Subscribe Us

হে পথিক ভবিষ্যৎ বলে কিছু নাই ,আসোল ভবিষ্যৎ হলো পরোকাল।।

সালাফী মানহাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য নবম অধ্যায়।

 

সালাফী মানহাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য:9  কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়িত্ব ও প্রসার

সালাফী মানহাজ কোনো নতুন বা মানব রচিত মতবাদ নয়; এটি ইসলামের সবচেয়ে প্রাচীন, বিশুদ্ধ ও একমাত্র গ্রহণযোগ্য কর্মপদ্ধতি (মানহাজ)।  এটি হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর শ্রেষ্ঠ সাহাবাবর্গের অনুসৃত বিশুদ্ধ ইসলামের অবিকল রূপ। এই মানহাজের একটি অনন্য এবং অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এটি "কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী মানহাজ"যুগের পরিবর্তন, বিরোধিতাকারীদের আক্রমণ কিংবা অপপ্রচার কোনো কিছুই এই মানহাজকে পৃথিবী থেকে মিটিয়ে দিতে পারবে না।

১. হকের ওপর অটল থাকা ও চিরস্থায়িত্ব

সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোথাও না কোথাও এই মানহাজ সর্বদা টিকে ছিল এবং কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকবে। এমন কোনো সময় আসবে না যখন পৃথিবীর বুকে এই আদর্শের কোনো অনুসারী থাকবে না। প্রতিকূল পরিবেশেও এই মানহাজের অনুসারীগণ হকের ওপর দৃঢ় থাকবেন।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর ভবিষ্যৎবাণী ও সুসংবাদ:

তাদের এই চিরস্থায়িত্ব ও হকের ওপর অবিচল থাকার ব্যাপারে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  সুসংবাদ দিয়ে গেছেন:

لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِكَ

অর্থ:আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপরে অটল (বিজয়ী) থাকবে। যারা তাদের সহযোগিতা ত্যাগ করবে বা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) আসা পর্যন্ত তারা এই হকের ওপরই অটল থাকবে।”

[সূত্র বা রেফারেন্স: [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৫০৫৯ / ইসলামিক ফাউন্ডেশন হাদীস নং- ৪৯৫২; আন্তর্জাতিক নাম্বার: ১৯২০]

 

২. বিভিন্ন নামে বিশ্বব্যাপী আত্মপ্রকাশ ও প্রসার:

পৃথিবীর সব প্রান্তে একই সময়ে সবাই হয়তো এই মানহাজ অনুসরণ করবে না, তবে বিশ্বের কোনো না কোনো অঞ্চলে এর অস্তিত্ব সর্বদা সুনিশ্চিত। বর্তমানেও ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে ভৌগোলিক ও সামাজিক কারণে তারা বিভিন্ন নামে পরিচিত, তবে মূল আদর্শ এক:

·        মধ্যপ্রাচ্য ও আরব বিশ্ব: সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এটি মূল ধারা হিসেবে অনুসৃত।

·        পাশ্চাত্য ও অন্যান্য মহাদেশ: ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় যারা নতুন ইসলাম গ্রহণ করছেন, তাদের সিংহভাগই সালাফে সালেহীনের এই বিশুদ্ধ মানহাজ অনুসরণের মাধ্যমে দ্বীন বোঝার চেষ্টা করছেন।

·        এশিয়া ও আফ্রিকা: এই অঞ্চলগুলোতে তারা মূলত আহলুল হাদীস, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত, আনসারুস সুন্নাহ, মুহাম্মাদী ইত্যাদি নামে পরিচিত।

·        সার্বজনীন পরিচয়: আবার এই মানহাজের অনেক অনুসারী নির্দিষ্ট কোনো সাংগঠনিক বা মাযহাবী (হানাফী, শাফিঈ, মালিকী, হাম্বালী) পরিচয়ে আবদ্ধ না থেকে নিজেদের শুধু "মুসলিম" হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

