📌 8.বিয়ে সংক্রান্ত প্রচলিত ভুল ও কুপ্রথা,বিদ’আতঃ
📖 কুরআন, হাদীস ও সালাফদের আলোকে নির্ভরযোগ্য রেফারেন্সসহ।
🌟১.শুভ দিন দেখে বিয়ে করা (সোমবার/শনিবার পরিহার ইত্যাদি) কোন নির্দিষ্ট দিন/মাসে বিয়েটাকে শুভ বা অশুভ মনে করা।
❌ প্রচলিত ভুল:
“সোমবার বা শনিবারে বিয়ে করলে অমঙ্গল হয়।” “অমুক মাসে বিয়ে করা বেয়াদবি।”
ইসলামী অবস্থা: বিদআত, জাহিলিয়াত-সংস্কৃতি।
✅ ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি:
“বল, আমাদেরকে কেবল সেইটিই স্পর্শ করবে, যা আল্লাহ আমাদের জন্য লিখে রেখেছেন।”
📚 সূরা আত-তাওবাহ: ৫১
যে কুসংস্কারে বিশ্বাস করে, সে শিরকে লিপ্ত হয়।”
📚সূত্র: মুসনাদ আহমদ, হাদীস: ৭১৪৮
📗সহীহ সনদে: শাইখ শু’আইব আরনাঊত ও শাইখ আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন।
🔍আরো পাওয়া যায়: আবু দাউদ (৩৯১০), ইবনু মাজাহ (৩৫৩৮), সহীহুল জামে’ (৫৯৩৭)– আলবানী: সহীহ
✅ তিনটি হাদীস কিতাবে একাধিক সনদে সহীহ সনদে বর্ণিত,
🔍সালাফদের মতে,“বার, দিন, মাস দেখে শুভ-অশুভ নির্ধারণ করা জাহিলিয়াতের প্রথা।”
📚 ইবনুল কাইয়্যিম – ইঘাসাতুল লাহফান ১/১২৯
🔹২. জ্যোতিষ/কুষ্ঠি মিলিয়ে বিয়ে নির্ধারণঃ
“যে জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে বিশ্বাস করে, সে কুফরি করল”।
❌ প্রচলিত ভুল:
বিয়ের আগে কুষ্ঠি মিলানো বা জ্যোতিষের সাহায্যে তারিখ, সময় বা পাত্র-পাত্রী নির্ধারণ “জন্ম তারিখ মিলিয়ে বা কুষ্ঠি দেখে বিয়ে না করলে সংসার টেকে না।”
📖 কুরআনঃ
🔸অদৃশ্য (গায়েব) জ্ঞান কেবল আল্লাহর
“বলুন, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে, তারা কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া।”
📚 সূরা আন-নামল ২৭:৬৫
🔹জ্যোতিষি বা কুষ্ঠিবিদ যদি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কথা বলে— সে মিথ্যাবাদী।
🔸শয়তানি কৌশলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়ঃ
"তাঁর কাছেই রয়েছে গায়েবের চাবি, তিনি ছাড়া কেউ তা জানে না। তিনি স্থল ও সমুদ্রে যা কিছু আছে তা জানেন।"
“তারা একে অন্যের কাছে চটকদার কথায় প্রতারণা করে।”
📚 সূরা আন-আম ৬:১১২
🔹জ্যোতিষ, গণক ইত্যাদি মিষ্টি ও ধোঁকাময় কথায় মানুষকে ফাঁদে ফেলে।
📕হাদীস:
✎রাসূল ﷺ বলেন:
“যে ব্যক্তি কোনো জ্যোতিষীর কাছে যায় এবং তাকে বিশ্বাস করে — সে মুহাম্মদ ﷺ–এর উপর যা নাজিল হয়েছে, তার সঙ্গে কুফর করল।”
📚 মুসনাদ আহমদ: ৯৫৩২, সহীহ (শায়খ আলবানী)
🔹জ্যোতিষীর কথা বিশ্বাস করা কুফরি কাজ।
✎রাসূল ﷺ বলেন: “তোমাদের কেউ যখন স্ত্রী গ্রহণ করে বা কোনো কিছু নেয়, সে যেন দো‘আ করে: হে আল্লাহ! আমি তার কল্যাণ চাই…”।
📚 আবু দাউদ: ২১৬০ | (হাদীস সহীহ)
অর্থাৎ বিয়ের সময় কল্যাণ চেয়ে দো‘আ করতে বলা হয়েছে, কুষ্ঠি মিলাতে নয়।
✎মুয়াবিয়া ইবনে হাকাম (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে তার কাছে কিছু জিজ্ঞাসা করে, তার চল্লিশ দিনের নামাজ কবুল হয় না।"
ব্যাখ্যা: জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে বিয়ের জন্য সময় বা জোট নির্ধারণ করা শিরকের শামিল এবং নিষিদ্ধ। এটি ঈমানের জন্য ক্ষতিকর।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২২২৮
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জ্যোতিষী বা ভাগ্য গণনাকারীর কাছে গিয়ে তার কথা বিশ্বাস করে, সে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর যা নাযিল হয়েছে তা অস্বীকার করে।"
📚সূত্র: মুসনাদ আহমদ: হাদীস ৯৫৩২– সহীহ সহিহ বুখারী, হাদিস নং: ৬২১৩,
সহীহুল জামে’: হাদীস ৫৯৩৯
সহীহ মুসলিম: ২২৩০ (অন্য শব্দে)
🔍শাইখ শু’আইব আরনাঊত ও আলবানী – উভয়ে এটিকে সহীহ বলেছেন
