কুরবানীর পশুর কসাইয়ের মজুরি সংক্রান্ত ফিকহী বিধান
চতুর্থ
পরিচ্ছেদ: কসাইয়ের মজুরি/কসাইয়ের
পারিশ্রমিক জুমহুর (অধিকাংশ) বিশেষজ্ঞ আলেমগণের
মতানুসারে:
১. সাধারণ বিধান
ও জুমহুর উলামাদের অভিমত
আরবী: المطلب الرابع:
أجرة الجزَّار: قال
جمهور أهل
العلم لا
يجوز أن يُعطى
الجزَّار شيئاً
من الأضحية مقابل
ذبحها وسلخها
(১)
অনুবাদ: চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কসাইয়ের পারিশ্রমিক। অধিকাংশ আলেম (জুমহুর) এই মতে একমত যে, কুরবানীর পশুর জবেহ করা এবং তার চামড়া ছাড়ানোর মজুরি বা পারিশ্রমিক হিসেবে
পশুর কোনো অংশ (গোশত, চামড়া বা অন্য কিছু) কসাইকে দেওয়া জায়েজ
নয়।
রেফারেন্স (১): আল-মুগনী ৯/৪৫০; ফাতহুল বারী ৪/৪০৪; শরহুন নববী আলা মুসলিম ৩/৪৩৫; আল-মাজমু' ৮/৪২০; বাদায়েউস সানায়ে' ৪/২২৫।
২. প্রধান দলিল (হাদিস)
আরবী: واحتجوا على
ذلك بما جاء
في الحديث عن
علي - رضي الله
عنه - قال: (أمرني
رسول الله - صلى
الله عليه وسلم
- أن أقوم على
بدنه، وأن
أتصدق بلحمها
وجلودها وأجلتها،
وأن لا أعطي
الجزَّار منها.
وقال: نحن نعطيه
من عندنا) رواه
البخاري ومسلم
(২)
অনুবাদ: উলামায়ে কেরাম এই বিধানের পক্ষে হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা
দলিল পেশ করেছেন। তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে তাঁর কুরবানীর
উটগুলোর তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং এগুলোর গোশত, চামড়া ও ঝাল (পিঠের আবরণ) সদকা করে দিতে বলেছিলেন।
আর নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন আমি কসাইকে
কুরবানীর পশু থেকে কোনো কিছু (মজুরি হিসেবে) না দেই। তিনি (সা.) বলেছিলেন: 'আমরা তাকে আমাদের পক্ষ থেকে (আলাদাভাবে) মজুরি দেব'।" (সহীহ বুখারী ও
মুসলিম)।
রেফারেন্স (২): সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ) ৪/৩০৩;
সহীহ মুসলিম
(শরহুন নববীসহ) ৩/৪৩৫।
৩. মুসলিম শরীফের অতিরিক্ত তাকিদ
আরবী: وفي رواية
أخرى عند مسلم:
(ولا يعطي في
جزارتها منها
شيئاً) (৩)
অনুবাদ: সহীহ মুসলিমের অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: "কসাইয়ের কাজের বিনিময়ে
কুরবানীর পশুর কোনো কিছুই তাকে দেওয়া যাবে না।"
রেফারেন্স (৩): সহীহ মুসলিম (শরহুন নববীসহ) ৩/৪৩৬।
৪. নিষেধাজ্ঞার কারণ ও যুক্তি
আরবী: فهذا الحديث
يدل على عدم
جواز إعطاء الجزَّار
منها، لأن
عطيته عوض
عن عمله، فيكون
في معنى بيع
جزء منها، وذلك
لا يجوز.
