১. ঈদের দিনগুলোর তাকবীরের হুকুম
শায়খ আব্দুল্লাহ
ইবনে বায রহঃ
ও শায়খ উসামিন রহঃ
এর পর বিস্তারিত ২য় নং পোস্ট এ পাবেন বিস্তারিত দলিল সহকারে।
আরবী পাঠ:
السؤال: يسأل
في
أحد
أسئلته
عن
التكبير
بعد
الصلوات
الخمس
في
أيام
التشريق،
هل
هو
واجب،
أو
مستحب،
وإذا
كان
ذلك
واجب،
أو
مستحب،
فهل
فعله
رسول
الله
ﷺ،
أو
هو
من
فعل
الصحابة
رضوان
الله
تعالى
عليهم؟
الجواب: بسم
الله
الرحمن
الرحيم،
الحمد
لله
وصلى
الله
وسلم
على
رسول
الله
وعلى
آله
وأصحابه
ومن
اهتدى
بهداه.
أما بعد:
فإن
التكبير
في
أيام
التشريق
بعد
الصلوات
محفوظ
من
فعل
الصحابة y، وعمر t، وجماعة
من
الصحابة،
ويروى
عن
النبي
ﷺ
لكن
في
إسناده
فيه
ضعف،
وهكذا
التكبير
في
عشر
ذي
الحجة
من
أولها،
كله
مشروع،
وهو
مروي
عن
الصحابة
رضي
الله
عنهم
وأرضاهم...
বাংলা অনুবাদ:
প্রশ্ন: তিনি তাঁর একটি
প্রশ্নে আইয়ামে তাশরীকের (জিলহজ মাসের ১১, ১২
ও ১৩ তারিখ) দিনগুলোতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর তাকবীর পাঠ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা
করেছেন—এটি কি ওয়াজিব নাকি মুস্তাহাব? আর এই আমলটি কি
ওয়াজিব নাকি মুস্তাহাব তা জানার পাশাপাশি, এটি কি স্বয়ং
রাসূলুল্লাহ ﷺ করেছিলেন, নাকি এটি সাহাবিগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আমল ছিল?
উত্তর: বিসমিল্লাহির
রহমানির রহিম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং
সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর
পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবিগণ এবং যারা তাঁর হেদায়েত অনুসরণ
করেছেন তাদের ওপর।
অতঃপর: আইয়ামে তাশরীকের দিনগুলোতে ফরয সালাতসমূহের পর তাকবীর পাঠ
করার বিষয়টি সাহাবিগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), ওমর
(রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং একদল সাহাবির আমল থেকে সুসংরক্ষিত ও প্রমাণিত।
এটি নবী করীম ﷺ থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে
এর সনদে (বর্ণনাসূত্রে) দুর্বলতা রয়েছে। একইভাবে জিলহজ মাসের প্রথম
দশদিনের তাকবীরও সম্পূর্ণরূপে শরীয়তসম্মত এবং তা সাহাবিগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)
থেকে বর্ণিত হয়েছে...
তাহকিক (تحقيق) ও বিশ্লেষণ:
- সাহাবিদের আমল: আইয়ামে তাশরীকের সালাত পরবর্তী তাকবীরের বিষয়টি উমর, আলী, ইবনে মাসউদ ও ইবনে আব্বাস
(রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এর মতো বিশিষ্ট সাহাবিদের আমল দ্বারা বিশুদ্ধ সনদে
প্রমাণিত।
- নবী ﷺ-এর হাদিসের দুর্বলতা: রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে সালাতের পর তাকবীর বলার যে বর্ণনাগুলো এসেছে (যেমন: দারা কুতনী বা বায়হাকীর বর্ণনা), সেগুলোর সনদে জাবির আল-জু’ফী বা আমর বিন শামিরের মতো দুর্বল রাবী থাকার কারণে মুহাদ্দিসগণের মতে তা যয়ীফ (দুর্বল)। তবে সাহাবিদের আমল এবং কোরআনের সাধারণ নির্দেশ …… দ্বারা এটি সুপ্রতিষ্ঠিত।
২.
