মুসলিম হয়েও জান্নাতে যাবেন যারা:
জান্নাত মানুষের শেষ ও চিরস্থায়ী বাসস্থান। সবাই জান্নাতে যেতে চায়, কেউ চায় না-সে জাহান্নামি হোক। আল্লাহ তাআলাও চান, বান্দা চীরস্থায়ী জান্নাতি হওয়ার জন্য নেক আমল করুক। কিন্তু, কিছু গুনাহ এমন পর্যায়ের, যা জান্নাতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। হাদিস অনুযায়ী, মুসলমান হয়েও ওসব গুনাহের কারণে অনেকে জান্নাতে যেতে পারবেন না। যেমন—
❏১. প্রতিবেশীকে কষ্ট দানকারী:
আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশীরা নিরাপদ নয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’
[(সহিহ মুসলিম: ৭৬-,৭৮,(৭৩/৪৬) ,৬৬,৬৮,৬৯,৪০), (আহমাদ ১৩০৪৮, ত্বাবারানী ১০৪০১)]
Ø আবূ শুরায়হ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার বলেছিলেনঃ আল্লাহ্র শপথ! সে ব্যক্তি মু'মিন নয়। আল্লাহ্র শপথ! সে ব্যক্তি মু'মিন নয়। আল্লাহ্র শপথ! সে ব্যক্তি মু'মিন নয়। জিজ্ঞেস করা হলোঃ হে আল্লাহ্র রসূল! কে সে লোক? তিনি বললেনঃ যে লোকের প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে না।
[ভিন্ন সূত্রে অনুরূপ একটি হাদীস আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতেও বর্ণিত হয়েছে। [মুসলিম ১/১৮, হাঃ ৪৬, আহমাদ ৮৮৬৪] , সহিহ বুখারী : ৬০১৬; আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭৮)]
❏২) অহংকারী:
‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহঙ্কার রয়েছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’
(সহিহ মুসলিম: ১৬৯)
আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমান ঈমান থাকবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। আর যে ব্যাক্তির অন্তরে এক সরিষার দানা পরিমাণ অহমিকা থাকবে সেও জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
আব্দুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যার অন্তরে অণু পরিমাণও অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”
(এ কথা শুনে) এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, ‘মানুষ তো পছন্দ করে যে, তার কাপড়-চোপড় সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক, (তাহলে সেটাও কি অহংকারের মধ্যে গণ্য হবে?)’ তিনি বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য ভালোবাসেন। অহংকার হচ্ছে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা ও মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।” [সহীহ মুসলিম, ১৬৮, ৯১]
❏ব্যাখ্যাঃ
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এ হাদীসটি হুমকির হাদীসসমূহের একটি হাদীস। সুতরাং, শর‘ঈ প্রমাণাদি দ্বারা তার ব্যাখ্যা করা জরুরী। যেমন, যার অন্তরে অহংকার রয়েছে, তার অহংকার হয়তো সত্যকে প্রত্যাখ্যান ও তাকে অপছন্দ করে হবে, এমতাবস্থায় সে অবশ্যই কাফির চির জাহান্নামী, কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কারণ, আল্লাহর বাণী রয়েছে, “তা এ কারণে যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তারা তা অপছন্দ করে, ফলে আল্লাহ তাদের আমলসমূহ ধ্বংস করে দেন।”
(সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ৯)।
আর যদি অহংকার মাখলুকের ওপর হয় এবং নিজেকে অন্য মাখলুকের চেয়ে বড় মনে করার কারণে হয়, কিন্তু সে অহংকার করে আল্লাহর ইবাদত থেকে বিরত থাকে নি, তার সম্পর্কে এ হুমকি এসেছে যে, সে প্রথম দলের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। রাসূল যখন এ হাদীসটি বললেন, তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, ‘মানুষ তো পছন্দ করে যে, তার কাপড় সুন্দর হোক, তার জুতো সুন্দর হোক, তাহলে এটাও কি অহংকার গণ্য হবে?’ তিনি বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য ভালোবাসেন। তিনি স্বীয় সত্ত্বায় সুন্দর, স্বীয় কর্মে সুন্দর এবং স্বীয় সকল গুণে সুন্দর। মহান আল্লাহ থেকে যা কিছু প্রকাশ পায় তা সবই সুন্দর। অসুন্দর নয়।
আর তার বাণী: “সুন্দরকে ভালোবাসেন” অর্থাৎ, আল্লাহ সৌন্দর্য গ্রহণ করাকে পছন্দ করেন এ অর্থে যে, একজন মানুষ কাপড়ে, জুতোয়, শরীরে ও তার যাবতীয় বিষয়ে সৌন্দর্য অবলম্বন করুক আল্লাহ তা পছন্দ করেন। কারণ, সৌন্দর্য গ্রহণ অন্তরসমূহকে মানুষের দিকে আকৃষ্ট করে এবং তাকে মানুষের নিকট প্রিয় করে দেয়, যা নোংরামির বিপরীত, যে নোংরামিতে মানুষের চুল অথবা কাপড় অথবা পোশাক অসুন্দর দেখায়।
