[তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মসজিদে তারাবিহ নামাজ আদায়ের বিধান]
তারাবিহ
নামাজ এমন এক ইবাদত যা রমজানের অনেক সুন্দর স্মৃতি বহন করে। যেখানে মুসলমানদের ঐক্য
ও সম্মিলন ঘটে, সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত শোনা যায় এবং দুআ ও কান্নাকাটির মাধ্যমে
আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়।
যেহেতু
ইবাদতের মূল লক্ষ্য আল্লাহর কবুলিয়ত এবং জান্নাতের সর্বোত্তম প্রতিদান লাভ করা, তাই
প্রত্যেক নিষ্ঠাবান ব্যক্তির উচিত এর বিধান ও আদব সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখা। যাতে
এর সওয়াব পরিপূর্ণভাবে পাওয়া যায় এবং একে বিদআত ও ভুলভ্রান্তি থেকে মুক্ত রাখা যায়।
এজন্য আমি এই নামাজের কিছু সূক্ষ্ম মাসআলা ও প্রয়োজনীয় ফিকহী তথ্য একত্রিত করেছি:
তারাবিহ নামাজ আদায়ের পদ্ধতি:
নিয়ত:
মনে মনে তারাবিহ নামাজের নিয়ত করা।
দুই
রাকাত করে পড়া: প্রতি দুই রাকাত পর সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ
করা।
কিরাত
ও খুশু: তারাবিহ-তে দীর্ঘ কিরাত ও ধীরস্থিরভাবে রুকু-সেজদা
করা মুস্তাহাব।
বিতর
ও কুনুত: তারাবিহ শেষে বিতর নামাজ আদায় করা এবং শেষ
রাকাতে 'দোয়ায়ে কুনুত' পাঠ করা রুকুর পর দুয়া করা।
সমাপ্তি:
বিতর শেষে নবীজি (সা.)-এর সুন্নাত অনুযায়ী উচ্চস্বরে তিনবার "সুবহানাল মালিকিল
কুদ্দুস" বলা।
একটি সুন্নাহ যা বর্তমানে খুব কম পালিত হয়
বিতর
নামাজের সালামের পর পঠিত যিকির: "সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস, রাব্বুল মালাইকাতি
ওয়ার রূহ"।
২.
পরিচ্ছেদ: বিতরের পর ‘সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস’ বলা:
মাসআলা:
বিতর নামাজ শেষ করে তিনবার (সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস)
বলা
মুস্তাহাব। এবং তৃতীয়বার বলার সময় আওয়াজ দীর্ঘ করা (টেনে বলা) সুন্নাত।
অর্থ:
"পবিত্রতা বর্ণনা করছি সেই মহান সত্তার, যিনি রাজাধিরাজ এবং অত্যন্ত পূত-পবিত্র।"
যাবতীয় প্রশংসা
আল্লাহর এবং সালাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বর্ষিত হোক। বিতর নামাজের সালাম
ফিরানোর পর এই যিকিরের অধ্যায়ে বলা হয়েছে: “সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস” (পবিত্রতা
ঘোষণা করছি সেই মহান সত্তার, যিনি রাজাধিরাজ এবং অত্যন্ত পূত-পবিত্র) এটি তিনবার বলবে।
তৃতীয়বার বলার সময়
আওয়াজ উঁচু করবে এবং দীর্ঘ লয়ে বলবে। এছাড়া অতিরিক্ত হিসেবে “রাব্বুল মালাইকাতি
ওয়ার রূহ” (যিনি ফেরেশতাকুল ও রূহের—অর্থাৎ জিবরাঈলের—প্রতিপালক) যোগ করবে।
উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত (দারা
কুতনীর বর্ণনা):
রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন বিতরের সালাম ফিরাতেন,
তখন তিনবার ‘সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস’ বলতেন এবং শেষবার আওয়াজ দীর্ঘ করে বলতেন:
‘রব্বুল মালাইকাতি ওয়ার-রূহ’ (ফেরেশতাকুল ও রূহ-এর প্রতিপালক)।
সূত্র: সুনানে
দারা কুতনী (১৬৬০)।
হাদিসের বর্ণনা ও
রেফারেন্সঃ
আব্দুর
রহমান ইবনে আবযা (রা.)-এর বর্ণনা: রাসূলুল্লাহ (সা.)