তাকবীরের প্রকারভেদ ও সময়সীমাঃ
আরবী পাঠ:
...وكان ابن
عمر
وأبو
هريرة
رضي
الله
عنهما
يخرجان
إلى
السوق
في
أيام
العشر،
فيكبران
ويكبر
الناس
لتكبيرهما،
وكان
الصحابة
وعمر،
وجماعة
يكبرون
بعد
الصلوات
الخمس
ابتداءً
من
يوم
عرفة
إلى
نهاية
أيام
التشريق،
وكان
عمر t يكبر في
خيمته
في
منى
حتى
يسمعه
الناس
ويكبرون
بتكبيره،
فالتكبير
مشروع،
وليس
بواجب،
ولكنه
سنة
في
يوم
عرفة،
ويوم
النحر،
وأيام
التشريق
مطلق،
ومقيد،
بعد
الصلوات،
وفي
بقية
الزمان
من
الليل،
أو
النهار
يشرع
التكبير. أما في
اليوم
الثامن،
وما
قبله
من
ذي
الحجة،
فهو
تكبير
مطلق
لا
مقيد
بالصلوات
بل
مطلق،
من
أول
ذي
الحجة
إلى
نهاية
ليلة
التاسعة
من
ذي
الحجة
هذا
مطلق،
يكبر
الإنسان
في
الطريق،
وفي
بيته،
وعلى
فراشه،
وهكذا
في
الأيام
الأخيرة
من
يوم
عرفة،
وما
بعده
يكبر
المسلمون
في
الطريق
وفي
المساجد،
وفي
الأسواق،
وأدبار
الصلوات
الخمس
في
الخمسة
الأخيرة
يوم
عرفة
وما
بعده،
والذي
عليه
جمهور
أهل
العلم
أنه
سنة
فقط.
বাংলা অনুবাদ: ...ইবনে ওমর এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) জিলহজের এই
দশ দিনে বাজারের দিকে বের হতেন, তাঁরা তাকবীর ধ্বনি দিতেন এবং
তাঁদের তাকবীর শুনে মানুষও তাকবীর বলত।
সাহাবিগণ, ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং একদল সাহাবি আরাফার দিনের (৯ই জিলহজ) ফজর থেকে শুরু করে আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিন (১৩ই জিলহজের আসর) পর্যন্ত
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর তাকবীর বলতেন।
ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মিনায়
তাঁর তাঁবুতে বসে উচ্চস্বরে তাকবীর বলতেন, এমনকি
চারপাশের মানুষ তা শুনে নিজেরাও তাকবীর ধ্বনি তুলত।
সুতরাং তাকবীর পাঠ করা
শরীয়তসম্মত, তবে তা ওয়াজিব নয়; বরং
এটি সুন্নাত।
আরাফার দিন, নহরের দিন (১০ই জিলহজ) এবং আইয়ামে তাশরীকের দিনগুলোতে
তাকবীরে মুতলাক (মুক্ত বা সাধারণ) এবং তাকবীরে মুকায়্যাদ (আবদ্ধ বা সালাত
পরবর্তী)—উভয় প্রকার তাকবীরই দিন ও রাতের যেকোনো সময়ে পাঠ করা শরীয়তসম্মত।
আর জিলহজের অষ্টম দিন (তারবিয়ার
দিন) এবং তার পূর্বের দিনগুলোতে এটি কেবল 'তাকবীরে
মুতলাক' (সাধারণ), যা সালাতের সাথে
সুনির্দিষ্টভাবে আবদ্ধ নয়।
অর্থাৎ জিলহজের প্রথম থেকে শুরু
করে নবম জিলহজের রাত শেষ হওয়া পর্যন্ত এটি সাধারণ তাকবীর; মানুষ রাস্তায়, ঘরে, বিছানায় তাকবীর বলবে।
একইভাবে আরাফার দিন এবং এর পরবর্তী শেষ দিনগুলোতে মুসলমানরা রাস্তায়, মসজিদে, বাজারে এবং শেষ পাঁচ দিনের (আরাফার দিন ৯ থেকে ১৩ই জিলহজ) পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর তাকবীর বলবে। জমহুর (অধিকাংশ) উলামায়ে কেরামের মতে, এটি কেবলই সুন্নাত।
তাহকিক (تحقيق) ও বিশ্লেষণ:
ফিকহশাস্ত্রে জিলহজ মাসের
তাকবীরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
1. তাকবীরে মুতলাক (المطلق): যা যেকোনো স্থানে ও সময়ে
(হাট-বাজারে, রাস্তায়) পড়া যায়। এটি ১লা জিলহজ থেকে শুরু
হয়ে ১৩ই জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলে। (ইমাম বুখারী এটি تعليقاً বা অনুচ্ছেদ শিরোনামে উল্লেখ করেছেন)।