[আত-তিরমিযী (১৯৯৯), আবু দাউদ (৪০৯১) এবং ইবনে মাজাহ (৫৯)]
❏৩) চোগলখোর:
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, চোগলখোর কক্ষনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
[বুখারী ৬০৫৬; মুসলিম ১০৫; আহমাদ ২৩৩০৭]
আল্লাহর বাণীঃ ’’যে বেশি বেশি কসম খায় আর যে বার বার মিথ্যা কসম খাওয়ার কারণে মানুষের কাছে) লাঞ্ছিত- যে পশ্চাতে নিন্দা করে একের কথা অপরের কাছে লাগিয়ে ফিরে।’’
(সূরাহ আল-কলাম ৬৮ : ১০-১১)
’’দুর্ভোগ এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে (সামনাসামনি) মানুষের নিন্দা করে আর (অসাক্ষাতে) দুর্নাম করে।’’
(সূরাহ আল-হুমাযাহ ১০৪: ১)
ব্যাখ্যা:
ü নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন, যে মানুষের মাঝে ফিতনা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এক জনের কথা অন্যের কাছে পৌঁছে চোগলখোরী করে, সে জান্নাতে প্রবেশ না করে শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যায়।
হাদীসের শিক্ষা:
1. চোগলখোরী করা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
2. চোগলখোরী করা নিষেধ। কেননা এর কারণে ব্যক্তি ও সমাজের মাঝে ফিতনা ফ্যাসাদ ও অনিষ্ট সৃষ্টি হয়।
কেউ কারোর নিকট অন্যের ব্যাপারে চুগলি করলে তার করণীয় হবে ছয়টি কাজ। যা নিম্নরূপ:
1. তার কথা একেবারেই বিশ্বাস করবে না। কারণ, সে ফাসিক। আর ফাসিকের সংবাদ শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
2. তাকে এ মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে এবং তাকে সদুপদেশ দিবে।
3. তাকে আল্লাহ্ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য ঘৃণা করবে। কারণ, সে আল্লাহ্ তা‘আলার নিকটও সত্যিই ঘৃণিত।
4. যার সম্পর্কে সে চুগলি করেছে তার সম্পর্কে আপনি খারাপ ভাববেন না।
5. এরই কথার কারণে আপনি ওর পেছনে পড়বেন না।
6. উক্ত চুগলি সে অন্যের নিকট বর্ণনা করতে যাবে না।
❏৪) আত্মহত্যাকারী:
আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে যাবে। সেখানে সর্বদা সে ওইভাবে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, তার হাতে বিষ থাকবে। জাহান্নামে সর্বদা সে ওইভাবে নিজেকে বিষ খাইয়ে মারতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করেছে, তার কাছে জাহান্নামে সে ধারালো অস্ত্র থাকবে, যা দিয়ে সে সর্বদায় নিজের পেটকে ফুঁড়তে থাকবে।’
[বুখারি- ৫৭৭৮, মুসলিম: ২০০,১৭৫/১০৯,২০৮,২০১; নাসায়ী ১৯৬৫, সহীহ আত্ তারগীব ২৪৫৪।]
সাবিত ইবনে আদ-দাহহাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন কিছু দিয়ে আত্মহত্যা করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সেই জিনিস দিয়েই শাস্তি দেওয়া হবে।”
(বর্ণনা করেছেন আল-বুখারী, ৫৭০০, ১৩৬৫ এবং মুসলিম, ১১০)
ব্যাখ্যা: এ হাদীসের আলোকে আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির শেষ পরিণতি সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করবে সে জাহান্নামী হবে। এখন প্রশ্ন হলো যে, আত্মহত্যাকারী কি চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় যে, যদি আত্মহত্যাকারী ব্যক্তি আত্মহত্যার সময় ঈমানের সাথে থাকে তবে সে এ পাপের শাস্তি ভোগ করার পর জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। আর যদি সে ঈমান ত্যাগ করে মারা যায় তবে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে… বিস্তারিত দেখুন (মিশকাত- ৩৪৫৩)
❏৫) আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী:
‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’
(বুখারী ৫৯৮৪; মুসলিম ২৫৫৬; তিরমিযী ১৯০৯; আবূ দাউদ ১৬৯৬ আব্দুর্ রায্যাক, হাদীস ২০২৩৮; বায়হাক্বী ১২৯৯৭)
‘‘যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার রিযিক ও বয়স বেড়ে যাক সে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে’’।
(বুখারী ২০৬৭, ৫৯৮৫, ৫৯৮৬; মুসলিম ২৫৫৭; আবূ দাউদ ১৬৯৩)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
‘‘অন্ততপক্ষে সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে হলেও তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করো’।
(বায্যার, হাদীস ১৮৭৭)
❏৬) হারাম ভক্ষণকারী:
আল্লাহর রাসুল (স.) ইরাশাদ করেছেন, ‘হারাম অর্থের মাধ্যমে (যে শরীরে) মাংস বৃদ্ধি পেয়েছে, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না’
(বায়হাকি: ৫৫২০)।