✅ সহীহ হাদীস – একাধিক সূত্রে প্রমাণিত
📚ইবনে আব্বাস (র.আ) বলেন: “এই সকল ফালতু বিশ্বাস শয়তানের অনুপ্রবেশ। এগুলো ইসলাম বিরোধী।”
📚দারেমী, মুয়াক্কাদাতু আসার, ১/৩৮৫
🌟সালাফে সালেহীনদের বক্তব্য
🌟 ইমাম নওয়াবী (রহ.) বলেন:
❝কুষ্ঠি বা ভাগ্য গণনা — এটি ‘তিযারাহ’ (কুলক্ষণ নেওয়া), যা নবী ﷺ নিষেধ করেছেন।❞
📚 শরহ মুসলিম ১৪/২২৫
🌟 ইমাম ইবনু তায়মিয়্যাহ (রহ.) বলেন:
❝ভাগ্য গণনা, শুভ-অশুভ দিন নির্ধারণ করা — এটি জাহেলিয়াতের শিরকী প্রথা, যা ইসলাম ধ্বংস করেছে।❞ মুসলিমের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করা এবং শরিয়তের নির্দেশনা অনুসরণ করা।”
📚 মাজমূ‘ ফাতাওয়া: ৩৫/১৯৩, ২৩৩
ব্যাখ্যা: বিয়ের জন্য জ্যোতিষের উপর নির্ভর করা অ-ইসলামী প্রথা এবং শিরক।
🌟 ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন:
❝যে ব্যক্তি কুষ্ঠি/জ্যোতিষি দেখে সিদ্ধান্ত নেয়, সে কুফরের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।❞
📚 আত-তিব্বুন্নববী, পৃ: ১০৫
🌟 ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.):
তিনি বলেছেন, “জ্যোতিষশাস্ত্র বা ভাগ্য গণনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানার চেষ্টা শিরক এবং তাওহীদের পরিপন্থী।”
রেফারেন্স: আল-মুগনী, ইবনে কুদামা, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৩৭।
ব্যাখ্যা: জ্যোতিষ বা কুষ্ঠির মাধ্যমে বিয়ের জোট বা সময় নির্ধারণ করা শিরক এবং নিষিদ্ধ।
✅ উপসংহার:
বিয়ের জন্য কুষ্ঠি/জ্যোতিষ মিলানো বা শুভ-অশুভ দিন নির্ধারণ করা — এটি ইসলাম বিরোধী, শিরকীয় বিশ্বাসের অংশ এবং হারাম।
এই ধরনের কাজ ইসলামে হারাম ও গর্হিত গুনাহ, এমনকি আকীদাহ বিনষ্টকারী।
সুন্নাহ হলো: দ্বীনদার পাত্র/পাত্রীর খোঁজ, পরামর্শ গ্রহণ ও ইস্তিখারা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
এটি আকীদাগত ভুল, যা ইসলামি তাওহীদের মূলনীতির বিরোধী।
রাসূল ﷺ, সাহাবা ও সালাফগণ এ বিশ্বাসকে বাতিল বলেছেন।
🔴৩.কনের পক্ষ থেকে পণ/যৌতুক দেওয়া এবং ‘গিফট’ নাম দিয়ে বাধ্যতামূলক কিছু চাপানো।
❌ বিদ‘আত:
মেয়ের পক্ষ থেকে পাত্রের পরিবারকে সোনার সেট, গাড়ি, ফ্রিজ ইত্যাদি দেওয়া— সমাজে এটি “গিফট” নামে চালু, কিন্তু এটি মূলত হারাম চাপে দেওয়া হয়।
🟢 হুকুম:
হারাম ও জুলুমের পর্যায়ে পড়ে। ইসলামে বর মহর দেয়, কনে নয়।
📖 আয়াত: “তোমরা নারীদেরকে তাদের মাহর (মোহরানা) খুশিমনে দাও।”
📚 সূরা আন-নিসা: ৪
📗 সালাফদের বক্তব্য:
🌟ইমাম মালিক (রহ.) বলেন:
“যে স্বামী মহর ছাড়াও স্ত্রীর পরিবার থেকে সম্পদ দাবি করে, সে জালিম ও গুনাহগার।”
📚 আল-মুদাওয়ানাহ (২/২৪৩)
✅ ফিকহি রায়: মাযাহিবে আরবা‘আর ফিকহ গ্রন্থে একে হারাম বলা হয়েছে । (দেখুন: ফিকহুল ইসলামি, ড. ওয়াহবা যুহাইলী, ৯/৪১)
বিজোড় মুদ্রায় দেনমোহর বাধা।
“দেনমোহর (মাহর) বিজোড় সংখ্যায় নির্ধারণ করা” — যেমন: ১১, ৫১, ৫০১, ১০০১, ইত্যাদি।
👉দেনমোহর নির্ধারণে "বিজোড় সংখ্যা" নির্দিষ্ট করা — এটি শরিয়তের দৃষ্টিতে ফরজ/সুন্নাহ নয়।
এটা একটি লোকপ্রচলিত ভুল ধারণা, যার কোনো সহীহ হাদীস বা সালাফি আমল দ্বারা ভিত্তি নেই।
সুতরাং, বিজোড় হতেই হবে — এই বিশ্বাস নিয়ে দেনমোহর নির্ধারণ বিদআত ও ভ্রান্ত ধারণা।
📖কুরআনের দলিল
🔸আল্লাহ বলেন:
"তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর প্রদান করো সানন্দে। অতঃপর যদি তারা স্বেচ্ছায় তা থেকে কিছু তোমাদেরকে ছেড়ে দেয়, তবে তা ভোগ করো স্বাচ্ছন্দ্যে ও সানন্দে।"
📚 সূরা আন-নিসা ৪:৪
🔹এখানে দেনমোহরের পরিমাণ, রাশি বা সংখ্যা বিজোড় বা জোড় হতে হবে — এমন কিছু বলা হয়নি।
📕হাদীস দ্বারা বিশ্লেষণ
🔸রাসূল ﷺ নিজে কী পরিমাণ দেনমোহর দিয়েছেন?