2. তাকবীরে মুকায়্যাদ (المقيد): যা ফরয সালাতের সালাম ফিরানোর পর পড়া হয়। এটি অ-হাজীদের জন্য ৯ই জিলহজ (আরাফার দিন) ফজর থেকে শুরু করে ১৩ই জিলহজ আসর পর্যন্ত (মোট ২৩ ওয়াক্ত) পড়া সুন্নাত। ফতোয়া অনুযায়ী, এটি ওয়াজিব নয় বরং সুন্নাত, যা জমহুর ওলামাদের মত।
৩. তাকবীরের
শব্দাবলী বা صيغة (Formulas)
আরবী পাঠ:
المقدم: جزاكم
الله
خيراً،
يسأل
عن
صيغته
لو
سمحتم؟
الشيخ: الصيغة:
الله
أكبر
الله
أكبر
لا
إله
إلا
الله،
الله
أكبر
الله
أكبر
ولله
الحمد
شفعاً،
وكان
بعض
الصحابة
يأتي
بها
وتراً:
الله
أكبر
الله
أكبر
الله
أكبر
لا
إله
إلا
الله،
الله
أكبر
الله
أكبر
الله
أكبر
ولله
الحمد،
كله
طيب
سواء
أتى
..... شفعاً
أو
وتراً،
ومن
ذلك:
الله
أكبر
كبيراً،
والحمد
لله
كثيراً،
وسبحان
الله
بكرة
وأصيلاً،
كل
هذا
وارد
في
الآثار
عن
الصحابة
وفي
الأثر
المروي
عن
النبي
عليه
الصلاة
والسلام. نعم.
বাংলা অনুবাদ:
উপস্থাপক: জাজাকুমুল্লাহু খাইরান (আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান
দিন)। অনুগ্রহ করে যদি এর শব্দাবলী বা صيغة (পড়ার নিয়ম) সম্পর্কে বলতেন?
শায়খ: তাকবীরের শব্দাবলী হলো: “আল্লাহু আকবার,
আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ”—এভাবে জোড় শব্দে (শাফ'আ)।
আবার কোনো কোনো সাহাবি বিজোড় শব্দে (উইতর) এটি পাঠ করতেন: “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ”। এর সবগুলোই উত্তম, তা জোড় শব্দে হোক কিংবা বিজোড় শব্দে। এর মধ্যে ইহাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: “আল্লাহু আকবার কাবিরা, ওয়ালহামদু লিল্লাহি কাথিরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতান ওয়া আসিলা”। এই সবকটি রূপই সাহাবিদের থেকে বর্ণিত আছার (বর্ণনা) এবং নবী ﷺ থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতে এসেছে। হ্যাঁ।
তাহকিক (تحقيق) ও বিশ্লেষণ:
- জোড় শব্দের তাকবীর: এটি মূলত ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সহীহ সনদে প্রমাণিত
(মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ)। হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবে এটি অধিক প্রচলিত।
- বিজোড় শব্দের তাকবীর: এটি সালমান ফারেসী ও ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) "আল্লাহু আকবার কাবিরা..." সম্বলিত দীর্ঘ তাকবীরটিকেও পছন্দ করেছেন। ফতোয়া অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কোনো একটি শব্দ চয়নে কড়াকড়ি নেই, সাহাবিদের থেকে প্রমাণিত যেকোনোটিই পড়া যাবে।
৪. মসজিদে দলবদ্ধ বা
সম্মিলিত তাকবীরের হুকুম
আরবী পাঠ:
المقدم: جزاكم
الله
خيراً
بالنسبة
للتكبير
في
المساجد
هل
يكبر
أحد
الناس
ويكبر
الناس
بعده؟
الشيخ: كل
يكبر
على
حسب
حاله،
ما
في
تكبير
جماعي،
هذا
يكبر
وهذا
يكبر
ولا
يشرع
التكبير
الجماعي،
الجماعي
غير
مشروع
ولكن
كل
يكبر
على
حسب
حاله
وإذا
صادف
صوته
صوت
أخيه
فلا
يضر
ذلك،
أما
عن
تنظيم
التكبير
من
أوله
إلى
آخره
يشرعون
جميعاً
وينتهون
جميعاً
فهذا
لا
أصل
له.