‘জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দেহের মাংস/মাংস হারাম উপার্জনে গঠিত, তা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। হারাম ধন-সম্পদে গঠিত ও লালিত পালিত দেহের জন্য জাহান্নামই উপযোগী।
(মিশকাত- ২৭৭২-[১৪] হাসান : আহমাদ ১৪৪১, শু‘আবুল ঈমান ৮৯৭২, দারিমী ২৭৭৯।]
ব্যাখ্যাঃ
‘হারাম মাল ভক্ষণ করে শরীরে যে গোশত গজিয়েছে তা জান্নাতে যাবে না’’।
ü অর্থাৎ হারাম ভক্ষণকারী ব্যক্তি প্রথমবারেই জান্নাতে প্রবেশ করবে না। বরং হারাম ভক্ষণ করার শাস্তি ভোগ করার পর জান্নাতে যেতে পারবে। তবে যদি তাওবাহ্ করে অথবা তাওবাহ্ ব্যতীতই গুনাহ ক্ষমা করা হয় অথবা কারো সুপারিশ মঞ্জুর করা, তবে তা ভিন্ন কথা। আর যদি হারামকে হারাম মনে না করে তা হালাল মনে করে যেমন সুদকে হারাম মনে না করে তা হালাল মনে করে, তাহলে সে কক্ষনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কেননা তা কুফরী। আর কাফির চির জাহান্নামী। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
❏৭) খোটাদানকারী ৮) অবাধ্য সন্তান ৯) মদ্যপপানকারীঃ
‘সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না যে উপকার করে খোটা দেয়।’
1. [(নাসায়ি: ২৫৬৬ , ৫৬৮৮, সহিহ আলবানি)
2. তাহক্বীকঃ সহীহ। ইরওয়া ৯০০।]
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘উপকার করে খোঁটা দানকারী, মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান, সর্বদা মদপানকারী—এই তিন শ্রেণির মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবেন না। ’
1. [(নাসায়ি: ২৫৬৪ , ৫৫৭৭)
2. তাহক্বীকঃ হাসান। সহীহাহ ৬৭৩ ও ৬৭৪]
❏১০) অন্যকে নিজের পিতা পরিচয়দাতা:
‘যে ব্যক্তি জেনে শুনে অন্য পিতার সঙ্গে নিজেকে সম্পর্কিত করে—অর্থাৎ নিজেকে অন্য পিতার সন্তান বলে পরিচয় দেয়, তার জন্য জান্নাত হারাম।’’
(বুখারি: ৬২৬৯)
সা’দ ইবন আবী অক্কাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু’ হিসেবে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করে, অথচ সে জানে যে, সে তার পিতা নয়, তার জন্য জান্নাত হারাম।”
(বুখারী ৪৩২৬, ৪৩২৭, ৬৭৬৬-৬৭ মুসলিম ৬৩)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
‘‘তোমরা নিজ পিতার প্রতি অনীহা প্রকাশ করো না। কারণ, যে ব্যক্তি নিজ পিতার প্রতি অনীহা প্রকাশ করলো সে কুফরি করলো’’
(বুখারী ৬৭৬৮; মুসলিম ৬২, আহমাদ ১৮০১৫)
ব্যাখ্যাঃ
ü জাহিলিয়্যাতের যুগের লোকেরা করত -এমন একটি কর্ম থেকে সতর্ক করার জন্য হাদীসটি বর্ণিত। আর তা হলো যে পিতা নয় তাকে পিতা বলে দাবী করা। একজন মানুষের জন্য ওয়াজিব হলো, সে যেন তার পিতা, দাদা ও বাপের দাদা ইত্যাদির দিকে বংশের সম্পর্ক বর্ণনা করে। তার পিতা নয় এমন ব্যক্তির দিকে জেনে শোনে বংশের দাবি করা কোনো ক্রমেই হালাল হবে না। যেমন, তার পিতা অমুক গোত্রের লোক যে গোত্রে অপর গোত্র অপেক্ষা কিছু দুর্বলতা আছে। তখন সে নিজের গোত্র বাদ দিয়ে দ্বিতীয় গোত্রের সন্তান দাবি করল যা উচ্চ বংশ, যাতে নিজের গোত্রের দূর্নাম তার থেকে দূর হয়। হাদীসে এ ধরনের কর্ম যে করে তার জন্য জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
❏১১) দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে যারা ইল্ম অর্জনকারী:
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ইলমের দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা যায়, কোনো লোক যদি দুনিয়াবী স্বার্থ লাভের জন্য তা শিক্ষা করে, তবে সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুগন্ধি পাবে না।
(সূত্র ইবনে মাজাহ-৩/২৫২-৫৪ আবু দাউদ: ৩৬৬৪, আহমাদ ৮২৫২)
কা’ব বিন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, যে ব্যক্তি উলামাদের সাথে তর্ক করার জন্য, অথবা মূর্খ লোকেদের সাথে বচসা করার জন্য এবং জন সাধারণের সমর্থন (বা অর্থ) কুড়াবার জন্য ইলম অন্বেষণ করে, সে ব্যক্তিকে আল্লাহ জাহান্নাম প্রবেশ করাবেন।
(তিরমিযী ২৬৫৪, ইবনে আবিদ্দুনয়্যা, হাকেম ২৯৩, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ১৭৭২, সহীহ তারগীব ১০০)
জাবের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা উলামাগণের সাথে তর্ক-বাহাস করার উদ্দেশ্যে ইলম শিক্ষা করো না, ইলম দ্বারা মূর্খ লোকেদের সাথে বাগবিতন্ডা করো না এবং তদ্দ্বারা আসন, পদ বা নেতৃত্ব লাভের আশা করো না। কারণ, যে ব্যক্তি তা করে তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম।
