[চতুর্থ অনুচ্ছেদ: নারীদের
জন্য মসজিদে তারাবিহ নামাজ আদায়ের বিধান]
নারীদের জন্য রমজানের
রাতের সালাত (তারাবিহ) নিজ ঘরে আদায় করাই উত্তম ((১))।
তবে যদি ঘরে পড়ার
কারণে নামাজ অবহেলা বা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে, অথবা মসজিদে পড়লে অধিক একাগ্রতা (খুশু-খুজু)
ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়, তবে সে ক্ষেত্রে মসজিদে পড়াই তার জন্য অধিক উত্তম ((২))।
তথ্যসূত্র ও বিস্তারিত ফিকহী টীকা (রেফারেন্স নং):
((১)) ঘরে পড়ার শ্রেষ্ঠত্ব সংক্রান্ত ওলামাদের অভিমত:
হানাফি
মাযহাব: শাইখিজাদাহ (রহ.) তার মাজমাউল আনহুর গ্রন্থে বলেন:
"নারীরা
দিবাকালীন বা রাতের কোনো নামাজের জামায়াতেই উপস্থিত হবে না। কারণ নবীজি (সা.) বলেছেন:
'নারীর অন্দরমহলে নামাজ পড়া তার বাড়ির আঙ্গিনায় নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম; আর বাড়ির আঙ্গিনায়
নামাজ পড়া তার মহল্লার মসজিদে নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম। বস্তুত তাদের ঘরই তাদের জন্য
মঙ্গলজনক।' এছাড়া তাদের বের হওয়ার মধ্যে ফিতনার আশঙ্কা থাকে; তবে অতি বৃদ্ধা নারী ফজর,
মাগরিব, এশা ও ঈদের জামায়াতে শরিক হতে পারেন।"
((মাজমাউল
আনহুর: ১/১৬৪))।
মালিকি মাযহাব:
রেঈনী (রহ.) তাঁর (মাওয়াহিবুল জলীল): গ্রন্থে ইবনে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন:
"তোমরা তোমাদের নারীদের মসজিদে যেতে বাধা দিও না, তবে তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম।"
এটি প্রমাণ করে যে, তাদের মসজিদে যাওয়া জায়েজ হলেও তা বর্জন করা অধিক পছন্দনীয়।
((মাওয়াহিবুল
জলীল: ২/৪৫১))।
ইমাম
নববী (শাফেয়ি): তাঁর ((আল-মাজমু' গ্রন্থে বলেন:
""নারীদের জন্য মসজিদে যাওয়ার চেয়ে নিজ ঘরে জামায়াতবদ্ধ হয়ে নামাজ পড়া উত্তম...
আমাদের (শাফেয়ি) মাযহাবের আলেমগণ বলেন—নারীর জন্য ঘরের যতটা ভেতরে পর্দা ঘেরা জায়গায়
নামাজ পড়া সম্ভব, সেটিই তার জন্য শ্রেষ্ঠ।" ((আল-মাজমু':
৪/১৯৮))।
হাম্বলি
মাযহাব (আল-ফুরূ'): ইবনে মুফলিহ (রহ.) বলেন: "নারীর
জন্য ঘরই সর্বোত্তম; আমাদের মাযহাবের ইমামগণ নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করেছেন।" ((আল-ফুরূ':
২/৪৫২))।
মুফাসসির ও মুহাদ্দিসগণের অভিমত:
ইমাম
জাসসাস: * ইমাম জাসসাস (রহ.) বলেন, যদি তার নামাজ
ঘরে পড়া উত্তম হয়, তবে তার ইতিকাফও ঘরেই হবে।
((আহকামুল কুরআন: ১/৩০৩))।
হাফেজ
ইবনে হাজার (রহ.): "গোপনে নামাজ পড়া উত্তম হওয়ার
কারণ হলো—এতে ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকা যায়। বর্তমানে নারীরা যেভাবে সাজগোজ ও সৌন্দর্য
প্রদর্শনী শুরু করেছে, তাতে ঘরে নামাজ পড়ার গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।" ((ফাতহুল
বারি: ২/৩৪৯))।
আল্লামা
শানক্বিতী: (রহ.)