نعم.
المقدم: جزاكم
الله
خيراً.
বাংলা অনুবাদ:
উপস্থাপক: জাজাকুমুল্লাহু খাইরান। মসজিদের তাকবীরের ক্ষেত্রে—কোনো
একজন ব্যক্তি কি তাকবীর দেবে এবং অন্য মানুষরা তার দেখাদেখি সমস্বরে পেছনে পেছনে
তাকবীর বলবে?
শায়খ: প্রত্যেকে যার যার নিজস্ব গতি ও আওয়াজে তাকবীর বলবে।
(ইসলামে) কোনো 'সম্মিলিত বা সমস্বরে তাকবীর' (তাকবীরে জামা'ঈ) বলতে কিছু নেই। এই ব্যক্তি তার মতো
তাকবীর বলবে, ওই ব্যক্তি তার মতো বলবে। দলবদ্ধভাবে সমস্বরে
তাকবীর বলা শরীয়তসম্মত নয়; এটি বিধিসম্মত নয়। তবে
প্রত্যেকে নিজের মতো করে তাকবীর দেওয়ার সময় যদি একজনের গলার আওয়াজ স্বাভাবিকভাবে
অন্য ভাইয়ের আওয়াজের সাথে মিলে যায় বা এক হয়ে যায়, তবে তাতে
কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তাকবীরকে এমনভাবে সাজানো বা
নিয়ন্ত্রণ করা যে—সবাই একসাথে শুরু করবে এবং সবাই একসাথে শেষ করবে, এর কোনো ভিত্তি (ইসলামী শরীয়তে) নেই। হ্যাঁ।
উপস্থাপক: জাজাকুমুল্লাহু খাইরান।
তাহকিক (تحقيق) ও বিশ্লেষণ:
- সম্মিলিত তাকবীরের বিধান: সালাত শেষে বা মসজিদে সমস্বরে সুর মিলিয়ে তাল মিলিয়ে (Chanting/Chorus আকারে) তাকবীর বলাকে শায়খ ইবনে বাযসহ
সমকালীন সালাফী ওলামাগণ বিদআতে ইযাফিয়্যাহ (بدعة
إضافية) বা শরীয়ত বহির্ভূত নব-উদ্ভাবিত পদ্ধতি মনে করেন।
- সঠিক পদ্ধতি: প্রত্যেকে এককভাবে উচ্চস্বরে তাকবীর ধ্বনি তুলবেন। ইবনে ওমর বা উমর
(রা.) যখন বাজারে বা তাঁবুতে তাকবীর দিতেন, তখন মানুষ যার যার মতো তাকবীর ধ্বনি তুলত, সমস্বরে
কোরাস গাইত না। তবে হানাফী ও শাফেয়ী মাযহাবের কোনো কোনো ফিকহগ্রন্থে সাধারণ
মুসলিমদের তাকবীর মনে করিয়ে দেওয়ার সুবিধার্থে কিছুটা জোরে বা একত্রে বলার
অবকাশের কথা বলা হলেও, সুন্নাহর বিশুদ্ধ ও নিরাপদ
পদ্ধতি হলো এককভাবে তাকবীর বলা।
এখানে শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ
আল-উসাইমীন (রহ.)-এর "জালাসাাতুল হাজ্জ" (جلسات
الحج) থেকে নেওয়া
১. প্রশ্ন ও
তাকবীরের বিষয়ে হাদীসের অবস্থান
আরবী পাঠ:
السؤال: هل
التكبير
في
هذه
الأيام
مقيد
أم
مطلق؟
وهل
يقدم
على
الأذكار
الواردة
بعد
الصلوات
نرجو
التفصيل؟
وهل
ورد
دليل
على
الفرق
فيها؟
وما
وقتها
من
حيث
الابتداء
والانتهاء؟
الجواب: العلماء رحمهم
الله
تكلموا
في
هذه
المسألة
في
المقيد
والمطلق
بكلام
كثير،
لكن
ليس
فيه
شيء
مأثور
عن
النبي
عليه
الصلاة
والسلام...