(ইবনে মাজাহ ২৫৪, ইবনে হিব্বান ৭৭, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ১৭৭১, সহীহ তারগীব ১০১)
❏১২) তাকদির (ভাগ্য) অস্বীকারকারী:
আবুদ্দারদা’(রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছে, ‘মাতা-পিতার অবাধ্য, মদ্যপানে অভ্যস্ত এবং তাকদিরে অবিশ্বাসী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না’।
(আহমদ: ৬/৪৪১; সহিহাহ: ৬৭৫)
❏১৩) জ্যোতিষ ১৪) জাদুকর:
‘৫ শ্রেণির মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (তারা হলো) মদ্যপায়ী, যাদুর বৈধতায় বিশ্বাসী আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, চোগলখোর এবং গণক।
(মুসনাদে আহমদ, ২৩৩০৭ হাসান, আলবানী))
❏১৫) ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি:
‘রাসুলুল্লাহ্ (স.) এর কাছে একজন আনসারী ব্যক্তির মৃতদেহ আনা হল জানাযার সালাত আদায় করার জন্য। রাসুলুল্লাহ্ (স.) বললেন, তোমরাই স্বীয় সাথীর জানাযার সালাত আদায় কর, যেহেতু সে ঋণগ্রস্ত। আবু কাতাদা (রহ) বললেন, সে ঋণ আমার উপর (সে ঋণ আদায়ের দায়িত্ব আমার।) নবী (স.) তা আদায় করার অঙ্গীকার চাইলেন। আদায় করার অঙ্গীকার করা হলে তিনি জানাযা আদায় করলেন’ (নাসায়ি: ১৯৬০)। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘ঋণ ছাড়া শহিদের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।’
(মুসলিম: ১৮৮৬)
❏১৬) পুরুষ বেশধারী নারী ১৭) দাইয়ুস:
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে যাবে না— মা-বাবার অবাধ্য, দাইয়ুস (অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার স্ত্রী-বোন প্রমুখ অধীনস্থ নারীকে বেপর্দা চলাফেরায় বাধা দেয় না) এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী মহিলা।’
(মুসতাদরাকে হাকেম: ২২৬)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘তিন শ্রেণীর মানুষ কখনো জান্নাতে যাবে না। (১) যে ব্যক্তি তার পরিবারে বেহায়াপনার সুযোগ দেয়। (২) পুরুষের বেশধারী নারী। (৩) নিয়মিত নেশাদার দ্রব্য পানকারী’ (তাবরাণী, তারগীব হা/৩৩৮১)।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘তিন শ্রেণীর লোকের প্রতি আল্লাহ তা’আলা জান্নাত হারাম করেছেন। (১) সর্বদা মদপানকারী, (২) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান ও (৩) পরিবারে বেপর্দার সুযোগ দানকারী (দায়ূছ)’ (নাসাঈ, মিশকাত হা/৩৬৫৫)।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে যাবে না। (১) সর্বদা নেশাদার দ্রব্য পানকারী। (২) আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্নকারী। (৩) যাদুকে বিশ্বাসকারী’ (আহমাদ, মিশকাত, হাদীছ ছহীহ হা/৩৬৫৬)
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সব পুরুষকে লা’নত করেছেন যারা নারীর বেশ ধরে এবং ঐসব নারীকে যারা পুরুষের বেশ ধরে।
[সহীহ বুখারী ৫৮৮৫-৮৭; ৬৮৩৪ ; (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৩), আল-তাবারানী আল-আওসাতে (2/117 নং 1435) , আল-কাবীর (117/135 নং) এবং আল-কাবীর (117/112 ) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। নং 11823); ইবনে মাজাহ (1904), তিরমিযী ২৭৮৪, ২৭৮৫,আবূ দাউদ ৪০৯৭, ৪৯৩০, আহমাদ ১৯৮৩, ২০০৮, ২১২৪, ৩৪৪৮, দারেমী ২৬৪৯, রওয ৪৪৭, আল-আদাব ৪৪৭, হিজাবুল মারআহ ৬৭, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।, আল-নাসাঈ আল-কুবরা (৯২০৭) এবং (৯২১০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ।]
‘ওই ব্যক্তিকে দাইয়ুস বলা হয়, যে তার পরিবারের অশ্লীলতা ও কুকর্মকে মেনে নেয়।’ (মুসনাদ আহমদ, নাসায়ি)
❏১৮) আল্লাহর রাসুলের নাফরমান:
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার সকল উম্মাতই জান্নাতে প্রবেশ করবে, কিন্তু যে অস্বীকার করবে। তারা বললেন, কে অস্বীকার করবে। তিনি বললেনঃ যারা আমার অনুসরণ করবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হবে সে-ই অস্বীকার করবে।
(বুখারি: ৭২৮০, ৬৭৮৩)
**যারা আল্লাহর রাসূলের সহীহ হাদীসকে জেনে বুঝে স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে পরিত্যাগ ক’রে কারো স্বকপোল কল্পিত রায় কিয়াসের অনুসরণ করে তারা আল্লাহর রাসূলের অবাধ্য।
ব্যাখ্যাঃ
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর সকল উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে যে অস্বীকার করল সে ব্যতীত।
সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল ! অস্বীকারকারী কে?
