কৃষিজমি, গবাদি পশু, চাকুরি এবং ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিদের যাকাতের বিধান সম্পর্কে সালাফদের (পূর্বসূরী আলেমগণ) নির্ভরযোগ্য কিতাব এবং কুরআন-হাদিসের আলোকে বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
১. কৃষিজমির যাকাত (ওশর)
ফসলের ওপর যে যাকাত দিতে হয় তাকে শরীয়তের পরিভাষায় 'ওশর' বলা হয়। এর
নিসাব হলো ৫ ওয়াসাক (প্রায় ৬৫০-৭০০ কেজি)।
বিধার (পরিমাণ): ১. যদি জমি বৃষ্টির পানিতে চাষ হয়, তবে মোট
ফসলের
১০%। ২. যদি সেচ বা মেশিনের পানিতে চাষ হয়, তবে মোট ফসলের ৫%।
কুরআনের দলিল: "তোমরা ফসল কাটার দিন তার হক (যাকাত) আদায় করো।" (সূরা আল-আন'আম,
আয়াত: ১৪১)।
হাদিসের দলিল: "যে জমি আকাশ বা ঝরনার পানিতে সিক্ত হয় তাতে ওশর (১০%), আর যা সেচের মাধ্যমে হয় তাতে অর্ধ ওশর (৫%)।" (সহিহ
বুখারী,
হাদিস নং: ১৪৮৩)।
২. গবাদি পশুর যাকাত
গবাদি পশু (গরু, মহিষ, উট,
ছাগল, ভেড়া) যদি বছরের
অর্ধেক বা তার বেশি সময় চারণভূমিতে ঘাস খেয়ে লালিত-পালিত হয় (যাকে 'সায়িমা' বলা হয়), তবেই যাকাত আসবে। ডেইরি ফার্মের গরু যদি বিক্রির জন্য হয়, তবে তার মূল্যের ওপর ২.৫% যাকাত আসবে।
ছাগল/ভেড়া: কমপক্ষে ৪০টি
হলে ১টি ছাগল। (রেফারেন্স: সহিহ বুখারী,
হাদিস নং: ১৪৫৪)।
গরু/মহিষ: কমপক্ষে ৩০টি
হলে ১ বছর বয়সী ১টি বাছুর। (রেফারেন্স: সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং: ৬২২)।
পেশাদার খামার: যদি গরু বিক্রির ব্যবসা হয়, তবে নগদ টাকার মতো
মোট মূল্যের
২.৫% যাকাত দিতে
হবে। (আল-মুগনী,
ইবনে কুদামাহ)।
৩. চাকরিজীবীদের যাকাত (বেতন ও প্রভিডেন্ট ফান্ড)
চাকরিজীবীদের প্রতি মাসের বেতনের ওপর যাকাত নেই। তবে মাসিক
খরচ মেটানোর পর সঞ্চিত অর্থ যদি নিসাব (১,১০,০৭৫ টাকা) স্পর্শ করে এবং এক বছর অতিবাহিত হয়, তবে ২.৫% যাকাত দিতে হবে।
প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF/GPF): যে টাকাটি আপনার বেতন থেকে বাধ্যতামূলক কাটা হয় এবং আপনার
নিয়ন্ত্রণে নেই,
তার ওপর যাকাত নেই। তবে যখন সেই টাকা আপনি হাতে পাবেন, তখন যদি তা নিসাব পরিমাণ হয়, তবে যাকাত ওয়াজিব হবে। (রেফারেন্স: ফাতাওয়া উসমানী,
খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪১)।
পেনশন: পেনশনের টাকা
হাতে পাওয়ার পর নিসাবের মালিক হলে যাকাত আসবে।
৪. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির যাকাত (সালাফদের ফয়সালা)
যাকাত হিসাব করার সময় মানুষের পাওনা বা ঋণ সম্পদ থেকে
বিয়োগ করতে হবে।
সূত্র: (মোট নগদ টাকা
+ সোনা/রূপা + ব্যবসার মাল) - (তাৎক্ষণিক প্রদেয় ঋণ) = নিট সম্পদ। যদি এই নিট
সম্পদ ১,১০,০৭৫ টাকার বেশি থাকে, তবে যাকাত
হবে।
সালাফদের দলিল: ইমাম মালেক (রহ.) বর্ণনা করেন, খলিফা ওসমান
বিন আফফান (রা.) রমজান মাসে বলতেন, "এটি তোমাদের যাকাত প্রদানের মাস। যার ওপর ঋণ আছে সে যেন তা পরিশোধ করে দেয়, অতঃপর অবশিষ্ট মালের যাকাত দেয়।" (মুয়াত্তা ইমাম
মালেক,
হাদিস নং: ১৭)।
কিস্তি বা দীর্ঘমেয়াদী ঋণ: বাড়ির লোন বা দীর্ঘমেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে শুধু আগামী এক