বলেন, "জেনে রাখুন, নারীদের জন্য মসজিদে নববীতে
নামাজ পড়ার চেয়েও ঘরে নামাজ পড়া উত্তম। নবীজি (সা.)-এর বাণী—'আমার এই মসজিদে এক রাকাত
নামাজ অন্য মসজিদের তুলনায় হাজার গুণ উত্তম'—এই ঘোষণাটি কেবল পুরুষদের জন্য খাস বা
সুনির্দিষ্ট। নারীদের জন্য নিজ ঘরে নামাজ পড়াই মসজিদের জামায়াতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।"
((আদওয়াউল বায়ান: ৫/৫৪৭))।
লাজনা
দায়িমা (ফাতাওয়া কমিটি): (সৌদি স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড) শাইখ ইবনে
বাযের (রহ.)- এর সভাপতিত্বে কমিটি ফতোয়া দিয়েছে— "নারীর জন্য ঘরে নামাজ পড়া মসজিদের
চেয়ে উত্তম; তা ফরজ নামাজ হোক বা নফল (তারাবিহ)।"
((ফাতাওয়া
আল-লাজনা আদ-দায়িমা: ৭/২০১))।
((২)) বিশেষ পরিস্থিতিতে মসজিদে যাওয়ার ফজিলত ও শর্তাবলি:
কখন মসজিদ উত্তম হতে পারে:
শাইখ
ইবনে উসাইমিন (রহ.) বলেন: "মূলত ঘরে নামাজ পড়াই শ্রেষ্ঠ।
কিন্তু যদি মসজিদে পড়লে তার আগ্রহ ও একাগ্রতা বেশি থাকে এবং ঘরে পড়লে নামাজ নষ্ট হওয়ার
ভয় থাকে, তবে তার জন্য মসজিদই উত্তম হতে পারে।
কারণ,
এই শ্রেষ্ঠত্বটি ইবাদতের 'প্রাণ' বা মূল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর ঘরের শ্রেষ্ঠত্বটি
কেবল ইবাদতের 'স্থান' এর সাথে সংশ্লিষ্ট। কোনো ইবাদতের স্থানের চেয়ে তার গুণগত মান
বা খুশু-খুজু রক্ষা করা অধিক অগ্রগণ্য। তবে শর্ত হলো—নারী যখন বের হবে, তখন তাকে অবশ্যই
পূর্ণ পর্দা বজায় রেখে বের হতে হবে; কোনো প্রকার সুগন্ধি বা সৌন্দর্য প্রদর্শন করা
যাবে না।" ((আল-লিক্বা আশ-শাহরি: সংখ্যা-৮, পৃ. ৭৬))।
১.
প্রথম হাদিস (আল-জামি’ আস-সাগীর)
অনুবাদ: "নারীর তার ঘরের ভেতরের কামরায় (শয়নকক্ষ)
নামাজ পড়া তার বারান্দায় (বা সামনের প্রশস্ত কক্ষে) নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম। আর তার
ছোট কুঠুরিতে (কামরার ভেতরে থাকা আরও নিভৃত স্থানে) নামাজ পড়া তার ঘরের প্রধান কামরায়
নামাজ পড়ার চেয়েও উত্তম।"
রেফারেন্স ও তাহকিক:
ü রাবী: উম্মে সালামাহ (রা.)।
ü মুহাদ্দিস: ইমাম সুয়ূতী।
ü উৎস: আল-জামি’ আস-সাগীর, হাদিস নং: ৫০৭৪।
ü তাহকিক: সহীহ
ü তাকরীজ: ইমাম তাবারানি তার 'আল-আওসাত' (৯১০১) গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া ইমাম আহমাদ (২৬৫৪২), ইবনে খুজাইমা (১৬৮৩) এবং বায়হাকী (৫৪২৬) এটি সমার্থে বর্ণনা করেছেন।
২.
দ্বিতীয় হাদিস (আল-মু'জামুল আওসাত - তাবারানি)
অনুবাদ:
"নারীর তার ঘরের (ভেতরের কক্ষে) নামাজ পড়া তার হুজরায় (বারান্দা বা কক্ষের সামনের
অংশে) নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম। তার হুজরায় নামাজ পড়া তার বাড়ির (ভেতরের আঙিনা বা চত্বরে)
নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম। আর তার বাড়ির আঙিনায় নামাজ পড়া তার বাইরের (অন্যান্য স্থানে)
নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম।"
রেফারেন্স:
আল-মু'জামুল আওসাত (তাবারানি), খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৪৮, হাদিস নং: ৯১০১।
তাহকিক:
ইমাম তাবারানি বলেছেন, উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে এই সনদেই কেবল হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে
এবং ইব্রাহিম বিন আল-মুনজির এতে একক রাবী।
৩.