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিলেন: যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য স্বীকার করবে এং অনুসরণ করবে সে জান্নাতে যাবে। আর যে তাঁর নাফরমানী করবে এবং শরী‘য়তের আনুগত্য করবে না,সেই তার মন্দ আমলের কারণে জান্নাতে প্রবেশে বাধাগ্রস্থ হবে।
হাদীসের শিক্ষাঃ
1. রাসূলের আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য। আর তাঁর নাফরমানীই হলো আল্লাহর নাফরমানী।
2. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য জান্নাতে প্রবেশের আবশ্যক হয়ে যায়। অন্যদিকে তাঁর নাফরমানী জাহান্নামে প্রবেশর আবশ্যক হয়ে যায়।
3. এ উম্মতের আনুগত্যশীলদের জন্য রয়েছে এ হাদীসে সুসংবাদ। তারা সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলে নাফরমানী করবে সে ব্যতীত।
4. উম্মতের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের মমতাবোধ এবং তাদের সকলের হেদায়েতের ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ এ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
❏১৯) ওয়ারিশকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিতকারী:
‘যে ব্যক্তি কোনো ওয়ারিশকে তার অংশ থেকে বঞ্চিত করল, আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের অংশ থেকে বঞ্চিত করবেন।’ (ইবনে মাজাহ: ২৬৯৪)
"আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (মুহাম্মদের) অবাধ্য হবে এবং তাঁর সীমা লঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবেন, সেখানে সে চিরকাল থাকবে এবং তার জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।" [সূরা নিসা ৪:১৪]
❏২০) ব্যভিচারী ২১) মিথ্যাবাদী শাসক ২২) অহংকারী গরিব:
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ পরকালে কথা বলবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি। তারা হলো ব্যভিচারী বৃদ্ধ, মিথ্যাবাদী শাসক ও অহংকারী দরিদ্র।’ (মুসলিম: ১০৭, ১৯৬)
❏২৩) পায়ের গিরার নিচে কাপড় পরা ব্যক্তি ২৪) মিথ্যা শপথ করে পণ্য বিক্রেতা:
‘মহান আল্লাহ কেয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদের সঙ্গে কোনো কথাও বলবেন না, তাদের পরিশুদ্ধতা প্রত্যয়ন করবেন না, তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। তারা হলো—
যেসব পুরুষ পায়ের গিরার নিচে কাপড় পরিধান করে, মিথ্যা শপথ করে পণ্য চালিয়ে দেয় এবং দান করে খোঁটা দেয়।
(নাসায়ি: ২৫৬৩) সহীহ মুসলিম১৯৫, ১০৬, ১৯৬
তিরমিযি ১২১১, নাসায়ি ২৫৬৩, ২৬৫৪, ৪৪৫৮, ৪৪৬৯, ৫৩৩৩, আবু দাউদ ৪০৮৭, ইবন মাজাহ ২২০৮, আহমদ ২০৮১১, ২০৮৯৫, ২০৯২৫, ২০৯৭০, ২১০৩৪, দারেমি ২৬০৫]
❏২৫) যে মহিলা অকারণে তালাক চায়:
সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘যে নারী তার স্বামীর কাছে অকারণে তালাক কামনা করে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।’
[সূত্র: আবূ দাউদ ২২২৬; তিরমিযী ১১০৮, ১১৮৭; ইব্নু মাজাহ্ ২০৫৫)]
❏২৬) চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে হত্যাকারী:
‘যে ব্যক্তি মুসলিম সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বসবাসকারী কোনো অমুসলিমকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ চল্লিশ বছরের পথের দূর থেকে জান্নাতের সুঘ্রাণ পাওয়া যায়।’
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন জিম্মীকে কতল করে, সে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না। যদিও জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্ব হতে পাওয়া যাবে।
সূত্র: ( সহীহ বুখারি- ৩১৬৬, ৬৯১৪, )
*হাদীসটিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কাফিরকে হত্যার ভয়াবহতা বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কাফিরকে হত্যা করার পরিণাম যদি এমন হয় তাহলে একজন মুসলিমকে হত্যা করার পরিণাম কী হতে পারে পারে জ্ঞানী লোকদের একটু ভাবা উচিত।
ব্যাখ্যাঃ
যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধকে—অর্থাৎ অঙ্গীকার ও নিরাপত্তা নিয়ে কাফিরদের মধ্য থেকে মুসলিম দেশে প্রবেশকারী কাউকে— হত্যা করল, সে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না মর্মে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠিন হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। যদিও তার ঘ্রাণ চল্লিশ বছর পথ চলার দূরত্ব থেকে পাওয়া যাবে।
হাদীসের শিক্ষাঃ
1. চুক্তিবদ্ধ, জিম্মি ও নিরাপত্তা গ্রহণকারী কাফিরকে হত্যা করা হারাম এবং তা কবীরাসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