বাংলা অনুবাদ:
প্রশ্ন: এই দিনগুলোতে (জিলহজ মাসে) তাকবীর পাঠ করা কি মুকায়্যাদ
(সালাত পরবর্তী নির্দিষ্ট) নাকি মুতলাক (যেকোনো সময়ের জন্য মুক্ত)? আর এটি কি সালাতের পর পঠিত সাধারণ আজকার বা দোয়ার আগে পড়া হবে?
আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই। তাকবীরের এই পার্থক্যের ব্যাপারে
কি কোনো দলিল রয়েছে? এবং শুরু ও শেষের দিক থেকে এর সময়সীমা
কী?
উত্তর: উলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুমুল্লাহ) তাকবীরে মুকায়্যাদ ও
মুতলাক সম্পর্কিত এই মাসআলায় অনেক দীর্ঘ আলোচনা করেছেন; তবে এ ব্যাপারে নবী করীম ﷺ থেকে (সরাসরি সুনির্দিষ্ট) কোনো মারফূ হাদীস বর্ণিত নেই...
তাহকিক (تحقيق) ও বিশ্লেষণ:
- মারফূ হাদীসের অভাব: শায়খ আল-উসাইমীন (রহ.) স্পষ্ট করেছেন যে, তাকবীরকে 'মুতলাক' ও 'মুকায়্যাদ'—এই দুই ভাগে সুনির্দিষ্টভাবে ভাগ
করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে কোনো স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ বাণী নেই।
- সাহাবিদের আমলই ভিত্তি: ফিকহবিদগণ এই বিভাজনটি মূলত সাহাবায়ে কেরাম, বিশেষ করে উমর, আলী, ইবনে মাসউদ এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর আমল এবং আসার (آثار) থেকে ইজতিহাদের মাধ্যমে বের করেছেন।
২. হাম্বলী মাযহাব
অনুযায়ী জিলহজের ১৩ দিনের তাকসিম (বিভাজন)
আরবী পাঠ:
...والمشهور من
مذهب
الإمام
أحمد
رحمه
الله
أن
التكبير
المطلق
أي:
الذي
في
كل
وقت
من
دخول
شهر
ذي
الحجة
إلى
صلاة
يوم
العيد،
وأما
المقيد
فهو
من
صلاة
الفجر
يوم
عرفة
إلى
صلاة
العصر
من
آخر
يوم
من
أيام
التشريق،
وعلى
هذا
فتكون
الأيام
الثلاثة
عشر
بالنسبة
للتكبير
منقسمة
إلى
ثلاثة
أقسام:
قسم
ليس
فيه
إلا
مطلق،
وقسم
ليس
فيه
إلا
مقيد،
وقسم
فيه
مطلق
ومقيد...
বাংলা অনুবাদ:
...আর ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর
মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো: 'তাকবীরে মুতলাক' বা মুক্ত তাকবীর হলো তা-ই, যা জিলহজ মাস শুরু হওয়ার
পর থেকে ঈদের সালাত পর্যন্ত যেকোনো সময়ে পড়া যায়।
আর 'তাকবীরে মুকায়্যাদ' (আবদ্ধ তাকবীর)
হলো—আরাফার দিনের (৯ই জিলহজ) ফজরের সালাত থেকে শুরু করে আইয়ামে তাশরীকের শেষ
দিনের (১৩ই জিলহজ) আসরের সালাত পর্যন্ত।
এই নিয়ম অনুযায়ী, তাকবীরের ক্ষেত্রে জিলহজ মাসের (প্রথম) ১৩টি দিন মোট তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়: এমন এক ভাগ যাতে কেবলই 'مطلق' (মুক্ত তাকবীর) রয়েছে, এমন এক ভাগ যাতে কেবলই 'مقيد' (আবদ্ধ তাকবীর) রয়েছে এবং এমন এক ভাগ যাতে 'مطلق' ও 'مقيد' দুই-ই রয়েছে...