“নবী ﷺ আয়েশা (রা.)-কে ৫০০ দিরহাম দেনমোহর দেন।”
📚 সহীহ মুসলিম: ১৪২২
এটি জোড় সংখ্যা (৫০০)।
🔸অর্থাৎ বিজোড় ধারায় বেঁধে দেওয়া সুন্নাহ নয়।
🔸রাসূল ﷺ বলেন:
উকবা ইবনে আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "সর্বোত্তম দেনমোহর হলো যা সবচেয়ে সহজ।"
📚 সহিহ বুখারী, হাদিস নং: ৫০৮৭, সুনান আবু দাউদ: ২১১৭ (সহীহ)
✎আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "একজন মহিলার বিয়ের জন্য দেনমোহর হিসেবে একটি লোহার আংটিও যথেষ্ট, এমনকি যদি তা কুরআন শিক্ষা দেওয়া হয়।"
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১৪২৫
দেনমোহর সহজ হওয়া জরুরি, বিজোড় হওয়া নয়।
✎রাসূল ﷺ কোনো বিয়েতে বিজোড় মাহর নির্ধারণের হুকুম দেননি।
বরং তিনি সহজ ও সামর্থ্য অনুযায়ী মাহর নির্ধারণ করতে বলেছেন।
🌟সালাফে সালেহীনের বক্তব্য
🌟ইমাম শাফি’ঈ (রহ.) বলেন:
❝মাহর নির্ধারণে কুরআন ও সুন্নাহ সীমা নির্ধারণ করেনি। অতএব, বিজোড় বা জোড় সংখ্যা বাধ্যতামূলক করা জাহেলিয়াত।❞
📚 আল-উম, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৬৭
🌟ইমাম নববী (রহ.) বলেন:
❝মাহর যেকোনো পরিমাণ হতে পারে, জোড় বা বিজোড়। শরিয়ত কোনো সংখ্যার বাঁধন দেয়নি।❞
📚 আল-মাজমু‘১৬/২৭০
🌟ইবনু আব্দুল বার (রহ.) বলেন:
❝দেনমোহরের নির্দিষ্ট রাশি নেই; বিজোড় হওয়ার ওপর সুন্নাহর কোনো দলিল নেই।❞
📚 আত-তামহীদ ১৯/৫৫
🌟ইবনে তাইমিয়া (রহ.):
তিনি বলেছেন, “দেনমোহরের ক্ষেত্রে সরলতা এবং সাধ্যের মধ্যে থাকা উচিত। অপ্রমাণিত প্রথা বা অ-ইসলামী সংস্কৃতির অনুকরণ এড়ানো উচিত।”
রেফারেন্স: মাজমু ফাতাওয়া, খণ্ড ৩২, পৃষ্ঠা ১০৮।
🌟 শরিয়তসম্মত দেনমোহর:
হাদিস অনুযায়ী, দেনমোহরের পরিমাণ সরল এবং সাধ্যের মধ্যে হওয়া উচিত। এটি অর্থ, সম্পত্তি, সেবা (যেমন, কুরআন শিক্ষা দেওয়া) বা যেকোনো মূল্যবান জিনিস হতে পারে। বিজোড় মুদ্রায় দেনমোহর বাধার কোনো শরিয়তসম্মত ভিত্তি নেই, তবে এটি যদি সাংস্কৃতিক প্রথা হিসেবে পালিত হয় এবং শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন না করে, তবে তা জায়েজ হতে পারে।
❌ ভুল বিশ্বাস: “আল্লাহ বিজোড় সংখ্যা পছন্দ করেন, তাই দেনমোহরও বিজোড় হবে”
এটি একটি ভুল কিয়াস (Analogy)।
আল্লাহর একটি গুণ হলো: "ওয়িতর" — অর্থাৎ তিনি এক।
তবে এই গুণ থেকে প্রত্যেক ইবাদত, টাকা, সংখ্যা বিজোড় করতে হবে — এটা শরিয়ত নির্ধারিত নয়।
📝 উপসংহার
দেনমোহর বিজোড় হতেই হবে — এ বিশ্বাস বা বাধ্যবাধকতা শরিয়তে নেই, বরং ভ্রান্ত প্রচলন।
কুরআন, হাদীস, সালাফদের বাণী — কোথাও এমন কোনো দলিল নেই।
দেনমোহর নির্ধারিত হবে সহজতা, সামর্থ্য ও সন্তুষ্টি অনুযায়ী, সংখ্যা অনুযায়ী নয়।
🔴৫.‘পণ’ বা যৌতুক দাবি করা।
🔴 প্রশ্ন: বিয়েতে কনের পক্ষ থেকে পণ/যৌতুক দেওয়া, অথবা ‘উপহার’ (গিফট) নাম দিয়ে বরপক্ষ বা পরিবারকে বাধ্যতামূলক কিছু চাপানো — ইসলামে এর হুকুম কী?
❌ বিদ‘আত:
মেয়ের পক্ষ থেকে পাত্রের পরিবারকে সোনার সেট, গাড়ি, ফ্রিজ ইত্যাদি দেওয়া— সমাজে এটি “গিফট” নামে চালু, কিন্তু এটি মূলত হারাম চাপে দেওয়া হয়।
📖কুরআনের দৃষ্টিকোণ
🔸পুরুষের দায়িত্ব দেনমোহর দেওয়া, কনের পরিবারের নয়,
“তোমরা নারীদেরকে তাদের মাহর (দেনমোহর) স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাও।”
📚 সূরা আন-নিসা ৪:৪
🔸যৌতুক দাবী করা অন্যায় ও জুলুম
✎“তোমরা অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।” 📚 সূরা বাকারা ২:১৮৮
কনের পরিবারের কাছ থেকে গিফট/যৌতুক দাবি করলে — তা হয় বাতিলভাবে সম্পদ গ্রহণ, যা হারাম।
এখানে পুরুষ কর্তৃক স্ত্রীকে সম্পদ দান করার নির্দেশ রয়েছে, উল্টো নয়।
❌ প্রচলিত ভুল:
“মেয়ে পক্ষকে ফ্রিজ, সোনা, গাড়ি দিতে হবে, না হলে বিয়ে হবে না।”
✅ ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি:
✎“তোমরা নারীদেরকে তাদের মহর আনন্দের সাথে দাও।”
📚 সূরা আন-নিসা: ৪
📕হাদীস দ্বারা বিশ্লেষণ
নবী ﷺ এর বিয়ে — কেমন ছিল?
✎ “নবী ﷺ যেসব নারীকে বিয়ে করেছেন, তাদের পরিবার থেকে কিছু গ্রহণ করেননি; বরং সব সময় দেনমোহর দিয়েছেন।”
📚 সহীহ মুসলিম ১৪২৪, সুনান নাসাঈ ৩৩৭১
🔹কোনো সহীহ হাদীসে নেই — নবী ﷺ, সাহাবা (রা.) কনের পরিবারের কাছ থেকে কিছু দাবি করেছেন।
🔍যৌতুক নয়, বরং বরপক্ষ মহর প্রদান করবে। পণ চাওয়া হারাম এবং জুলুম।
🌟 সালাফে সালেহীনের দৃষ্টিভঙ্গি
🌟ইবনে হাজার (রহ.) বলেন:
“যে স্বামী বিয়ের আগে মেয়ের পরিবারের থেকে অর্থ দাবি করে, সে স্পষ্ট জালিম।”
📚 ফাতহুল বারী: ৯/২১৩
🌟ইমাম মালিক (রহ.) বলেন:
❝মাহর হচ্ছে বর কর্তৃক কনে প্রাপ্ত হক; কনের পক্ষ থেকে কিছু গ্রহণ করা সুন্নাহ নয়।❞
📚 আল-মুদাওয়ানা, ২/২৪৮
🌟 ইমাম শাফি‘ঈ (রহ.) বলেন:
❝যদি বরপক্ষ উপহার দাবি করে — তা হলে এটি ‘হারাম অর্থ’ উপার্জনের শামিল।❞
আল-উম, ৫/১০৯
🌟 ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন:
❝যৌতুক নেওয়া শরিয়ত-বহির্ভূত, এটি জাহেলি সমাজের কুপ্রথা। ইসলাম এসে তা বিলুপ্ত করেছে।❞
📚 আহকামু আহলিয্জিম্মা – ১/৫২৮
✅ সিদ্ধান্ত:
🔹 কনের পক্ষ থেকে যৌতুক/পণ দেওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ ও হারাম।
🔹 ‘উপহার’ নামে কিছু চাপিয়ে দেওয়া বা দাবি করাও জুলুম ও গুনাহ।
🔹 বরপক্ষের দায়িত্ব হচ্ছে মাহর দেওয়া, গ্রহণ নয়।
🔹 বরং দ্বীনদার কনেকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করা — এটাই রাসূল ﷺ ও সালাফদের আদর্শ।
যদি দেওয়ার ইচ্ছে থাকে জীবনের সব অংশ বা সময় পড়ে আছে, বিয়ের পর জামাইয়ের কে গিফট বা উপহার দিতে পারে, শুধু জামাই কে না, জামাইয়ের পিতা বা মাতা কেও দিতে পারে। যে কোন সমস্যার সময় ও দেওয়া যাবে। দেওয়া নেওয়া থাকলে বা উপহার দিলে সু- সম্পর্ক ভাল থাকে।
🔴৬. বিয়েতে গান-বাজনা, ডিজে, নাচ-গান, মেহেদি নাইট।
❌ প্রচলিত ভুল:
“বিয়ে মানেই ডি.জে পার্টি, গানের আসর, নাচ, প্যান্ডেল, মেহেন্দি, হলুদ রাতে ড্যান্স!”