বছরের কিস্তির টাকা বিয়োগ করা যাবে, পুরো লোন নয়।
(রেফারেন্স: রদ্দুল মুহতার/ফাতাওয়া শামি, ২/২৬১)।
সারসংক্ষেপ ও ২০২৬ সালের আমল:
১. আপনার কৃষিজমির ফসল যদি ৬৫০ কেজির বেশি হয়, তবে ৫% বা ১০% ওশর দিন।
২. আপনার মাসিক সঞ্চয় ও বোনাস মিলিয়ে যদি ১,১০,০৭৫ টাকার বেশি থাকে এবং এক বছর আপনার কাছে থাকে, তবে ২.৫% যাকাত দিন।
৩. ঋণ থাকলে তা বিয়োগ করে হিসাব করুন।
ফ্ল্যাট এবং গাড়ির যাকাতের ক্ষেত্রে শরীয়তের মূল মূলনীতি
হলো—ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিসের ওপর কোনো যাকাত নেই, কিন্তু ব্যবসা বা আয়ের উদ্দেশ্যে রাখা সম্পদের ওপর যাকাত
ফরজ।
সালাফদের ফিকহ এবং বর্তমান সময়ের নির্ভরযোগ্য
ফতোয়া অনুযায়ী ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
১. ফ্ল্যাট বা বাড়ির যাকাত
ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে তিনটি অবস্থা হতে পারে:
বসবাসের জন্য ফ্ল্যাট: আপনি যে ফ্ল্যাটে নিজে বসবাস করেন, তার ওপর কোনো যাকাত নেই,
সেটি যত মূল্যবানই হোক না কেন।
ভাড়ার জন্য ফ্ল্যাট: আপনি যদি ফ্ল্যাটটি ভাড়া দেওয়ার জন্য রাখেন, তবে ওই ফ্ল্যাটের মূল দামের (ধরা যাক ২ কোটি টাকা) ওপর কোনো
যাকাত নেই। তবে সেই ফ্ল্যাট থেকে প্রতি মাসে যে ভাড়া (Rental Income) পান,
সেই টাকা যদি আপনার জমানো অন্য টাকার সাথে মিলে নিসাব (১,১০,০৭৫ টাকা) স্পর্শ করে এবং এক বছর অতিবাহিত হয়, তবে তার ওপর ২.৫%
যাকাত দিতে হবে।
বিক্রির উদ্দেশ্যে ফ্ল্যাট (Real Estate
Business):
আপনি যদি ফ্ল্যাট কেনা-বেচার ব্যবসা করেন (অর্থাৎ বিক্রির
উদ্দেশ্যে ফ্ল্যাট কিনেছেন), তবে ওই ফ্ল্যাটের
বর্তমান বাজার মূল্যের ওপর ২.৫%
যাকাত প্রতি বছর দিতে হবে।
দলিল: রাসূলুল্লাহ (সা.)
বলেছেন:
"মুসলিমদের ওপর তাদের ঘোড়া এবং গোলামের (ব্যক্তিগত সম্পদ)
কোনো যাকাত নেই।"
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং: ১৪৬৩;
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৯৮২)।
২. গাড়ির যাকাত
গাড়ির ক্ষেত্রেও বিধানটি প্রায় একই রকম:
ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি: আপনার নিজের বা পরিবারের যাতায়াতের জন্য যে গাড়ি ব্যবহার
করেন,
তার ওপর কোনো যাকাত নেই।
ভাড়ায় চালিত গাড়ি (ট্যাক্সি, উবার, বাস):
যদি আপনার গাড়ি ভাড়ায় চলে, তবে গাড়ির দামের ওপর যাকাত নেই। গাড়ি চালিয়ে খরচ বাদে যে নিট আয় আপনার কাছে
জমা থাকবে,
তার ওপর ২.৫% যাকাত আসবে।
গাড়ির ব্যবসা: যদি আপনি গাড়ি কেনা-বেচার শোরুম বা ব্যবসা করেন, তবে শোরুমে থাকা প্রতিটি গাড়ির বর্তমান মূল্যের ওপর ২.৫% যাকাত দিতে হবে।
দলিল: ইমাম ইবনে
কুদামাহ (রহ.) বলেন: "পেশাদার
ব্যবসায়িক পণ্য (উরুদ আত-তিজারা) ব্যতীত অন্য কোনো আসবাবপত্র বা ব্যবহারের জিনিসের
ওপর যাকাত নেই।"
(আল-মুগনী, খণ্ড: ৩,
পৃষ্ঠা: ২৫)।
৩. জমি বা প্লটের যাকাত
অনেকেই ভবিষ্যতে ঘর করার জন্য বা দাম বাড়লে বিক্রি করার
জন্য জমি কিনে রাখেন। তাদের জন্য বিধান হলো:
ঘর করার নিয়ত থাকলে: কোনো যাকাত নেই।