অনুবাদ: এই হাদিসটি কসাইকে কুরবানীর অংশ দেওয়ার অবৈধতা প্রমাণ করে। কারণ তাকে যা দেওয়া
হয় তা তার কাজের বিনিময় (পারিশ্রমিক) হিসেবে গণ্য হয়। আর পারিশ্রমিক হিসেবে পশুর
অংশ প্রদান করা মানে হলো পশুর অংশ বিক্রি করা বা বিনিময় করা, যা কুরবানীর ক্ষেত্রে শরীয়তে অনুমোদিত নয়।
৫. সদকা বা উপহার হিসেবে প্রদানের অবকাশ
আরবী: وأما إن
كان الجزَّار فقيراً
أو صديقاً، فأعطاه
منها لفقره، أو
على سبيل الهدية
فلا بأس، لأنه
مستحق للأخذ
فهو كغيره بل
هو أولى؛ لأنه
باشرها وتاقت
نفسه إليها (৪)
অনুবাদ: তবে কসাই যদি দরিদ্র হয় কিংবা বন্ধু-বান্ধবের অন্তর্ভুক্ত হয়, এমতাবস্থায় তাকে তার দারিদ্র্যের কারণে (সদকা হিসেবে) অথবা বন্ধুত্বের খাতিরে
উপহার (হাদিয়া) হিসেবে কিছু দিলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ সে গ্রহীতা হওয়ার
যোগ্য এবং অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতোই একজন। বরং সে-ই এক্ষেত্রে বেশি অগ্রাধিকার
পাওয়ার যোগ্য; যেহেতু সে নিজে কাজটিতে সরাসরি নিয়োজিত
ছিল এবং তার মন স্বাভাবিকভাবেই এই গোশতের প্রতি লালায়িত থাকে।
রেফারেন্স (৪): আল-মুগনী ৯/৪৫০; এবং শরহুস সুন্নাহ ৭/১৮৮ দ্রষ্টব্য।
৬. হাফিজ ইবনে হাজার (রহ.)-এর
সতর্কবার্তা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
আরবী: وقال الحافظ
ابن حجر: [ولكنَّ
إطلاق الشارع
ذلك قد يفهم
منه منع الصدفة
لئلا تقع مسامحة
في الأجرة لأجل
ما يأخذه فيرجع
إلى المعاوضة] (৫) وما
قاله الجمهور هو
الأولى.
অনুবাদ: হাফিজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেন: "তবে শরীয়ত দাতা (রাসূলুল্লাহ সা.) কর্তৃক
সাধারণভাবে যে নিষেধ করা হয়েছে, তা থেকে
(কসাইকে) সদকা করাও নিষেধ বলে বোঝা যেতে পারে। যাতে করে কসাই যা (উপহার বা সদকা
হিসেবে) গ্রহণ করছে, তার কারণে মূল পারিশ্রমিকে কোনো প্রকার
শিথিলতা বা কমবেশি না করা হয়।
যদি গোশত দেওয়ার কারণে মজুরি কম দেওয়া হয়, তবে তা পুনরায় 'বিনিময় মূল্য বা মুয়াওয়াজাহ' এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।"
পরিশেষে,
জুমহুর (অধিকাংশ
আলিম) যা বলেছেন তা-ই অধিক উত্তম ও নিরাপদ।
রেফারেন্স (৫): ফাতহুল বারী ৪/৩০৪।
রেফারেন্সসমূহ:
(১) আল-মুগনি ৯/৪৫০; ফাতহুল বারী ৪/৪০৪; সহীহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যা
৩/৪৩৫; আল-মাজমু'
৮/৪২০; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫।
(২) ফাতহুল বারীসহ সহীহ বুখারী ৪/৩০৩; ইমাম নববীর ব্যাখ্যাসহ সহীহ মুসলিম ৩/৪৩৫।
(৩) ইমাম নববীর ব্যাখ্যাসহ সহীহ মুসলিম
৩/৪৩৬।
(৪) আল-মুগনি ৯/৪৫০; দ্রষ্টব্য: শারহুস সুন্নাহ ৭/১৮৮।
(৫) ফাতহুল বারী ৪/৩০৪।


0 Comments