📗 হাদীস:“আমার উম্মতের কিছু লোক গান, মদ, রেশম এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।”
📚 সহীহ বুখারী (মুআল্লাক), হাদীস: ৫৫৯০ (ইবনে হাজার সংযুক্ত করেছে, সহীহ সনদে)
🔍গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র — এগুলো নবী ﷺ হারাম বলেছেন।
🌟 ইবনে আবি দুনিয়া বলেন:
“গান শোনার অভ্যাস মানুষের হৃদয়ে মুনাফিকি সৃষ্টি করে।”
📚 যুহদ: হাদীস ৩৪৫
🌟ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রহ.) বলেন:
“বিয়ের অনুষ্ঠানে গান ও বাদ্যযন্ত্র— নবী ﷺ–এর সুন্নাহর বিরোধী।”
📚 মাজমু‘আল-ফাতাওয়া ১১/৫৭৬
🔴৭.বিয়ের আগের ‘গায়ে হলুদ’, ‘মেহেদি’, ‘সিন্ধুর দিবস’, ‘জুতা চুরি’, লোক হাসানোর জন্য নাটকীয়তাঃ
❌ বিদ‘আত:
গায়ে হলুদ, কনের বাড়ি নাচ-গান, জামাইয়ের পা ধোয়ানো, জুতা চুরি প্রভৃতি।
🟢 হুকুম:
কোনোটিরই ইসলামি উৎস নেই। বিদআত ও মিথ্যা প্রথা।
🌟ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.) বলেন:
“বিয়ে এমন একটি ইবাদত যাতে নতুন রীতি ও খেল-তামাশার অনুপ্রবেশ বিদআতের জন্ম দেয়।”
📚 তালবিস ইবলিস, ৩২৫ পৃষ্ঠা
🔴৮. খাস্তা বা কোর্টশিপ-এর মতো ইউরোপীয় প্রথা
বিদআত: বিয়ের পূর্বে প্রেম-যুক্ত আড্ডা দেয়া।
ইসলামী অবস্থা: বিদআত ও শিরকের সান্নিধ্য।
দলীল: ইসলামে বিবাহ ফিকহ “আকেদ ও ওয়ালীমা”– গোপনীয়তার পরিবেশে নিয়ন্ত্রিত থাকে।
📗9. উপত্যকার খাবার (ভাত/ক্ষীর একত্রে খাওয়া)
বিদআত: বর-কনেকে অধিকার খাওয়ানো।
ইসলামী অবস্থা: অবৈধ ও অপচয়, আদর্শহীন।
দলীল: প্রথাগত বর-কনে স্বাভাবিকভাবে নিজেদের প্লেটে খাবে, অতিরিক্ত চাপ নিষেধ।
📗10.বাসর ঘরে একই প্লেটে খাবার খাওয়া
বিদআত: প্রথাগত বাধ্যতা।
ইসলামী অবস্থা: বিদআত, সুন্নাহ নয়।
দলীল: নূনতম গোপনীয়তা চাই – একক প্লেট প্রমাণিত নয়।
🔴১১.বিয়ের রাতে নববধূর সামনে কুরআন তিলাওয়াত/অযু করে বিছানায় বসা ইত্যাদি
❌ বিদ‘আত:
বিয়ের রাতের জন্য বিশেষ কুরআন তিলাওয়াত, ‘ফজিলতপূর্ণ সূরা’, ঘরের চারকোনায় দোয়া, অযু করে বিছানায় ওঠা ইত্যাদি।
🟢 হুকুম:
নবী ﷺ–এর যুগে এমন কোনো আমল ছিল না। বিদ‘আত।
📖কুরআনের নির্দেশনা “তোমরা এই পথ অনুসরণ করো (আল্লাহর), এবং অন্য পথ অনুসরণ করো না।”
📚 সূরা আনআম ৬:১৫৩
🔹বিয়ে রাতে বিশেষ কুরআন তিলাওয়াত করার নির্দেশ আল্লাহ দেননি, রাসূলও বলেননি। অতএব এটি ইবাদতের নামে নতুন পদ্ধতি।
📌হাদীস:
✅ নববধূর সামনে কী করা সুন্নত?