তৃতীয় হাদিস (মুসনাদে আহমাদ ও ইবনে খুজাইমা)
অনুবাদ:
"নারীদের জন্য সর্বোত্তম নামাজের স্থান (মসজিদ) হলো তাদের ঘরের একদম ভেতরের অংশ
(কোণ বা নিভৃত কক্ষ)।"
রেফারেন্স:
মুসনাদে
আহমাদ: হাদিস নং ২৬৫৪২ (রিসালাহ সংস্করণ, ৪৪/১৬৪)।
সহীহ
ইবনে খুজাইমা: হাদিস নং ১৬৮৩ (৩/৯২)।
সুনানে
কুবরা (বায়হাকী): হাদিস নং ৫৪২৬ (৬/১১৩)।
তাহকিক:
ইবনে খুজাইমা এটি তার 'সহীহ' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা হাদিসটির নির্ভরযোগ্যতা
নির্দেশ করে।
৪.
দ্বিতীয় হাদিসের অনুবাদ ও তাহকিক
অনুবাদ: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নারীর তার ঘরের ভেতরে (শয়নকক্ষে) নামাজ পড়া তার হুজরায় (কক্ষ সংলগ্ন আঙিনা বা বারান্দা) নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম। তার হুজরায় নামাজ পড়া তার বাড়ির ভেতরে (খোলা চত্বরে) নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম।
আর তার বাড়ির ভেতরে নামাজ পড়া অন্য যেকোনো স্থানে (যেমন মসজিদ
বা বাইরে) নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম।" এরপর তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই নারী যখন (ঘর
থেকে) বের হয়, শয়তান তখন তার দিকে উঁকি মেরে তাকায় (তাকে মানুষের চোখে সুশোভিত করে
দেখায়)।"
রেফারেন্স
ও তাহকিক:
ü রাবী: আওফ বিন মালিক বিন নাদলাহ আবু আল-আহওয়াস (ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত)।
ü মুহাদ্দিস: আল-হাইসামি।
ü গ্রন্থ: মাজমাউজ জাওয়াইদ (২/৩৭)।
ü হুকুম: এর বর্ণনাকারীগণ 'সহীহ' গ্রন্থের বর্ণনাকারী (অর্থাৎ এটি অত্যন্ত শক্তিশালী বা সহীহ)।
ü তাকরীজ: ইমাম তাবারানি তার 'আল-কাবীর' (৯/২৯৫) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আব্দুর রাজ্জাক (৫১১৬) অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
সারসংক্ষেপ ও শিক্ষা:
১. মূল বিধান
অনুযায়ী মহিলাদের জন্য ঘরই ইবাদতের প্রধান কেন্দ্র।
২. যদি মসজিদে
দ্বীনী শিক্ষা বা নামাজের মাধ্যমে ঈমানি শক্তি বৃদ্ধির পরিবেশ থাকে, তবে সুগন্ধি ও
সাজসজ্জা বর্জন করে পর্দা বজায় রেখে মসজিদে যাওয়া জায়েজ ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে
উত্তম।
৩. ঘরের কোণে
নামাজ পড়ার মাধ্যমে মহিলা অধিক সওয়াব পেতে পারেন, কারণ এতে পর্দার পরিপূর্ণতা
রক্ষা হয়।
৪) তবে
বর্তমানে প্রচলিত জালসা মেলার চাইতেও উত্তম মসজিদে যাওয়া।
যারা বলে
মসাজিদে গেলে ফিতনা হয় তাদের জন্য--
*ফিতনা মাসজিদে
হয় ? না বর্তমান জালসায়, রাস্তা ঘাটে হয় প্রশ্ন আপনার কাছে?