তাহকিক (تحقيق) ও বিশ্লেষণ:
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মাযহাব
অনুযায়ী জিলহজের প্রথম ১৩ দিনের তাকবীরকে গাণিতিকভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে। শায়খ
এখানে মাযহাবের মূল ধারাটি তুলে ধরেছেন, যা
পরবর্তী অনুচ্ছেদগুলোতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
৩. তিন বিভাগের
বিস্তারিত বিবরণ (হাম্বলী মাযহাব মতে)
আরবী পাঠ:
القسم الأول: الذي ليس
فيه
إلا
مطلق:
من
دخول
شهر
ذي
الحجة
إلى
فجر
يوم
عرفة
هذا
مطلق،
ومعنى
(مطلق)
أنه
لا
يشرع
أدبار
الصلوات
بل
تقدم
أذكار
الصلاة
عليه. القسم الثاني: المقيد وهو:
الذي
ليس
فيه
مطلق
من
صلاة
الظهر
يوم
النحر
إلى
صلاة
العصر
من
آخر
يوم
من
أيام
التشريق،
وهذه
الأيام
الأربعة
فيها
تكبير
مقيد
أي:
يكون
دبر
الصلاة
ولا
يكون
في
بقية
الأوقات. القسم الثالث: الجمع بين
المطلق
والمقيد
من
متى
إلى
متى؟
من
صلاة
الفجر
يوم
عرفة
إلى
صلاة
العيد،
أي:
أربعاً
وعشرين
ساعة
تقريباً...
বাংলা অনুবাদ:
প্রথম ভাগ: যে সময়ে কেবলই 'مطلق' (মুক্ত তাকবীর) রয়েছে: জিলহজ মাস প্রবেশ করার পর
থেকে আরাফার দিনের ফজর পর্যন্ত সময়টি হলো মুতলাক। আর 'مطلق' বা মুক্ত তাকবীরের অর্থ হলো—এটি সালাতের পর
সুনির্দিষ্টভাবে পাঠ করা শরীয়তসম্মত নয়, বরং (সালাত শেষে)
সালাতের সাধারণ আজকার বা দোয়াগুলোকে এই তাকবীরের আগে প্রাধান্য দিয়ে পড়তে হবে।
দ্বিতীয় ভাগ: কেবলই 'مقيد' (আবদ্ধ তাকবীর): যে সময়ে কোনো মুক্ত তাকবীর নেই,
তা হলো—কোরবানির ঈদের দিনের (১০ই জিলহজ) যোহরের সালাত থেকে শুরু করে
আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিনের আসরের সালাত পর্যন্ত। এই চার দিন কেবল তাকবীরে
মুকায়্যাদ থাকবে; অর্থাৎ তা শুধুমাত্র ফরয সালাতের পরেই পড়া
হবে, অন্য সাধারণ সময়ে নয়।
তৃতীয় ভাগ: 'مطلق' (মুক্ত) এবং 'مقيد' (আবদ্ধ)—উভয়ের সমন্বয়: এটি কখন থেকে কখন পর্যন্ত?
আরাফার দিনের ফজরের সালাত থেকে শুরু করে ঈদের সালাত পর্যন্ত,
অর্থাৎ প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা...
তাহকিক (تحقيق) ও বিশ্লেষণ:
- প্রথম ভাগের যুক্তি: ১ থেকে ৯ই জিলহজ ফজর পর্যন্ত মানুষ স্বাভাবিকভাবে তাকবীর পড়বে। সালাতের
পর সাধারণ আজকার (যেমন: ইস্তিগফার, তাসবীহ, তাহমীদ) আগে পড়বে, তাকবীরকে সালাতের সাথে বাঁধবে না।
- দ্বিতীয় ভাগের হাম্বলী দৃষ্টিভঙ্গি: হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, ঈদের দিন যোহর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত সাধারণ সময়ের
তাকবীর বন্ধ হয়ে যায়, শুধু সালাতের পরে পড়ার নিয়ম থাকে।
(তবে শায়খ পরবর্তী অংশে এই মতটির সংশোধন করেছেন)।
৪. শায়খ
আল-উসাইমীনের নিজস্ব ও অগ্রগণ্য মত (القول
الراجح)
আরবী পাঠ:
...ولكن الصحيح
أن
التكبير
المطلق
من
هلال
شهر
ذي
الحجة
إلى
غروب
شمس
آخر
يوم
من
أيام
التشريق.