“নবী ﷺ যখন স্ত্রীকে প্রথম পান, তখন তাঁর কপালে হাত রাখতেন, আল্লাহর নাম নিতেন ও বরকতের দো’আ করতেন।”
📚সহীহ আবু দাউদ – হাদীস: ২১৬০, ইমাম আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
🔹 এটি সহীহ সুন্নাহ।
📗 সালাফে সালেহীন বক্তব্যঃ
🌟 ইবনে হাজার (রহ.) বলেন:
“নববধূর সামনে কুরআন তিলাওয়াত করার ব্যাপারে কোনো সহীহ হাদীস নেই।”
📚 ফাতহুল বারী, ৯/২১৪
🌟 ইমাম নববী (রহ.) বলেন:
❝বিয়ে রাতে কুরআন তিলাওয়াত করা, এমন কিছু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। বরং বরকতের দোআ করাই সুন্নাহ।❞
✅ সারকথা:
“বিয়ের রাতে ওযু করে কুরআন তিলাওয়াত করে বিছানায় বসা”, “নববধূর সামনে কুরআন তেলাওয়াত” — এইগুলো নিয়ে কোন সহীহ হাদীস নেই, এবং সালাফদের যুগে এইরূপ কোনো নির্দিষ্ট আমল ছিল না। সুতরাং, এটা কোনো সুন্নাহ নয়, বরং ইবাদতের নামে নতুন কিছু উদ্ভাবন হলে তা বিদআত।
রেফারেন্স: 📚 আল-মাজমু', ইমাম নববী, ৪/৩০২, 📚 ফাতহুল বারি, ৯/১৯০
কুরআন: সূরা আর-রুম (৩০:২১), সূরা আল-মায়েদা (৫:৮৭)
হাদিস: সুনান আবু দাউদ (২১৬০), সহিহ বুখারী (৬৩৮৮, ৪২২৫)
সালাফ: ইমাম আহমদ (আল-মুগনী, খণ্ড ৮), ইবনে তাইমিয়া (মাজমু ফাতাওয়া, খণ্ড ২২), ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (কিতাবুত তাওহীদ)
🔴১২.মিষ্টি মুখ বা চিনি দিয়ে মুখ খাওয়ানো, আয়নার সামনে দাঁড়ানো, মাটির কলস ভাঙা ইত্যাদি
❌ কুসংস্কার ও বিদ‘আতঃ
‘চিনি মুখে দিলে সম্পর্ক মিষ্টি হবে’, ‘আয়নার সামনে বর-কনে দাঁড়ালে সংসার সুন্দর হবে’ — এসব বিশ্বাস প্রচলিত।
এই সব বিয়ের রীতি— ❝মিষ্টিমুখ করানো, আয়নার সামনে দাঁড়ানো, কলস ভাঙা❞ ইত্যাদি কোনোটিই কুরআন, হাদীস বা সালাফদের যুগে ছিল না। এগুলো লোকপ্রচলিত কুসংস্কার, হিন্দু/আঞ্চলিক সংস্কৃতির অনুকরণ এবং ইসলামে বিদআত হিসেবে গণ্য।
📖 কুরআন থেকে দলিলঃ
“তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে যা নাজিল হয়েছে তা অনুসরণ কর।”
📚 সূরা আ’রাফ ৭:৩
🔹এইসব প্রথা কোনো কিতাব, সুন্নাহ বা সালাফদের থেকে প্রমাণিত নয়। তাই এগুলো অগ্রহণযোগ্য।
🔸“যে ব্যক্তি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে... তাকে আমরা জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।”
📚 সূরা নিসা ৪:১১৫
📕হাদীস থেকে দলিলঃ
🔸নবী ﷺ বলেন: “যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু সংযোজন করে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় — তা প্রত্যাখ্যাত।”
📚 সহীহ বুখারী: ২৬৯৭, মুসলিম: ১৭১৮
🔹মিষ্টিমুখ, আয়নায় দাঁড়ানো, কলস ভাঙা — এগুলো নবী ﷺ, সাহাবা, তাবেঈনের যুগে ছিল না। সুতরাং বিদআত ও বাতিল প্রথা।
🔸ইহুদি-খ্রিস্টান বা অমুসলিমদের অনুকরণ নিষিদ্ধ:
“যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাথে সাদৃশ্য রাখে, সে তাদের মধ্যেই গণ্য।”
📚 আবু দাউদ: ৪০৩১ (সহীহ, শায়খ আলবানী)
🔹 কলস ভাঙা বা আয়নার সামনে দাঁড়ানো — অনেকক্ষেত্রে হিন্দু প্রথার অংশ। এটি তাশাব্বুহ বিল কুফফার।
🌟সালাফদের বাণী ও দৃষ্টিভঙ্গি
🌟 ইমাম মালিক (রহ.) বলেন:
❝যে ব্যক্তি এমন একটি কাজকে উত্তম মনে করে যা নবী ﷺ এবং সাহাবায়ে কেরাম করেননি — সে মনে করছে, তারা দীন বুঝতে পারেননি, আর সে বুঝেছে!❞
📚 আল-ই;তিসাম – শাতিবী, ১/৪৯
🌟 ইবনু তাইমিয়া (রহ.) বলেন:
❝যে সকল প্রথা শরিয়তের বাইরে এবং কুরআন-সুন্নাহয় ভিত্তিহীন — তা বিদআত ও গোমরাহি। এমনকি তা শিরকে রূপ নিতে পারে।❞
📚 মাজমু’ফাতাওয়া – ১১/৬৩১
🌟 ইবনে কায়্যিম (রহ.) বলেন:
“যেসব কাজের কোনো দালীল নেই অথচ মানুষ ধর্ম মনে করে তা বিদ‘আত।”
📚 ই‘লামুল মুআক্কি‘ইন – ১/৫০
বিয়ের সময় মিষ্টিমুখ করানো, আয়নায় মুখ দেখা, কলস ভাঙা — এগুলো ইসলাম-সমর্থিত নয়। এগুলো বিদআত, অপসংস্কৃতি ও অনেক সময় বিজাতীয় রীতি। প্রকৃত মুসলমানের দায়িত্ব, এইসব শিরকীয় ও বিদআতী রীতি বর্জন করা এবং রাসূল ﷺ ও সালাফদের পন্থা অনুসরণ করা।
🔴১৪.‘মুবারক মাস/শুভ দিন’ দেখে বিয়ে নির্ধারণ।
❌ বিদ‘আত:
“শাওয়াল মাসে বিয়ে করলে অশুভ”, “শুক্রবারে বিয়ে করাই উত্তম”
🟢হুকুম:
এটি জাহিলিয়াতের প্রথা
📗হাদীস:“নবী ﷺ শাওয়াল মাসে বিয়ে করেছেন এবং স্ত্রীদেরও শাওয়ালে গ্রহণ করেছেন।”
📚 সহীহ মুসলিম: ১৪২৩
✅ নবী ﷺ কুসংস্কারভিত্তিক মাস নির্ধারণ ভেঙে দিয়েছেন।
🔴১৫. ‘হানিমুন’ বা ‘বিবাহ বার্ষিকী’ পালনঃ
কুরআনে “হানিমুন” ও “বিবাহ বার্ষিকী”— এগুলোর কোনো ভিত্তি কুরআন, সহীহ হাদীস বা সালাফে সালেহীনের আমল থেকে পাওয়া যায় না। এগুলো সব আধুনিক প্রথা। বরং এগুলো বিদআত, অনুকরণীয় নয়, এবং ইসলামী সংস্কৃতি বহির্ভূত। অনেকক্ষেত্রে কাফেরদের সংস্কৃতি অনুকরণে পড়ে যায়। তাই অ-ইসলামী প্রথা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদআত: পশ্চিমা প্রভাব – হানিমুন ও বার্ষিক অনুষ্ঠান
ইসলামী অবস্থা: বিদআত ও অপচয়, শরীয়ে নেই
দলীল: ইসলামে বিবাহ উদযাপন সুন্নাহ নয়।
“তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা অনুসরণ কর এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যদের অনুসরণ করো না।”
📚সূরা আ’রাফ ৭:৩
"আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য থেকে স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ কর এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।"
