Subscribe Us

হে পথিক ভবিষ্যৎ বলে কিছু নাই ,আসোল ভবিষ্যৎ হলো পরোকাল।।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: সেহরি দেরি করে খাওয়া 🕙ইজমার ,সালাফদের আলোকে ২০২৬

 

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: সেহরি দেরি করে খাওয়া 🕙

রোজাদারের জন্য ফজর হওয়ার ভয় না থাকলে সেহরি দেরি করে খাওয়া সুন্নাত। সামান্য কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলেও সেহরি আদায় হয়ে যায়।

সূত্র📖 [আল-মুগনী: ৩/১৭৪, ফাতহুল বারী: ৪/১৪০]।

দলিলসমূহ:

প্রথমত: সুন্নাহ থেকে:

যায়েদ বিন সাবিত (রা.) বর্ণনা করেন যে, তারা নবী ﷺ এর সাথে সেহরি খেলেন তারপর সালাতে দাঁড়ালেন। আনাস (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন: "সেহরি ও আজানের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কতটুকু ছিল?" তিনি বললেন: "পঞ্চাশ আয়াত পড়ার মতো সময়।" (ইবনে হাজার বলেন: মাঝারি দৈর্ঘ্যের ৫০ আয়াত)।

 

সূত্র📖 [সহীহ বুখারী: ১৯২১, সহীহ মুসলিম: ১০৯৭, ফাতহুল বারী: ১/৩৬৭]।

সূত্র ও ব্যাখ্যা (রেফারেন্স নম্বর সহ):

·      সাহরীর পরিমাণ: যেকোনো খাদ্য বা পানীয়ের মাধ্যমেই সাহরী সম্পন্ন হয়, যদিও তা পরিমাণে সামান্য হয়। দেখুন: ইবনে কুদামা, আল-মুগনী (৩/১৭৪) এবং ইবনে হাজার আসকালানী, ফাতহুল বারী (৪/১৪০)।

·      হাদীসের সূত্র: সহীহ বুখারী (১৯২১) এবং সহীহ মুসলিম (১০৯৭)।


·      সময়ের ব্যাখ্যা: হাফেজ ইবনে হাজার (রাহ.) বলেন: "পঞ্চাশটি আয়াত বলতে উদ্দেশ্য হলো—মাঝারি দৈর্ঘ্যের আয়াত; যা অনেক দীর্ঘও নয়, আবার খুব ছোটও নয়। এবং পড়ার গতিও খুব দ্রুত নয় কিংবা খুব ধীর নয়।" — ফাতহুল বারী (১/৩৬৭)।

·       অতিরিক্ত সূত্র: বদরুদ্দীন আইনী, উমদাতুল কারী (৫/৭৩)।


হাদীসের সারসংক্ষেপ ও ব্যাখ্যা (শরহ):

হাদীস: আল্লাহর নবী ﷺ এবং জায়েদ বিন সাবিত (রা.) উভয়ে সাহরী খেলেন। যখন তাঁরা সাহরী শেষ করলেন, আল্লাহর নবী ﷺ সালাতের (ফজরের) জন্য দণ্ডায়মান হলেন এবং সালাত আদায় করলেন। আমরা আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: তাঁদের সাহরী শেষ করা এবং সালাতে প্রবেশের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কতটুকু ছিল? তিনি বললেন: একজন মানুষের (স্বাভাবিক গতিতে) পঞ্চাশটি আয়াত পাঠ করতে যতটুকু সময় লাগে।

ü (সহীহ বুখারী: ৫৭৬; মুসনাদে আহমদ: ১৩৪৬০; ইবনে হিব্বান: ১৪৯৭)