كل
الأيام
الثلاثة
عشرة
فيها
تكبير
مطلق،
لكن
من
يوم
عرفة
إلى
آخر
أيام
التشريق
فيها
مقيد
أيضاً،
يذكر
دبر
الصلاة
مع
أذكار
الصلوات،
والمسألة
هذه
أمرها
واسع،
يعني
لو
أن
الإنسان
لم
يكبر
التكبير
المقيد
واكتفى
بأذكار
الصلوات
لكفى،
ولو
كبر
حتى
في
أيام
المطلق
دبر
الصلوات
لجاز
ذلك،
الأمر
في
هذا
واسع...
বাংলা অনুবাদ:
...কিন্তু (উলামাদের মতামতের মধ্যে) সঠিক ও
বিশুদ্ধতম মত হলো: 'তাকবীরে মুতলাক' বা
মুক্ত তাকবীর জিলহজের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে শুরু করে আইয়ামে তাশরীকের শেষ
দিনের সূর্য ডোবা পর্যন্ত জারি থাকে।
অর্থাৎ জিলহজের পুরো ১৩টি দিনই 'তাকবীরে মুতলাক' (মুক্ত তাকবীর) বলার
সময়। তবে আরাফার দিন (৯ই জিলহজ) থেকে শুরু করে আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিন (১৩ই
জিলহজ) পর্যন্ত এর সাথে 'مقيد' বা আবদ্ধ তাকবীরও যুক্ত হবে, যা সালাতের সাধারণ আজকারের সাথে সালাত পরবর্তী সময়ে পড়া হবে।
আর এই মাসআলাটির পরিধি বেশ প্রশস্ত। অর্থাৎ কোনো মানুষ যদি (সালাতের পর) সুনির্দিষ্ট 'তাকবীরে মুকায়্যাদ' না-ও পড়ে এবং কেবল সালাতের সাধারণ আজকারগুলো পড়েই ক্ষান্ত হয়, তবে সেটিও তার জন্য যথেষ্ট হবে। আবার কেউ যদি সাধারণ তাকবীরের দিনগুলোতেও (১-৮ জিলহজ) সালাতের পর তাকবীর পড়ে, তবে তাও জায়েজ হবে। এ বিষয়ে দ্বীনের নির্দেশনা খুবই উদার ও প্রশস্ত...।
তাহকিক (تحقيق) ও বিশ্লেষণ:
- অগ্রগণ্য মত (الراجح): শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.) হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ রূপরেখাটি বর্ণনা
করার পর ইমাম বুখারী ও অন্যান্য মুহাক্কিকীনদের মতকে শক্তিশালী বলেছেন। তা
হলো—তাকবীরে মুতলাক ১লা জিলহজ থেকে ১৩ই জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটানা
চলবে (কোথাও বন্ধ হবে না)।
- আর ৯ই জিলহজ ফজর থেকে ১৩ই জিলহজ আসর পর্যন্ত সাধারণ
তাকবীরের পাশাপাশি সালাত পরবর্তী বিশেষ তাকবীরও (مقيد) যুক্ত হবে।
- আজকার ও তাকবীরের ধারাবাহিকতা: সালাত পরবর্তী তাকবীর পড়ার সময় প্রথমে সালাতের মূল আজকার (যেমন: ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ, আল্লাহুম্মা আন্তাস সালাম...) পড়ে নেওয়া উত্তম, তারপর তাকবীর ধ্বনি দেওয়া।
৫. কোরআনিক দলিল ও
মূল লক্ষ্য
আরবী পাঠ:
...لأن الله
تعالى
قال
في
أدبار
الصلوات:
{فَإِذَا
قَضَيْتُمُ
الصَّلاةَ
فَاذْكُرُوا
اللَّهَ
قِيَاماً
وَقُعُوداً
وَعَلَى
جُنُوبِكُمْ}
[النساء:١٠٣]،
وقال:
{وَلِكُلِّ
أُمَّةٍ
جَعَلْنَا
مَنْسَكاً
لِيَذْكُرُوا
اسْمَ
اللَّهِ
عَلَى
مَا
رَزَقَهُمْ
مِنْ
بَهِيمَةِ
الْأَنْعَامِ}
[الحج:٣٤]،
وقال
تعالى:
{وَاذْكُرُوا
اللَّهَ
فِي
أَيَّامٍ
مَعْدُودَاتٍ
فَمَنْ
تَعَجَّلَ
فِي
يَوْمَيْنِ
فَلا
إِثْمَ
عَلَيْهِ
وَمَنْ
تَأَخَّرَ
فَلا
إِثْمَ
عَلَيْهِ
لِمَنِ
اتَّقَى}
[البقرة:٢٠٣]
فكلها
ذكر
والأمر
في
هذا
واسع،
والمهم
أن
نعمر
أوقات
هذه
العشر
وأيام
التشريق
بالذكر.