নিছক টাকা জমানোর জন্য বা লাভের আশায় কিনলে: সেটি ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রতি বছর ওই জমির
বর্তমান বাজার মূল্যের ওপর ২.৫% যাকাত দিতে হবে।
রেফারেন্স: ফাতাওয়া শামি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৭৩; মাজমাউল ফিকহ আল-ইসলামী (OIC), রেজোলিউশন নং: ২৮।
১. স্থাবর সম্পদ (ফ্ল্যাট ও জমি) এবং যাকাতের গভীর বিশ্লেষণ
স্থাবর সম্পদের যাকাত নির্ভর করে আপনার 'নিয়ত' বা
উদ্দেশ্যের ওপর। ফিকহ শাস্ত্রের একটি মূলনীতি হলো: "আল-উমুর বি মাকাসিদিহা" (কাজ তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল)।
ক. আসলি বা মৌলিক প্রয়োজনের সম্পদ (হাজাতে আসলিয়া):
আপনি যে ফ্ল্যাটে বাস করেন, অথবা আপনার বসবাসের জন্য যে একটি মাত্র জমি কেনা আছে, তার ওপর কোনো যাকাত নেই। এটি ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী
এবং ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (র.)—অর্থাৎ চার ইমামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।
রেফারেন্স: আল-মাজমু’ শরহুল মুহাজ্জাব (৬/১০৩); রদ্দুল মুহতার (২/২৬২)।
যুক্তিসহ সালাফদের মত: সালাফগণ বলতেন, মানুষের
বসবাসের বাড়ি তার শরীরের কাপড়ের মতো। কাপড় যত দামীই হোক, তাতে যেমন যাকাত নেই, বাসস্থানেও
নেই।
খ. বিনিয়োগ বা ভাড়া আয়ের সম্পদ (Rental
Properties):
যদি আপনার একাধিক ফ্ল্যাট থাকে যা আপনি ভাড়া দিয়েছেন, তবে ওই ফ্ল্যাটের মূল দামের ওপর (যেমন: ৫ কোটি টাকা) কোনো
যাকাত নেই। যাকাত হবে শুধু ভাড়া থেকে প্রাপ্ত নিট আয়ের ওপর।
আধুনিক ফতোয়া: ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে অনেক ফকীহ একে 'মুস্তাগাল্লাত' (উৎপাদনশীল সম্পদ) বলেন। এর যাকাত হবে ফসলের ওশরের মতো অথবা
নগদ টাকার মতো ২.৫%। তবে জমহুর ওলামাদের মতে, ভাড়া থেকে
প্রাপ্ত টাকা যদি অন্য জমানো টাকার সাথে মিলে নিসাব পূর্ণ করে, তবে ২.৫% যাকাত দিতে হবে।
রেফারেন্স: মাজমাউল ফিকহ আল-ইসলামী (OIC), রেজোলিউশন নং: ২।
গ. ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেনা জমি বা ফ্ল্যাট (Real Estate
Business):
যদি আপনি কোনো ফ্ল্যাট বা জমি এই উদ্দেশ্যে কেনেন যে—
"দাম বাড়লে বিক্রি করে দেব" অথবা আপনি একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী, তবে প্রতি বছর যাকাত দেওয়ার দিনে ওই ফ্ল্যাট বা জমির বর্তমান বাজার দর (Market Value) হিসাব করে ২.৫% যাকাত দিতে হবে।
সালাফদের দলিল: আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "উটের যাকাত উটে, ছাগলের যাকাত ছাগলে এবং কাপড়ের (ব্যবসায়িক পণ্য) যাকাত কাপড়ে।" (সুনানে দারা কুতনী)। এখানে 'কাপড়' বলতে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদকে
বোঝানো হয়েছে।
২. ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহন (গাড়ি)
গাড়ির ক্ষেত্রে আধুনিক ফিকহের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত পরিষ্কার:
নিজস্ব ব্যবহার: ব্যক্তিগত বা পারিবারিক যাতায়াতের গাড়ির ওপর কোনো যাকাত নেই। এমনকি আপনার