বিতর নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা’,
‘কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন’ এবং ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পড়তেন।
নামাজ
শেষে ফিরে যাওয়ার সময় তিনি তিনবার ‘সুবহানাল
মালিকিল কুদ্দুস’ বলতেন এবং তৃতীয়বারে আওয়াজ উঁচু করতেন।
রেফারেন্স:
আবু দাউদ (১/৪৪১), (১৪৩০);
নাসায়ী (১৬৯৯), ইমাম আহমাদ (২৪/৭২) এবং শেখ আলবানী একে সহিহ বলেছেন।
২. হাদিসের বিশুদ্ধতা ও রাবী বিশ্লেষণ
(Authentication):
এই হাদিসটির বিশুদ্ধতা নিয়ে ইমাম ও মুহাদ্দিসগণের
মতামত নিম্নরূপ:
·
ইমাম আবু দাউদ:
তিনি এটি বর্ণনা করে মৌনতা অবলম্বন করেছেন, যা তার কাছে দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার
চিহ্ন।
·
ইমাম নববী:
এর সনদকে ‘সহিহ’ বলেছেন। [আল-আযকার: ২৪৯]
·
ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী:
একে ‘সহিহ’ বলেছেন। [নাতাইজুল আফকার: ৩/২১]
·
শেখ আলবানী:
একে ‘সহিহ’ হিসেবে সত্যায়ন করেছেন। [সহিহ আবু দাউদ: ৫/১৬৬]
·
ইমাম যাহাবী ও ইবনুল মুলাক্কিন:
তারা সনদের কিছু রাবী (যেমন ইবনে ইউনুস বা মুহাম্মদ ইবনে আনাস) সম্পর্কে সমালোচনা থাকলেও
সামগ্রিকভাবে এর অন্য সূত্রগুলোকে শক্তিশালী বলেছেন।
আইম্মায়ে
কেরামের অভিমত:
১.
ইমাম নববী (রহ.) বলেন:
"বিতর
নামাজের পর তিনবার 'সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস' বলা মুস্তাহাব।"
·
রেফারেন্স:
আল-মাজমু' শারহুল মুহাযযাব (৪/১৬)।
২.
ইমাম ইবনে কুদামা (রহ.) বলেন:
"মুস্তাহাব
হলো বিতর শেষ করে তিনবার 'সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস' বলা এবং তৃতীয়বার বলার সময় আওয়াজ
দীর্ঘ করা।"
● রেফারেন্স: আল-মুগনী (২/১২২)।
৩.
আল-লাজনা আদ-দাহিমা (স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড):
"নবী
করীম (সা.) যখন বিতর থেকে সালাম ফিরাতেন, তখন তিনবার 'সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস' বলতেন।"
● রেফারেন্স: ফাতাওয়া আল-লাজনা
আদ-দায়িমা, ২য় খণ্ড (৬/৬০)।
৩.
'আল-মালিক' ও 'আল-কুদ্দুস' শব্দের বিশ্লেষণঃ
·
সুবহান:
এটি তাসবিহ বা পবিত্রতা ঘোষণার একটি পরিভাষা। এর মূল অর্থ হলো আল্লাহকে যাবতীয় দোষ-ত্রুটি
থেকে মুক্ত রাখা।
·
আল-মালিক:
যিনি মহাবিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি এবং সকল বিষয়ের চূড়ান্ত পরিচালক।
·
আল-কুদ্দুস:
যিনি পবিত্রতার সর্বোচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত। ইমাম কাতাদাহ (রহ.) এর মতে এর অর্থ 'বরকতময়'।
অধিকাংশ আলেমের মতে এর অর্থ—যিনি যাবতীয় ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা থেকে পবিত্র।
·
ইবনে কাইয়্যিম (রহ.) বলেন:
এটি এমন এক পবিত্রতা যা আল্লাহর মহানুভবতার সাথে যুক্ত। তিনি তাঁর নাম, গুণ ও কর্মে
সবদিক থেকে নিখুঁত। তাঁর কোনো স্ত্রী, সন্তান, ক্লান্তি বা ঘুমের প্রয়োজন নেই।
ঘ.
'রাজাধিরাজ' ও 'পবিত্র' এর মিলন: আল্লাহ তাআলা
দুনিয়ার রাজাদের মতো নন। জাগতিক রাজাদের শাসন ক্ষমতা থাকলেও তাদের চরিত্রে জুলুম
বা মানবিক ত্রুটি থাকতে পারে। কিন্তু আল্লাহ যেমন ‘মালিক’ (ক্ষমতাবান), তেমনি তিনি
‘কুদ্দুস’ (পবিত্র); অর্থাৎ তাঁর শাসন ক্ষমতা সকল প্রকার অন্যায় ও জুলুম থেকে
পবিত্র ও নিরাপদ।
৪. 'রূহ':
বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
হাদিসে বর্ণিত
"রব্বুল মালাইকাতি ওয়ার-রূহ" অংশে 'রূহ' এর ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে জারীর/মুফাসসিরগণ
৬টি মত দিয়েছেন:
১.
তিনি একজন মহান ফেরেশতা।
২.
তিনি জিবরাঈল (আ.)। (এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী মত; এখানে সাধারণ ফেরেশতাদের পর বিশেষ ফেরেশতার
উল্লেখ তাঁর মর্যাদা প্রকাশের জন্য)।
৩.