ব্যাখ্যা: এই আয়াতে বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও শান্তি স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। হানিমুন বা বিবাহ বার্ষিকী যদি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক জোরদার করার জন্য শরিয়তের সীমার মধ্যে পালন করা হয়, তবে তা জায়েজ হতে পারে। তবে, এটি অপচয় বা অ-ইসলামী প্রথার সাথে জড়িত হলে নিষিদ্ধ।
🔹ইসলাম বিজাতির অনুকরণ নিষেধ করেছে।
“তোমরা যালিমদের (ভ্রান্তপথীদের) দিকে ঝুঁকে যেও না, তা না হলে আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে।”
📚 সূরা হূদ ১১:১১৩
🔹 হানিমুন— পশ্চিমা বিজাতীয় সংস্কৃতি, ইসলামের নয়।
📕হাদীসঃ 🔸রাসূল ﷺ বলেন: “যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করলো যা এর অংশ নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।”
📚 সহীহ বুখারী: ২৬৯৭, মুসলিম: ১৭১৮
🔹হানিমুন বা বিবাহ বার্ষিকী — দ্বীনের অংশ নয়, তাই তা বিদআত।
✎রাসূল ﷺ আরও বলেন: “তোমরা অবশ্যই পূর্ববর্তী জাতিদের পথ অনুসরণ করবে... এমনকি তারা যদি গুইসাপের গর্তে প্রবেশ করে, তাও তোমরা করবে।”
📚 সহীহ বুখারী: ৭৩২০, মুসলিম: ২৬৬৯
🔹আজকের মুসলমানরা যেভাবে হানিমুন/Anniversary পালন করে — তা সরাসরি ইহুদি-খ্রিস্টানদের অনুকরণ।
বিয়ের পর ঘুরতে যাওয়া "হানিমুন", পশ্চিমা সংস্কৃতি, ইসলামে প্রচলিত নয়।
🔴সালাফে সালেহীন এর বক্তব্যঃ
🌟ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.):
তিনি বলেছেন, “যে কোনো কাজ যা শরিয়তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বা বিদআতের দিকে নিয়ে যায়, তা থেকে বিরত থাকতে হবে।”
রেফারেন্স: আল-মুগনী, ইবনে কুদামা, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৩৭।
ব্যাখ্যা: হানিমুন বা বিবাহ বার্ষিকী যদি অ-ইসলামী সংস্কৃতি থেকে গ্রহণ করা হয় এবং শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করে, তবে তা বিদআত হিসেবে গণ্য হতে পারে।
✅ সাহাবা (রাঃ) এবং চার ইমামের যুগে:
বিয়ে উপলক্ষে কোনো "হানিমুন" বা বিবাহ বার্ষিকী পালন — কোনো নজির পাওয়া যায় না।
তারা বিয়ে করতেন সুন্নাহ অনুযায়ী, সহজভাবে।
ওলিমা (সাধারণ খাবার) দিতেন, কিন্তু তার পরে কোনো সফর, "হানিমুন ট্রিপ", বার্ষিক উৎসব করতেন না।
🗯 ইমাম মালিক (রহ.) বলেন:
❝যে ব্যক্তি এমন একটি কাজকে উত্তম মনে করে যা পূর্বে নবী ﷺ ও তাঁর সাহাবীরা করেননি — সে ব্যক্তি নিজেকে নবী বা সাহাবাদের চেয়ে উত্তম মনে করছে।❞
📚 আল-ই’তিসাম – শাতিবী, ১/৪৯
🗯 ইবনে তাইমিয়া (রহ.):
তিনি বলেছেন, “অ-মুসলিমদের প্রথা অনুকরণ করা এবং শরিয়তের সীমা লঙ্ঘনকারী কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।”
রেফারেন্স: মাজমু ফাতাওয়া, খণ্ড ২৫, পৃষ্ঠা ১৭৫।
ব্যাখ্যা: হানিমুন বা বিবাহ বার্ষিকী পালন যদি অ-ইসলামী সংস্কৃতি থেকে গৃহীত হয় এবং অপচয় বা হারাম কাজের সাথে জড়িত হয়, তবে তা নিষিদ্ধ।
🔍 ইসলামী দৃষ্টিতে করণীয়:
✅ বিয়ের পর স্ত্রীর সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করুন।
✅ একসঙ্গে সফর করাটা জায়েয, কিন্তু ‘হানিমুন’ নামে নয়।
✅ প্রত্যেকদিনকে সম্পর্ক উন্নয়নের দিন মনে করুন।
❌ “বার্ষিকী পালন না করলে সে ভালোবাসে না” — এটা মনগড়া ধারণা।
📌 সিদ্ধান্ত:
বিয়েতে ‘হানিমুন’ বা ‘বিবাহ বার্ষিকী’ — ইসলামে এর কোনো ভিত্তি নেই। বরং বিদআত, রিয়া, অপচয় ও বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ। মুসলিমদের উচিত, এইসব সংস্কৃতি থেকে বিরত থাকা এবং তাওহীদ ও সুন্নাহর পথ অনুসরণ করা।
🔴জায়েজ হওয়ার শর্ত:
✅শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকা: হানিমুন বা বিবাহ বার্ষিকী পালনে কোনো হারাম কাজ (যেমন মিশ্রিত পার্টি, মদ্যপান, অশ্লীলতা) জড়িত থাকবে না।
✅অপচয় না হওয়া: অতিরিক্ত খরচ বা বিলাসিতা থেকে বিরত থাকতে হবে।
✅অ-ইসলামী প্রথার অনুকরণ না হওয়া: যদি এটি অ-মুসলিমদের প্রথা থেকে গৃহীত হয় এবং ইসলামী মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে তা এড়ানো উচিত।
✅স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক জোরদার করা: যদি উদ্দেশ্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও শান্তি বৃদ্ধি করা হয় এবং শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকে, তবে তা জায়েজ হতে পারে।
🌟 নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ:
✅বিদআত: হানিমুন বা বিবাহ বার্ষিকী পালন যদি ধর্মীয় আচার হিসেবে গণ্য করা হয় বা ইসলামে এর কোনো ভিত্তি না থাকে, তবে তা বিদআত হতে পারে।
✅অপচয় (ইসরাফ):অতিরিক্ত খরচ, বিলাসবহুল আয়োজন বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে পালন করা শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে নিষিদ্ধ।
✅অ-ইসলামী প্রথার অনুকরণ: এই প্রথাগুলো প্রধানত পশ্চিমা সংস্কৃতি থেকে গৃহীত। যদি এটি অ-মুসলিমদের অনুকরণের সাথে জড়িত হয় এবং শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করে, তবে তা নিষিদ্ধ।
🔴১৬. বিশাল আয়োজন, লোক দেখানো খরচ।
ইসলাম বিয়েতে সহজতা ও সরলতা উৎসাহিত করে। বড় আয়োজনে লোক দেখানো, অপচয়, অহংকার বা লোক খুশি করার উদ্দেশ্য হলে — তা হারাম, বিদআত ও অহংকারের আচরণ গণ্য হয়।
❌ প্রচলিত ভুল:
“লোকজন না খাওয়ালে মুখ রক্ষা হবে না।” “পাঁচ তারকা হোটেল না হলে লজ্জা!”
