঃপর আবু বকর, অতঃপর উমর এবং অতঃপর উসমান (রা.)-এর সাথে হজ করেছেন; কিন্তু তাদের কেউই এই দিনে (আরাফার ময়দানে) রোজা
রাখেননি।"
- রেফারেন্স: এটি ইমাম
তিরমিযী (হাদীস নং ৭৫১), ইমাম আহমদ (২/৭৩, হাদীস নং ৫٤২০), ইমাম নাসায়ী তাঁর আস-সুনানুল কুবরা গ্রন্থে (হাদীস নং ২৮৩৮) এবং ইবনে হিব্বান (৮/৩৬৯, হাদীস নং ৩৬০৪) বর্ণনা করেছেন।
- হাদীসের
বিশুদ্ধতা: ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে 'হাসান' বলেছেন। ইমাম ইবনে জরীহ তাঁর মুসনাদে উমর (১/৩৫৫) গ্রন্থে, আহমদ শাকের তাঁর তালীক আলাল মুসনাদ (৭/২১৪) গ্রন্থে এবং আল্লামা আলবানী তাঁর সহীহ সুনানে
তিরমিযী (৭৫১) গ্রন্থে
এর সনদকে সহীহ বা বিশুদ্ধ বলে প্রত্যয়ন করেছেন।
দ্বিতীয়ত: যুক্তিনির্ভর কারণ (ইল্লত)
- আরাফার দিনে
রোজা রাখা হাজীদের জন্য মাকরূহ হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো—রোজা রাখার কারণে
হাজী সাহেবরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন। ফলে হজের মূল ইবাদত অর্থাৎ
আরাফার ময়দানে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকা এবং মনোযোগ দিয়ে দুআ ও কান্নাকাটি করার
ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটতে পারে। (রেফারেন্স:
আল-বুহূতী লিখিত কাশশাফুল কিনা: ২/৩৪০)।



0 Comments