2. চুক্তিবদ্ধ হলো: এমন কাফির যে নিজ দেশে বসবাস করবে, তবে তার থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়েছে যে, সে মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করবে না এবং মুসলিমরাও তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না। জিম্মী হলো: যে ব্যক্তি মুসলিম দেশে বসবাসের জন্যে বাসস্থাণ বানিয়েছে ও জিজিয়া-কর প্রদান করে। নিরাপত্তা গ্রহণকারী হলো: যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে অঙ্গীকার ও নিরাপত্তা নিয়ে মুসলিম দেশে প্রবেশ করেছে।
3. অমুসলিমদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করার খিয়ানত থেকে সতর্কীকরণ।
4. কেননা শারী’আতের বিধান মতে কবীরা গুনাহের শাস্তির পর প্রত্যেক মুসলিম জান্নাতে প্রবেশ করবে, একমাত্র কাফির ও মুসরিক চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে অবস্থান করবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
[সূত্র: মিশকাত হা/৩৪৫২,(৭), ইবনু মাজাহ ২৬৮৬, সহীহ আল জামি-৬৪৫৭, সহীহ আত্ তারগীব ২৪৫২।]
❏২৭) অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎকারী:
রাসুলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কসম করে কোনো মুসলমানের সম্পদ আত্মসাৎ করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব করে দেন এবং জান্নাত হারাম করেন। এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! যদি সামান্য কোনো জিনিস হয়? তিনি বললেন, ‘যদিও পিপুল গাছের একটি ছোট ডাল হোক না কেন।’
সূত্রঃ [সহীহ মুসলিম:(২৫০-(২১৮/১৩৭), ১৯৬)]
**মুসলিমের হক নষ্ট করা পাপের কাজ। তদুপরি মিথ্যা কসম খেয়ে কারো হক নষ্ট করা মহাপাপ। যার শাস্তি জান্নাত হতে বঞ্চিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করে। সে হক ছোট হোক আর বড়ই হোক। শাস্তি ভোগ করতেই হবে। কেননা সে ইসলামের হক উপলব্ধি করেনি এবং আল্লাহর নামের মর্যাদাও রক্ষা করেনি। ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, উপরোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা দুইভাবে করা যায়।
· ১। অত্যাচার বা জুলুম হলো সমস্ত অমঙ্গলের উৎস, ন্যায় বিচার থেকে এবং সমস্ত কল্যাণ হতে মানুষকে দূরে রাখে। যখন কোনো জাতির মধ্যে অত্যাচার বা জুলুম প্রবেশ করবে, তখন সে জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যখন কোনো গ্রামে অথবা শহরে অত্যাচার বা জুলুম প্রবেশ করবে, তখন সেই গ্রাম অথবা শহর নষ্ট হয়ে যাবে। তাই প্রকৃত ইসলাম ধর্ম লোকের অধিকার মেরে দেওয়া হারাম করে দিয়েছে।
· ২। প্রকৃত ইসলাম ধর্ম লোকের অধিকার মেরে দেওয়া হতে এবং অন্যায় অত্যাচার এবং জুলুম করা হতে সতর্ক করে। অপরের অধিকার নষ্ট করা হতেও সতর্ক করে। যদিও অত্যাচারিত ব্যক্তির কাছে দলিল প্রমাণ কিছূ না থাকে। অত্যাচারিত ব্যক্তির কাছে তার অধিকারের দলিল প্রমাণ কিছূ না থাকার কারণে তার প্রতি জুলুম করে তার অধিকার নষ্ট করা বৈধ নয়।
· কেননা মহান আল্লাহর কাছে কোনো ব্যক্তির অধিকারের দলিল প্রমাণ কিছূ না থাকার কারণে তার অীধকার নষ্ট হয় না। প্রকৃত ইসলাম ধর্ম সকল জাতির মানুষের অধিকারগুলির সংরক্ষণ করে, এবং এতে ধর্মের কারণে অথবা বর্ণের কারণে কোনো পার্থক্য করেনা। এই বিষয়টির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, প্রকৃত ইসলাম ধর্ম সকল জাতির মানুষের অধিকারগুলির সংরক্ষণ করে। এই বিষয়টি প্রকৃত ইসলাম ধর্মের একটি মহা বৈশিষ্ট্য।
· ৩। আরাক গাছের কর্তিত ডালের দ্বারা দাঁতন করা হয়।
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (স.) ইরশাদ করেন, ‘কেউ কারো সম্পদ অবৈধভাবে আহরণের জন্য মিথ্যা কসম খেলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ দেবেন যে, তিনি (আল্লাহ) তার উপর খুবই রাগান্বিত।’
(বুখারি: ২৩৫৬, ২৩৫৭, ২৫১৬, ২৬৭০, ২৬৭৩, ২৬৭৬, ২৬৭৭)
❏২৮) বিশ্বাসঘাতক শাসক:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-বলেন, ‘মুসলমানদের ওপর প্রতিনিধিত্বকারী শাসক যদি এ অবস্থায় মারা যায় যে, সে তার অধীনস্থদের ধোঁকা দিয়েছে, তা হলে আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।’
[(বুখারি: ৩১৮৬, ৬১৭৮, ৬৬১৮; মুসলিম-১৭৩৭-৩৮,৪৪৩০; তিরমিযী ২১৯১, আহমাদ ১১৩০৩, ১২৪৪৩, সহীহাহ্ ১৬৯০, সহীহ আল জামি’ ৫১৬৭।]
অন্য বর্ণনায় আছে, ‘আল্লাহ তাআলা যাকে জনসাধারণের শাসনকর্তা হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, কিন্তু সে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং বিশ্বাসঘাতক থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।’