৩. বাতিল ও বিদ'আতের ভিড়ে টিকে থাকার অলৌকিকত্ব

দেড় হাজার বছরের ইতিহাসে বহু নতুন নতুন দল, মত ও ভ্রান্ত মানহাজের জন্ম হয়েছে। তারা সালাফী মানহাজের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে। কালের বিবর্তনে সেই বাতিল মতবাদগুলোর অনেকেই ইতিহাসের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে, আর যেগুলো টিকে আছে সেগুলোর ভ্রষ্টতা বিশ্ববাসীর কাছে আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। কিন্তু আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে সালাফী মানহাজ তার আপন বিশুদ্ধতা নিয়ে আজও টিকে আছে—যা এই মানহাজের সত্যতার এক জীবন্ত প্রমাণ।

৪. অপপ্রচার ও প্রতিকূলতার মুখে অপরাজেয়

যুগে যুগে বিদ'আতী ও বাতিলপন্থিরা এই মানহাজকে সাধারণ মানুষের কাছে বিতর্কিত করার জন্য নানামুখী মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচার চালিয়েছে। যেমন:

·        তারা অপপ্রচার করে যে, সালাফীরা নাকি সম্মানিত ইমামগণকে গালি দেয় বা অবজ্ঞা করে।

·        দাবি করে যে, এরা কুরআন মানে না, শুধু হাদীস মানে (অথচ মানহাজের মূল ভিত্তিই হলো কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর একত্র অনুসরণ)।

·        তাদেরকে 'ওয়াহাবী', 'নবীর দুশমন', 'জঙ্গি' কিংবা 'কাফির' বলে আখ্যায়িত করার অপচেষ্টা করা হয়।

বাস্তবতা: আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং তাঁর দেয়া বিশেষ সুরক্ষার কারণে বিরুদ্ধবাদীদের এসব চরম অপপ্রচার ও চোখ রাঙানি সালাফী মানহাজের বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না, ইনশা-আল্লাহ।

রাবী ও মুহাদ্দিসগণের বিবরণ (উৎস অনুযায়ী)

·        মূল রাবী (বর্ণনাকারী): হযরত সাওবান (রা.), যিনি রাসূলুল্লাহ এর মুক্তদাস ছিলেন।

·        হাদীসের মান: সহীহ (বিশুদ্ধ)।

·        আধুনিক মুহাদ্দিসের রায়: ইমাম আলবানী (র.) এটিকে 'সহীহ' বলেছেন (সহীহুল জামে', হাদীস নং: ৭২৮9)

২. মুসনাদে আহমাদ (হাদীস নং: ২২৪০৩); সুনানে তিরমিযী (হাদীস নং: ২২২৯)

১. সহীহ বুখারী:

·        হাদীস নম্বর: ৩৬৪১ (অধ্যায়: কিতাবুল মানাকিব / পরিচ্ছেদ: নবুওয়তের আলামতসমূহ)

·        হাদীস নম্বর: ৭৩১১ (অধ্যায়: কিতাবুল ইতিসাম বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ)

২. সুনানে ইবনে মাজাহ:

·        হাদীস নম্বর: ১০ (অধ্যায়: মুকাদ্দিমা বা ভূমিকা / পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ এর সুন্নাহর অনুসরণ)

৩. সুনানে তিরমিযী:

·        হাদীস নম্বর: ২২২৯ (অধ্যায়: কিতাবুল ফিতান)

·        ইমাম তিরমিযী এই হাদীসটিকে 'হাসান সহীহ' বলেছেন।

হাদীসের মান ও বর্ণনাকারী (খুলাসাতু হুকমিল মুহাদ্দিস)

·        হাদীসের মান: সহীহ (বিশুদ্ধ)।

·        মূল রাবী (বর্ণনাকারী): সাওবান (রা.), যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুক্তদাস ছিলেন।

·        মুহাদ্দিস (হাদীস বিশারদ): আল্লামা আলবানী (রহ.)।

·        মূল উৎস: সহীহুল জামে', পৃষ্ঠা/হাদীস নম্বর: ৭২৮৯।

·        উৎস ও গ্রন্থসূচী (তাখরীজ): হাদীসটি ইমাম মুসলিম তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে (হাদীস নং ১৯۲۰) এবং ইমাম আহমাদ তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে (হাদীস নং ২২৪০৩) বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস মূলত তাদের দুজনের। এছাড়া ইমাম তিরমিযীও তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে (হাদীস নং ২২২৯) হুবহু এই শব্দে এবং শুরুতে কিছুটা অতিরিক্ত কথা সহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

Post a Comment

0 Comments