এমন এক সৃষ্টি যাদের আকৃতি মানুষের মতো।
৪.
মানুষের আত্মা বা রূহ।
৫.
স্বয়ং বনী আদম (ইবনে কাসীর রহ. এর পছন্দনীয় মত)।
৬.
এর দ্বারা কুরআনুল কারীম উদ্দেশ্য।
৫. ফিকহী
ও হাদিসতাত্ত্বিক পর্যালোচনা (তাহকিক)
·
রাকাত ও কিরাত:
বিতর তিন রাকাত পড়া এবং তাতে নির্দিষ্ট সূরাগুলো (আ'লা, কাফিরুন, ইখলাস) পড়া সুন্নাত।
·
কুনুত:
বর্ণনায় রুকুর আগে কুনুত পড়ার উল্লেখ এসেছে, তবে কোনো কোনো মুহাদ্দিস (যেমন সুফিয়ান
সাওরী) এর বিরোধিতা করেছেন।
·
উচ্চস্বরে বলা:
সালামের পর তৃতীয়বার উচ্চস্বরে জিকির করা সুন্নাত, যাতে আশেপাশে যারা নামাজ পড়ছে তারা
সচেতন হতে পারে।
·
হাদিসের মান:
এই আমলটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। ইমাম নববী, ইবনে হাজার, আলবানী এবং আরও অনেক ইমাম একে
'সহিহ' বা 'হাসান' বলেছেন।
তথ্যসূত্র
(References in Arabic Text): ১. সুনানে দারাকুতনী
(১৬৬০) ২. সুনানে আবু দাউদ (১৪৩০) ৩. সুনানে নাসায়ী (১৬৯৯) ৪. মুসনাদে আহমাদ (২৪/৭২)
৫. সহিহ মুসলিম (৪৮৭ - রুকু ও সিজদার যিকির প্রসঙ্গে) ৬. আল-আযকার (ইমাম নববী) ৭. ফাতাওয়া
আল-লাজনা আদ-দায়িমা (সৌদি ফতোয়া বোর্ড)
সালাতুত তারাবিহ-এর সুন্নাত পদ্ধতি—
এটি
মসজিদে জামায়াতের সাথে আদায় করা ((১))। এটিই জমহুর বা
অধিকাংশ ফকিহ বা ফিকহবিদগণ— যথা: হানাফি ((২)),
মালিকি ((৩)), শাফেয়ি ((৪))
এবং হাম্বলি ((৫)) মাযহাবের ইমামগণ এই মত পোষণ করেছেন।
শরীয়তের দলিলসমূহ:
১. আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা:
তিনি
বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এক রাতে মসজিদে নামাজ পড়লেন এবং একদল লোক তাঁর সাথে নামাজ
আদায় করল। পরবর্তী রাতেও তিনি নামাজ পড়লেন এবং মানুষের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেল। অতঃপর
তৃতীয় বা চতুর্থ রাতে তারা সমবেত হলেও রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের নিকট বের হলেন না। সকালে
তিনি বললেন:
"তোমরা
যা করেছ আমি তা দেখেছি। কেবল এই আশঙ্কা ছাড়া তোমাদের নিকট বের হতে আমাকে আর কোনো কিছু
বাধা দেয়নি যে— পাছে এটি তোমাদের ওপর ফরজ করে দেওয়া হবে।"
বর্ণনাকারী বলেন: "এটি ছিল রমজান মাসের ঘটনা।"
—
এটি ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন ((৬))।
— ((বুখারি: ১১২৯, মুসলিম: ৭৬১; শব্দবিন্যাস মুসলিমের))।
দলিল
গ্রহণের পদ্ধতি: নবী কারীম (সা.) জামায়াতের সাথে তারাবিহ
নামাজ আদায় করেছেন। আর এই জামায়াত অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে তাঁর একমাত্র বাধা ছিল উম্মতের
ওপর এটি ফরজ হয়ে যাওয়ার ভয়। এর অর্থ হলো— এটি জামায়াতের সাথে আদায় করা একটি সুন্নাত।
২. আব্দুর রহমান ইবনে আব্দিল ক্বারি-র বর্ণনা:
তিনি বলেন: "আমি রমজানের এক রাতে উমর বিন খাত্তাব (রা.)-এর সাথে মসজিদের দিকে
বের হলাম। সেখানে দেখলাম মানুষ বিচ্ছিন্ন ও বিভিন্ন দলে বিভক্ত। কেউ একা নামাজ পড়ছে,
আবার কেউ নামাজ পড়ছে এবং একদল লোক তার সাথে ইকতিদা করছে।
উমর
(রা.) বললেন: 'আমি মনে করি, যদি আমি এই লোকদের একজন ক্বারি বা ইমামের পেছনে একত্রিত