❏২৯) দাড়ি- চুলে মেহেদী ছাড়া পিউর কালো কলপ ব্যবহারকারী:
চুল বা দাঁড়িতে কালো রং লাগানো হারাম কাজ ও কবীরা গুনাহ্।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ আববাস্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
শেষ যুগে এমন এক শ্রেণির লোক হবে, যারা পায়রার ছাতির মতো কালো কলপ ব্যবহার করবে, তারা জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না।
(আবু দাউদ: ৪২১২, নাসায়ী- ৫০৭৭ সহিহুল জামে: ৮১৫৩,১৫৪৬)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
‘‘ইহুদী ও খ্রিস্টানরা (মাথার চুল বা দাঁড়ি) কালার করে না। সুতরাং তোমরা তাদের বিপরীত করবে তথা কালার করবে’’।
(আবূ দাউদ ৪২০৩,বুখারি,মুসলিম)
❏৩০) অশ্লীলভাষী ৩১) উগ্র মেজাজি ৩২) কটূভাষী:
মহান আল্লাহ বলেন: { আল্লাহ তাআলা প্রকাশ্যে মন্দ কথা বলা পছন্দ করেন না, কেবল সেই ব্যক্তির দ্বারা যার উপর অত্যাচার করা হয়েছে}
[আন-নিসা: ১৪৮]।
আল-সা'দী (রাঃ) বলেন: “সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাদের জানান যে তিনি মন্দের কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করা পছন্দ করেন না, অর্থাৎ তিনি তা ঘৃণা করেন, ঘৃণা করেন এবং এর জন্য শাস্তি দেন। এর মধ্যে রয়েছে সমস্ত খারাপ কথা যা কষ্ট ও দুঃখের কারণ হয়, যেমন অভিশাপ, অপবাদ, অপমান ইত্যাদি। এই সবই নিষিদ্ধ জিনিসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ঘৃণা করেন, এবং এর অর্থ হল যে তিনি ভালো কথা পছন্দ করেন, যেমন স্মরণ এবং সদয়, কোমল কথা।
হারেছা বিন ওহাব (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘অশ্লীলভাষী ও উগ্র মেজাজি লোক জান্নাতে যাবে না’।
(আবু দাউদ: ৪১৬৮, মিশকাত ৫০৭৯)।
রাসুলুল্লাহ (স.) আরো বলেন—‘কঠোর প্রকৃতি ও কটুভাষী লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং ওই লোকও নয়, যে এমন সব বিষয়ে মানুষের কাছে গর্ব-অহংকার প্রকাশ করে বেড়ায় প্রকৃতপক্ষে যা তার কাছে নেই।’
(সুনানে আবু দাউদ: ৪৮০১)
আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন কখনো দোষারোপকারী ও নিন্দাকারী হতে পারে না, অভিসম্পাতকারী হতে পারে না, অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষীও হয় না।
[সূত্র: সুনান আত তিরমিজী ১৯৭৭ সহীহ, সহীহাহ (৩২০)।]
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লজ্জা-সন্ত্রম হচ্ছে ঈমানের অঙ্গ, আর ঈমানের (ঈমানদারের) জায়গা জান্নাতে। নির্লজ্জতা ও অসভ্যতা হচ্ছে দুর্ব্যবহারের অঙ্গ, আর দুর্ব্যবহারের (দুর্ব্যবহারকারীর) জায়গা জাহান্নামে।
সূত্র: https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=40736
[সূত্র: ২০০৯, সুনান আত তিরমিজী, সহীহ, সহীহাহ (৪৯৫), রাওযুন নায়ীর (৭৪৬)।]
❏৩৩) উলঙ্গ-অর্ধ উলঙ্গ নারী:
আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুই প্রকার জাহান্নামী লোক আমি (এখন পর্যন্ত) প্রত্যক্ষ করিনি (অর্থাৎ, পরে তাদের আবির্ভাব ঘটবে)- (১) এমন এক সম্প্রদায় যাদের কাছে গরুর লেজের মত চাবুক থাকবে, যা দিয়ে তারা জনগণকে প্রহার করবে। (২) এমন এক শ্রেণীর মহিলা, যারা (এমন নগ্ন) পোশাক পরবে যে, (বাস্তবে) উলঙ্গ থাকবে, (পর পুরুষকে) নিজেদের প্রতি আকর্ষণ করবে ও নিজেরাও (পর পুরুষের প্রতি) আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা হবে উটের হেলে যাওয়া কুঁজের মত। এ ধরনের মহিলারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তার সুগন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ এত এত দূরত্বের পথ থেকে পাওয়া যাবে।
সূত্র: [(মুসলিম-৫৪৭৫- ১২৫/২১২৮), ইফা-৫৩৯৭, ইসে-৫৪১৯]
সূত্র: দুই প্রকার জাহান্নামী বিস্তারিত ব্যক্ষা দেখুন-https://hadeethenc.com/bn/browse/hadith/8903
❏৩৪) লৌকিকতা প্রদর্শনকারী:
‘কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম একজন শহীদকে ডাকা হবে। অতঃপর একজন কারিকে। তারপর একজন দানশীল ব্যক্তিকে হাজির করা হবে। প্রত্যেককে তার কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। অতঃপর শহীদকে বীর-বাহাদুর উপাধি লাভের উদ্দেশে জিহাদ করার অপরাধে, কারি সাহেবকে বড় কারির উপাধি ও সুখ্যাতি লাভের জন্য কেরাত শেখার অপরাধে এবং দানশীলকে বড় দাতা উপাধি লাভের উদ্দেশে দান-সদকা করার অপরাধে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। ’