যদি একাধিক গাড়ি থাকে এবং সেগুলো পরিবারের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়, তবুও যাকাত নেই।
পরিবহন ব্যবসা (Uber, Truck, Bus): যদি আপনি গাড়ি ভাড়ায় খাটান, তবে গাড়ির দামের ওপর যাকাত নেই। তবে গাড়ির আয় থেকে তেল
খরচ,
ড্রাইভারের বেতন ও মেরামত খরচ বাদে যা জমা থাকবে, তার ওপর ২.৫% যাকাত আসবে।
গাড়ির শোরুম: যদি গাড়ি কেনা-বেচার ব্যবসা হয়, তবে শোরুমে
থাকা প্রতিটি গাড়ির ওপর যাকাত আসবে।
দলিল: ইমাম ইবনে
কুদামাহ (র.) তাঁর
'আল-মুগনী' (৩/২৫)
কিতাবে লিখেছেন— "মানুষের ব্যবহারের আসবাবপত্র, পশু,
দাস এবং যাতায়াতের পশুর ওপর কোনো যাকাত নেই।"
৩. বিশেষ কিছু আধুনিক সম্পদ (২০২৬ আপডেট)
বর্তমান সময়ে ফ্ল্যাট বা গাড়ির বাইরেও কিছু জটিল সম্পদ
আমাদের থাকে,
যেগুলোর যাকাত নিয়ে সালাফদের মূলনীতির আলোকে আধুনিক ফকীহগণ
সমাধান দিয়েছেন:
|
সম্পদের ধরণ |
যাকাতের বিধান |
|
ডিপিএস/সঞ্চয়পত্র |
মূল টাকা এবং অর্জিত লভ্যাংশ (যদি হালাল হয়) দুটোর ওপরই
২.৫% যাকাত। |
|
শেয়ার বাজার |
যদি শেয়ার দীর্ঘমেয়াদী লভ্যাংশের জন্য হয়, তবে কোম্পানির যাকাতযোগ্য সম্পদের আনুপাতিক হারে। আর যদি
কেনা-বেচার (Trading)
জন্য হয়, তবে বাজার মূল্যের ওপর ২.৫%। |
|
বীমা (Insurance) |
বীমা কোম্পানিতে আপনার জমা দেওয়া মূল টাকার ওপর যাকাত
আসবে। |
|
স্বর্ণের অলঙ্কার |
ব্যবহারের স্বর্ণ হোক বা জমিয়ে রাখা, নিসাব (৭.৫ ভরি) পূর্ণ হলে বা অন্য সম্পদের সাথে মিলে
রূপার নিসাব পূর্ণ করলে ২.৫% যাকাত ওয়াজিব। |
৪. ঋণ এবং কিস্তির (EMI) সমন্বয়
২০২৬ সালে ফ্ল্যাট বা গাড়ি কেনা মানেই বিশাল অংকের ব্যাংক
লোন। যাকাত হিসাবের সময় ঋণের ক্ষেত্রে নিচের সূক্ষ্ম নিয়মটি পালনীয়:
তাৎক্ষণিক ঋণ: আপনার ব্যক্তিগত ছোটখাটো ঋণ বা ব্যবসার পাওনাদারদের দেনা সম্পূর্ণ বিয়োগ হবে।
দীর্ঘমেয়াদী লোন (HBA/Car Loan): ব্যাংক থেকে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদী লোনের পুরোটা বিয়োগ করা
যাবে না। শুধু
আগামী এক বছর (১২ মাস) আপনাকে যে পরিমাণ কিস্তি পরিশোধ করতে হবে, সেই পরিমাণ টাকা আপনার মোট সম্পদ থেকে বিয়োগ করে অবশিষ্ট
সম্পদের ওপর যাকাত দেবেন।
রেফারেন্স: ফাতাওয়া উসমানী (২/৩৫); আল-মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ (২৩/২৪৭)।
৫. চূড়ান্ত সারাংশ: আপনি আজ কীভাবে হিসাব করবেন?
আপনার যাকাতযোগ্য সম্পদের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করুন:
নগদ টাকা (ব্যাংক + হাত)
ব্যবসায়িক পণ্য (যদি থাকে)
সোনা ও রূপার বর্তমান মূল্য
ভাড়া থেকে প্রাপ্ত টাকা
বিয়োগ: আগামী ১
বছরের কিস্তি বা তাৎক্ষণিক দেনা।
যদি এই নিট অংকটি ১,১০,০৭৫ টাকার উপরে হয়, তবে পুরো অংকের ওপর
২.৫% যাকাত দিয়ে দিন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: আপনার যাকাত বের করার সময় যদি মনে সংশয় থাকে, তবে সামান্য কিছু বেশি দিয়ে দেবেন। কারণ আল্লাহ তাআলা
বলেছেন,
"তোমরা যা ব্যয় করো, আল্লাহ তার উত্তম প্রতিদান দেবেন।" (সূরা সাবা: ৩৯)।



0 Comments