ব্যাখ্যার অনুবাদ: সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতিটি বিষয়ে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। এই হাদীসে আনাস (রা.) বর্ণনা করছেন যে, নবী কারীম ﷺ জায়েদ বিন সাবিত (রা.)-এর সাথে সাহরী খেয়েছিলেন। সাহরী হলো ফজর হওয়ার আগে খাবার গ্রহণ করা। সাহরী শেষ করার পর নবীজী ﷺ ফজরের সালাতের জন্য দাঁড়ালেন। সাহরী এবং ফজরের সালাতের মধ্যবর্তী সময়টুকু ছিল তাঁদের স্বাভাবিক পড়ার গতিতে পঞ্চাশটি আয়াত তিলওয়াত করার সময়ের সমান।


এই হাদীস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাসমূহ:

১. নবীজীর উত্তম আচরণ: সাহাবীদের সাথে বসে খাবার খাওয়া নবীজীর বিনয় ও উত্তম চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।

২. সাহরী বিলম্বে খাওয়া: ফজরের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সাহরী পিছিয়ে নেওয়া সুন্নাত।

৩. একত্রে সাহরী খাওয়া: সাহরীতে দলবদ্ধভাবে বা একত্রে খাওয়ার গুরুত্ব।

৪. ইবাদতে মগ্নতা: সাহাবীদের সময়গুলো ইবাদতে মগ্ন থাকতো, তাই তাঁরা সময়ের হিসাবও তিলওয়াতের মাধ্যমে দিয়েছেন।

৫. ফজরের ওয়াক্ত: সুবহে সাদিক উদিত হওয়াই হলো ফজরের শুরুর সময়, যখন থেকে পানাহার হারাম হয়।

৬. সময় নির্ধারণের পদ্ধতি: আরবরা কাজের মাধ্যমে সময় নির্ধারণ করতো; যেমন—বকরি দোহনের সময় বা পঞ্চাশ আয়াত তিলওয়াতের সময়।


দ্বিতীয়ত: ইজমা(ঐকমত্য), সাহরী বিলম্বে করা যে সুন্নাত, এ বিষয়ে 'ইজমা' বা আলেমদের সর্বসম্মত ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন:

ইবনে রুশদ, ইবনে মুফলিহ এবং আল-মারদাভী (রহিমাহুল্লাহ)।

রেফারেন্সঃ [বিদায়াতুল মুজতাহিদ: ১/৩০৭, আল-ফুরু: ৫/৩০, আল-ইনসাফ: ৩/২৩৪]।


মূল উদ্ধৃতি ও রেফারেন্সসমূহ:

১. আল-মারদাভী (রাহ.)-এর বক্তব্য: তিনি বলেন: "(রোজার দুটি সুন্নাত রয়েছে) এর একটি হলো: 'ইফতার দ্রুত করা মুস্তাহাব'—এ বিষয়ে ইজমা রয়েছে। অর্থাৎ যখন সূর্যাস্ত নিশ্চিত হবে।

দ্বিতীয়টি হলো: 'সাহরী বিলম্বে করা মুস্তাহাব'—এ বিষয়েও ইজমা বা ঐকমত্য রয়েছে।"

সূত্র: আল-ইনসাফ (৩/২৩৪)।

২. ইবনে মুফলিহ (রাহ.)-এর বক্তব্য: তিনি বলেন: "যখন সূর্যাস্ত নিশ্চিত হবে, তখন ইফতার দ্রুত করা সুন্নাত—এতে ইজমা রয়েছে। আর সাহরী বিলম্বে করাও সুন্নাত—এতেও ইজমা রয়েছে, যতক্ষণ না ফজর উদিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।"

সূত্র: আল-ফুরু’ (৫/৩০)।

৩. ইবনে রুশদ (রাহ.)-এর বক্তব্য: তিনি বলেন: "আলেমগণ এ বিষয়ে একমত (ইজমা) হয়েছেন যে, রোজার সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো—সাহরী বিলম্বে করা এবং ইফতার দ্রুত করা।"

সূত্র: বিদায়াতুল মুজতাহিদ (১/৩০৭)।


Post a Comment

0 Comments