করে দিতাম, তবে তা অনেক বেশি সুন্দর হতো।' অতঃপর তিনি সংকল্প করলেন এবং উবাই ইবনে
কাব (রা.)-এর পেছনে সকলকে একত্রিত করে দিলেন। এরপর অন্য এক রাতে আমি তাঁর সাথে বের
হলাম এবং দেখলাম মানুষ তাদের ইমামের পেছনে নামাজ পড়ছে। তখন উমর (রা.) বললেন: 'এই
নতুন পদ্ধতিটি (বিদআত) কতই না চমৎকার! (৭)
তবে
রাতের যে সময় তারা ঘুমিয়ে থাকে (শেষ রাত), তা বর্তমান সময় (শুরু রাত) থেকে উত্তম।'
কারণ মানুষ রাতের প্রথম ভাগেই কিয়াম (তারাবিহ) আদায় করত।" — এটি ইমাম বুখারি বর্ণনা
করেছেন ((৮))।((বুখারি:
২০১০))।
তথ্যসূত্র ও টীকা (রেফারেন্স নং):
((১))
কারণ তারাবিহ নামাজ হলো ইসলামের প্রকাশ্য নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি ঈদের নামাজের
সদৃশ।
((২)) দেখুন: ((আস-সারখাসি রচিত আল-মাবসুত: ২/১৩২)), ((আল-কাসানি রচিত বাদায়েউস সানায়ে: ১/২৮৮))।
আল-কাসানি বলেন:
"উলামায়ে কেরাম মসজিদের জামায়াতের পদ্ধতির ব্যাপারে মতভেদ করেছেন যে— এটি কি
'সুন্নাতে আইন' (প্রত্যেকের জন্য আলাদা সুন্নাত) নাকি 'সুন্নাতে কিফায়া'? কেউ কেউ বলেছেন
এটি সুন্নাতে কিফায়া; অর্থাৎ যদি মসজিদের কিছু লোক জামায়াতের সাথে তা আদায় করে, তবে
বাকিদের ওপর থেকে (মসজিদে পড়ার) দায়িত্ব রহিত হবে। কিন্তু যদি মসজিদের সকল লোক মসজিদে
জামায়াত ত্যাগ করে, তবে তারা মন্দ কাজ করল এবং গুনাহগার হবে। আর যে ব্যক্তি একা বা
জামায়াতে বাড়িতে এটি পড়বে, সে তারাবিহর সওয়াব পেলেও মসজিদ ও (বড়) জামায়াতের সুন্নাত
ত্যাগের কারণে সেই বিশেষ সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে।"
((৩)) দেখুন: ((আন-নাফরাউয়ি রচিত আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানি: ২/৭২৮)),
((হাশিয়াতুল আদুয়ি: ১/৫৮০))।
মালিকি মাযহাবের
মতে যদিও মসজিদে পড়া সুন্নাত, কিন্তু যদি কারো নিয়ত ও সংকল্প দৃঢ় হয় এবং একাকী পড়লে
আলস্য না আসে, তবে তার জন্য বাড়িতে পড়া উত্তম— যদি এর ফলে মসজিদ মুসল্লিশূন্য না হয়ে
পড়ে।
((৪))
দেখুন: ((ইমাম নববী রচিত আল-মাজমু': ৪/৭)),
((খতিব আশ-শারবিনি রচিত মুগনির মুহতাজ: ১/২২৬))।
((৫)) দেখুন: ((ইবনে কুদামা রচিত আল-মুগনি: ৩/৪৫৬)), ((ইবনে মুফলিহ রচিত আল-ফুরূ': ২/৩৭৩))।
((৬)) ইমাম বুখারি এটি
বর্ণনা করেছেন ((হাদিস নং: ১১২৯))
এবং ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন ((হাদিস নং:
৭৬১)); শব্দবিন্যাস ইমাম মুসলিমের।
((৭))
ইবনে আব্দিল বার বলেন:
"উমর
(রা.)-এর উক্তি— 'কতই না চমৎকার বিদআত'— এখানে আভিধানিক অর্থে 'বিদআত' মানে যা আগে
ছিল না এমন কিছুর উদ্ভাবন। দ্বীনের মধ্যে যা সুন্নাহর পরিপন্থী তা মন্দ বিদআত। কিন্তু
যা শরীয়ত ও সুন্নাহর মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক নয়, তা উত্তম বিদআত; যেমন উমর (রা.)
বলেছেন। কারণ তিনি যা করেছেন তার মূল ভিত্তি সুন্নাহর মধ্যেই বিদ্যমান ছিল।" ((আল-ইসতিযকার:
৫/১৫৩))।
((৮)) ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন ((হাদিস নং: ২০১১০))।



0 Comments