✅ ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি:
“বিয়েতে সবচেয়ে বেশি বরকত থাকে, যখন খরচ কম হয়।”
📚 সূত্র: সুনান ইবনু মাজাহ: হাদীস ১৯০৫
শাইখ আলবানী এটি সহীহ বলেছেন: সহীহুল জামে’ – হাদীস ১৯০৫
✅ সহীহ হাদীস, আলবানীর তাহকীকে স্পষ্ট প্রমাণিত
📖 . কুরআনের দলিলসমূহ
কুরআনে অপচয়, অহংকার এবং লোক দেখানোর জন্য খরচ করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। বিয়েতে অতিরিক্ত আয়োজন যদি এই শ্রেণিতে পড়ে, তবে তা শরিয়তের পরিপন্থী।
"আর তোমার নিকটাত্মীয়কে তার প্রাপ্য দাও এবং দরিদ্র ও মুসাফিরকে; কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয় অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ।"
সূরা আল-ইসরা (১৭:২৬-২৭):
🔹 এই আয়াতে অপচয় (ইসরাফ) করা থেকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
বিয়েতে অহেতুক খরচ, যেমন, অতিরিক্ত খাবার,বিশাল শোভাযাত্রা, বেহুদা সাজসজ্জা সবই অপচয়, যা শয়তানি কাজ।
📕. সহীহ হাদীসের দলিলসমূহ
🔸নবী ﷺ-এঁর নিজের বিবাহ ছিল অত্যন্ত সরল:
✅ হযরত আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) বিয়ে করলেন। নবী ﷺ শুধু বললেন:
“আল্লাহ তোমাকে বরকত দিন। একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওলিমা কর।”
📚 সহীহ বুখারী – ৫১৬৭
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "সর্বোত্তম বিয়ে হলো যেটি সবচেয়ে সহজ।"
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "যে বিয়েতে সবচেয়ে বেশি বরকত, তা হলো যেটি সবচেয়ে কম খরচে সম্পন্ন হয়।"
📚 [সহিহ বুখারী, হাদিস নং: ৫১৯৭,সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং: ২১২৩, মুসনাদ আহমদ – ২৪৫৫৫, সহীহ (আলবানী)]
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য কিছু করে, আল্লাহ তার প্রতি কিয়ামতের দিনে রাগান্বিত হবেন।"
সহিহ বুখারী, হাদিস নং: ৫১৫৩
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "তোমরা অপচয় করো না, কেননা আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।"
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১৭৩৬
ব্যাখ্যা: বিয়েতে বিশাল আয়োজন যদি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা রিয়া (লোক দেখানো) এর শামিল, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
বিয়েতে অপ্রয়োজনীয় খরচ, যেমন অতিরিক্ত খাবার ফেলে দেওয়া বা বিলাসবহুল আয়োজন, অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত।
🌟সালাফদের বক্তব্য:
সালাফে সালেহীন (প্রথম তিন প্রজন্মের মুসলিম পণ্ডিত ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব) অপচয় এবং লোক দেখানোর জন্য খরচ করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তারা বিয়েতে সরলতা ও শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকার উপর জোর দিয়েছেন।
🔴ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.):
তিনি বলেছেন, “বিয়েতে অপ্রয়োজনীয় খরচ এবং লোক দেখানোর জন্য আয়োজন করা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। বিয়ের উদ্দেশ্য হলো সুন্নাহ পালন করা, অপচয় নয়।”
রেফারেন্স: আল-মুগনী, ইবনে কুদামা, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৮৩।
🔴ইবনে তাইমিয়া (রহ.):
তিনি বলেছেন, “অপচয় এবং অহংকার প্রকাশের জন্য ব্যয় করা শয়তানের পথ। বিয়েতে সরলতা ও বরকতের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত।”
রেফারেন্স: মাজমু ফাতাওয়া, খণ্ড ৩২, পৃষ্ঠা ১০৮।
🔴ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রহ.):
তিনি বলেছেন, “লোক দেখানোর জন্য বা সমাজে প্রভাব ফেলার উদ্দেশ্যে বিয়েতে অতিরিক্ত খরচ করা রিয়া এবং অপচয়ের শামিল।”
রেফারেন্স: কিতাবুত তাওহীদ, অধ্যায়: রিয়া সম্পর্কিত।
🔴ইবনু মাসউদ (রহ.) বলেন:
❝যখন মানুষ লোক দেখানোর জন্য দান করে, তখন তা আল্লাহর কাছে মূল্যহীন হয়।❞ 📚 মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা – ৩৭৪১০
🔴ইমাম মালিক (রহ.) বলেন:
❝বিয়েতে ফিজুল খরচ বিদআত। রাসূল ﷺ ও সাহাবায়ে কেরাম এরূপ কিছু করেননি।❞
📚 আল-ইস্তিযকার – ইবন আব্দুল বার, ৫/২০৩
🔴ইবনু সিরীন (রহ.) বলেন:
❝যে বিয়ে করতে গিয়ে লোক দেখানো উৎসব করে, সে বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি থেকে দূরে সরে যায়।❞
📚 আল-যুহদ – ইবনুল মুবারক, হাদীস: ৬৬৫
🔴হাসান বসরী (রহ.) বলেন:
“যে ব্যয় দেখানোর জন্য করে, সে কিয়ামতের দিনে লাঞ্ছিত হবে।”
📚 হিলইয়াতুল আওলিয়া, ২/১৪৩
🌟শরিয়তসম্মত পন্থা:
· বিয়েতে সাধ্যের মধ্যে খরচ করা।
· সরলতা বজায় রাখা এবং অপচয় এড়ানো।
· মেহমানদের আপ্যায়ন করা, তবে অতিরঞ্জন এড়ানো।
· ওয়ালিমার আয়োজন সুন্নাহ অনুযায়ী সাধারণভাবে করা।
রেফারেন্স:কুরআন: সূরা আল-ইসরা (১৭:২৬-২৭), সূরা আল-আনআম (৬:১৪১), 📚 সূরা নিসা ৪:৩৮
হাদিস: সহিহ বুখারী (৫১৫৩, ৫১৯৭), সহিহ মুসলিম (১৭৩৬), সুনান আবু দাউদ (২১২৩)
সালাফ: ইমাম আহমদ (আল-মুগনী, খণ্ড ৭), ইবনে তাইমিয়া (মাজমু ফাতাওয়া, খণ্ড ৩২), ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (কিতাবুত তাওহীদ).