আল্লাহর
মসজিদগুলোতে আসতে চাইলে বাধা না দেওয়া হাদিসঃ
১. হাদিসের অনুবাদ:
"তোমরা
আল্লাহর দাসীদের (নারীদের) আল্লাহর মসজিদগুলোতে আসতে বাধা দিও না; তবে তাদের
ঘরগুলোই তাদের জন্য অধিকতর উত্তম।"
২. রেফারেন্স ও
উৎসঃ
সহীহ বুখারী:
হাদিস নং ৯০০ (সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণিত)।
সহীহ মুসলিম:
হাদিস নং ৪৪২ (সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণিত)।
মু'জাম ইবনুল
মুকরী: হাদিস নং ১৩৩৮ (পূর্ণাঙ্গ শব্দে বর্ণিত)।
সুনানে আবু
দাউদ: হাদিস নং ৫৬৭ (এই পূর্ণাঙ্গ শব্দে
সেখানেও বর্ণিত হয়েছে)।
৩. তাহকিক ও
মুহাদ্দিসগণের মন্তব্য
মুহাদ্দিস:
শেখ আলবানী (রহ.)।
উৎস:
হিজাবুল মারআহ (পৃষ্ঠা: ৩১)।
হুকুম:
হাদিসটির প্রথম অংশ "লা তামনাউ..." (তোমরা বাধা দিও না) অংশটি মুত্তাফাকুন
আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বিদ্যমান)।
বিশেষ নোট:
হাদিসের শেষ অংশ— "ওবিয়ুতুহুন্না খইরুল
লাহুন্না" (তাদের ঘরগুলোই তাদের জন্য উত্তম)—এই অংশটি বুখারী ও মুসলিমে
নেই, তবে এটি আবু দাউদ ও ইবনুল মুকরীসহ অন্যান্য সুনান গ্রন্থে সহীহ সনদে
বর্ণিত হয়েছে। শেখ আলবানী (রহ.) এই অতিরিক্ত অংশসহ পুরো হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।
৪. হাদিসের প্রেক্ষাপট (শানে ওরুদ), সহীহ বুখারীর (৯০০ নং) বর্ণনা অনুযায়ী:
ওমর (রা.)-এর স্ত্রী আতিকা বিনতে জায়েদ (রা.) মসজিদে
নববীতে ফজর ও এশার জামাতে উপস্থিত হতেন।
তাকে জিজ্ঞেস করা হলো,
"আপনি কেন বের হন? অথচ আপনি জানেন ওমর (রা.) এটি অপছন্দ করেন এবং তিনি
অত্যন্ত আত্মমর্যাদাবান ব্যক্তি।" তিনি উত্তরে বললেন, "তাকে (ওমরকে)
আমার বের হওয়া থেকে বিরত রাখতে কিসে বাধা দেয়?" উত্তরদাতা বললেন,
"রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এই বাণী
তাকে বাধা দেয়: 'তোমরা আল্লাহর দাসীদের আল্লাহর মসজিদে আসতে বাধা দিও না।'"
খ. সহীহ মুসলিম
রাসূলুল্লাহ
(সা.) বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর দাসীদের আল্লাহর মসজিদে আসতে বাধা দিও
না।" সহীহ মুসলিম (হাদিস নং: ৪৪২)
গ. মু'জাম
ইবনুল মুকরি
এই গ্রন্থে
পূর্ণাঙ্গ শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'তোমরা আল্লাহর
দাসীদের আল্লাহর মসজিদে আসতে বাধা দিও না; তবে তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম।'"
মু'জাম ইবনুল মুকরি (হাদিস নং: ১৩৩৮)
৫.
গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা ও শিক্ষাঃ
অনুমতি ও শ্রেষ্ঠত্ব: ইসলাম নারীদের মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে (যদি তারা পর্দা ও ফিতনামুক্ত থাকার শর্ত মেনে চলে), কিন্তু একইসাথে স্পষ্ট করেছে যে, তাদের জন্য ঘরে নামাজ পড়াই সওয়াব ও নিরাপত্তার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ।
শর্তসাপেক্ষ
বের হওয়া: মুহাদ্দিসগণ উল্লেখ করেন যে, নারী যখন
মসজিদে যাবে, তখন তাকে সুগন্ধি (তৈয়্যব) বা অতিরিক্ত সাজসজ্জা বর্জন করে সাধারণ
বেশে বের হতে হবে।
পারিবারিক
শৃঙ্খলা: স্বামী বা অভিভাবক স্ত্রীকে মসজিদে যেতে
নিষেধ না করা উত্তম, তবে ঘরে নামাজ পড়ার ফজিলত বুঝিয়ে বলা সুন্নত।



0 Comments