(মুসলিম: ৪৮১৭, ১৫২/১৯০৫, সূত্র:৪৭৭১, ৪৭৭০)
ব্যাখ্যা:
ü হাদীসের অর্থ: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম তিন শ্রেণির ব্যক্তির বিচার করা হবে। লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে কুরআন শিক্ষাকারী, লোক দেখানো শহীদ ও লোক দেখানো দানকারী। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা তাদেরকে কিয়ামতের দিন উপস্থিত করবেন এবং আল্লাহ তাদেরকে তাঁর প্রদত্ত নি‘আমতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন অতঃপর তারা তা চিনতে পারবেন এবং যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে।
ü অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে বলবেন, এ সব নি‘আমতের শুকরিয়াস্বরূপ কী আমল করেছ? প্রথম প্রকারের লোকেরা বলবে, আমি জ্ঞানার্জন করেছি এবং তা শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমারই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরআন অধ্যয়ন করেছি। উত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছে। তুমি তো জ্ঞান অর্জন করেছিলে এজন্যে যাতে লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলেন। কুরআন তিলাওয়াত করেছিলে এ জন্যে যাতে লোকেরা বলে সে একজন ক্বারী। তুমি আমার সন্তুষ্টির জন্য এগুলো করো নি; বরং লোক দেখানোর জন্য করেছো। (দুনিয়াতে) তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেওয়া হবে তাকে উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এভাবে বাকীদেরকে বলা হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, উপরোক্ত ৩৪ শ্রেণির লোক জাহান্নামে যাবেন। তবে, প্রথম পর্যায়ে তারা জান্নাতে যেতে না পারলেও জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করার পর অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবেন। কোনো তওহীদপন্থী ব্যক্তি কাফেরদের মতো চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে অবস্থান করবেন না। এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা। মহানবী (স.) ইরশাদ করেছেন—
যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমাণও পুণ্য বিদ্যমান থাকবে, তাকে জাহান্নাম হতে বের করা হবে এবং যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি গম পরিমাণও পুণ্য বিদ্যমান থাকবে তাকে জাহান্নাম হতে বের করা হবে এবং যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণও নেকি থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।’ (বুখারি: ৪৪)
উল্লেখ্য, মৃত্যুর পরে নেক আমল করার সুযোগ নেই। যা করার বেঁচে থাকতেই করতে হবে। গুনাহ যতই হোক, মনে রাখতে হবে, আল্লাহ তাআলা পরম ক্ষমাশীল। তওবা করলে যেকোনো গুনাহ তিনি ক্ষমা করে দেন। ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদেরকে ভালবাসেন’।
(সুরা বাকারা: ২২২)।
এমনকি তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হতেও নিষেধ করেছেন তিনি। ‘যারা নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছে, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইও না। নিশ্চয় আল্লাহ সকল গুনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।
(সুরা যুমার: ৫৩)।
তবে, শিরক থেকে দূরে থাকতে হবে।। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন না, যে ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে শরিক করে। তিনি ক্ষমা করেন শিরকের নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন।’
(সুরা নিসা: ৪৮)
অনুরূপ তওবা না করা অবস্থায় চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়ার অর্থ হল, তাতে সুদীর্ঘ কাল অবস্থান করতে হবে। কারণ, কাফের ও মুশরিকরাই কেবল জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। তাছাড়া সুদ ও হত্যার সম্পর্ক যদিও বান্দার অধিকারের সাথে, যা থেকে তওবার মাধ্যমেও দায়িত্বমুক্ত হওয়া যায় না, তবুও আল্লাহ তাআলা স্বীয় কৃপা ও অনুগ্রহে তার এমনভাবে নিষ্পত্তি করতে পারেন যে, নিহিত ব্যক্তিও প্রতিদান পেয়ে যাবে এবং সুদখোর ও হত্যাকারীরও মাফ হয়ে যাবে। (ইবনে কাসীর ও ফাতহুল কাদীর)
**চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়ার প্রধান প্রধান কারণ…….
সূত্র: https://www.hadithbd.com/books/link/?id=12225
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জান্নাত যাওয়ার অন্তরায়গুলো থেকে দূরে থাকার এবং কোরআন-সুন্নার ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


0 Comments