🔴১৭. আউলিয়ার দরগায় গিয়ে বিয়ের আগে মানত করা।
🔸প্রথমে সংজ্ঞা:
মানত মানে: কেউ যদি কোনো ইবাদত (নামাজ, রোযা, কুরবানি ইত্যাদি) নিজের ওপর ওয়াজিব করে নেয় শর্তসাপেক্ষে (যেমন: “আমার বিয়ে হলে আমি দরগায় চাদর দিব” বা “আমি অমুক আউলিয়াকে মিষ্টি দিব”) — এটাই মানত।
❌ প্রচলিত ভুল:
“ফলান দরগায় মানত করলে ভালো বর/বউ মেলে।”
✅ ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি:
“আল্লাহর সাথে কাউকে আহ্বান করো না।”
"তারা মানত পূর্ণ করে এবং তারা ভয় করে সেই দিনকে, যার অনিষ্ট সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে।"
📚 সূরা আল-জিন: ১৮, সূরা আল-ইনসান (৭৬:৭):
🔹নবী ﷺ বলেছেন: অন্য কারো নামে মানত করা = শিরক
📕 হাদীস:
“যে কেউ মানত করে আল্লাহর আনুগত্য করবে, সে মানত পূরণ করুক। আর কেউ যদি গোনাহের মানত করে, পূরণ করা জায়েয নয়।”
📚 সহীহ বুখারী: হাদীস ৬৬৯৬, ৬৬৫০
তাই, দরগার নামে মানত করা মানেই এক প্রকার আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কিছুর জন্য মানত করে যা শরিয়তের পরিপন্থী, তা পূর্ণ করা যাবে না।"
ব্যাখ্যা: দরগায় গিয়ে আউলিয়ার মাধ্যমে বিয়ের জন্য মানত করা যদি শরিয়তবিরোধী হয় (যেমন: আউলিয়াকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা), তবে তা নিষিদ্ধ।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১৬৩৮
📕সালাফদের মতামত:
সালাফে সালেহীন (প্রথম তিন প্রজন্মের মুসলিম পণ্ডিত ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব) কবরে গিয়ে দোয়া বা মানত করার ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন। তারা শিরক ও বিদআত এর বিরুদ্ধেই তারা হুঁশিয়ার করেছেন।
🌟ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বলেন,
তিনি বলেছেন, “কবরে গিয়ে দোয়া করা বা মানত করা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে প্রার্থনার সাথে জড়িত হয়, তবে তা শিরক।”
রেফারেন্স: আল-মুগনী, ইবনে কুদামা, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৫৫৮।
🌟ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন,
তিনি বলেছেন, ❝আউলিয়ার কবরে গিয়ে তাদের কাছে কিছু চাওয়া বা মানত করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, দোয়া ও মানত শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য হবে।”
রেফারেন্স: মাজমু ফাতাওয়া, খণ্ড ২৭, পৃষ্ঠা ৬৮।
🌟ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রহ.) বলেন,
তিনি বলেছেন, ❝দরগায় গিয়ে মানত করা বা আউলিয়ার কাছে সাহায্য চাওয়া জাহিলিয়া যুগের প্রথার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা ইসলামে নিষিদ্ধ।❞
রেফারেন্স: কিতাবুত তাওহীদ, অধ্যায়: কবরে গিয়ে দোয়া করার হুকুম।
🌟ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন:
❝আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মানত করা, কুরবানি করা, অথবা তাদের দরগায় গিয়ে চাদর দেয়া — এই সব কাজ মূলত শিরকিয় কর্মকাণ্ড, যা ইসলামে নিষিদ্ধ।❞
📚 রেফারেন্স: ইগাসাতুল লাহফান ১/৩৯০
🌟 ইমাম মালিক (রহ.) বলেন:
❝আমি জানি না কেউ নবী ﷺ- এর কবর যিয়ারত করতে গিয়ে দরগার কাছে গিয়ে দো‘আ করত, বরং তাঁরা কেবল সালাম দিতেন।❞
📚 (ইবনু তইমিয়া, আস-সারিমুল মাসলূল, ১/৪৪৭)
🔹সাহাবা-তাবেঈনের যুগে কেউ কবর বা দরগায় মানত করেনি।
✅ কোন ধরনের মানত করা জায়েয?
শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদতের মানত:
যেমন: “আল্লাহ আমার এই দুঃসময় কেটে গেলে, আমি রোজা রাখব/নামায পড়ব/কোরআন খতম দিব।”
📚 সহীহ বুখারী: ৬৬৯৬
🔴বিশ্লেষণ এবং হুকুম:ইসলামে মানত করা জায়েজ, তবে নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করতে হবে:
মানত শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য হতে হবে।
মানতের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি শরিয়তসম্মত হতে হবে।
মানতের মাধ্যমে শিরক বা বিদআতের কোনো কাজ জড়িত থাকতে পারবে না।
রেফারেন্স:কুরআন: সূরা আল-ইনসান (৭৬:৭), সূরা আল-বাকারা (২:২৭০) হাদিস: সহিহ বুখারী (৬৬৫০), সহিহ মুসলিম (১৬৩৮), সুনান আবু দাউদ (৩৩১৩)
🟢 উপসংহারঃ
ইসলামে বিয়েতে বিদআত বা কুসংস্কার গ্রহণ হারাম।
সারলতা, তাকওয়া, ওয়া'লিমা ও অনুসরনীয় সুন্নাহ ছাড়া অন্য কিছু দরকার নেই।
আউলিয়াদের দরগায় গিয়ে বিয়ের আগে মানত করা ইসলাম অনুযায়ী শিরক। এর কোনো বৈধতা কুরআন-সুন্নাহ বা সালাফদের কাছ থেকে প্রমাণিত নয়। বরং ইসলাম কেবল আল্লাহর জন্য মানত করার অনুমতি দেয়।
The post was created by Rasikul India 🌟 প্রচারে- রাসিকুল ইসলাম |



0 Comments