হুবহু বাংলা অনুবাদ:
...কেননা আল্লাহ তাআলা সালাত পরবর্তী সময়ের
ব্যাপারে বলেছেন: “যখন তোমরা সালাত সমাপ্ত করবে, তখন দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করো।”
[সূরা আন-নিসা: ১০৩]।
তিনি আরও বলেছেন: “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির নিয়ম নির্ধারণ করেছি,
যাতে তারা আল্লাহর দেওয়া চতুষ্পদ জন্তু জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম
স্মরণ করে।” [সূরা আল-হাজ্জ: ৩৪]।
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন: “আর তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করো নির্দিষ্ট দিনসমূহে (আইয়ামে
তাশরীকে)। অতঃপর যে ব্যক্তি তাড়াহুড়ো করে দু'দিনে চলে যাবে,
তার কোনো গুনাহ নেই; আর যে বিলম্ব করবে,
তারও কোনো গুনাহ নেই—যদি সে তাকওয়া অবলম্বন করে।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২০৩]।
অতএব, এর সবই হলো আল্লাহর যিকির এবং এ বিষয়ে সুযোগ অত্যন্ত উদার। আসল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আমরা যেন জিলহজের এই দশটি দিন এবং আইয়ামে তাশরীকের দিনগুলোর প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে প্রাণবন্ত ও সচল রাখি।
তাহকিক (تحقيق) ও বিশ্লেষণ:
- আয়াতসমূহের ফিকহী প্রয়োগ:
o
সূরা নিসার ১০৩ নম্বর আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় সালাতের পর যেকোনো জিকিরই করা
যায়, তাই তাকবীর বলাও এর অন্তর্ভুক্ত।
o সূরা বাকারার ২০৩ নম্বর আয়াতের “أَيَّامٍ مَعْدُودَاتٍ” (নির্দিষ্ট দিনসমূহ) দ্বারা মুফাসসিরগণের সর্বসম্মত মতে আইয়ামে তাশরীক (১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ)-কে বোঝানো হয়েছে। এই দিনগুলোতে খাওয়া-দাওয়া ও বেশি বেশি আল্লাহর তাকবীর পাঠের নির্দেশ এসেছে।
শেষ প্রশ্ন: "উত্তম বা শক্তিশালী কোনটি?" — এর উত্তর মূলত ফিকহী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশদ বিশ্লেষণের দাবি রাখে। নিচে তাকবীরের সময়সীমা ও শব্দাবলীর ক্ষেত্রে কোন মতটি সবচেয়ে শক্তিশালী ও উত্তম তা নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করা হলো:
১.
তাকবীরের সময়সীমার ক্ষেত্রে শক্তিশালী মত
তাকবীরের সময়সীমা নিয়ে হাম্বলী
মাযহাবের মূল ধারা এবং শায়খ ইবনে উসাইমীনের নিজস্ব তাহকিকের মধ্যে কিছুটা
পার্থক্য রয়েছে।
শায়খ ইবনে উসাইমীন
(রহ.)-এর মতটিই এখানে সবচেয়ে শক্তিশালী ও উত্তম।
কেন এটি শক্তিশালী?
- ধারাবাহিকতার প্রমাণ: হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতে ১০ই জিলহজ যোহর থেকে ১৩ই জিলহজ আসর
পর্যন্ত 'তাকবীরে মুতলাক' (সাধারণ সময়ের তাকবীর) বন্ধ হয়ে যায় এবং শুধু 'তাকবীরে মুকায়্যাদ' (সালাত পরবর্তী তাকবীর)
চালু থাকে। কিন্তু এর বিপরীতে শায়খ উসাইমীন যে মতটি দিয়েছেন—১লা জিলহজ
থেকে ১৩ই জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত 'তাকবীরে
মুতলাক' একটানা চালু থাকবে—তা
ইমাম বুখারীর সংকলন এবং সাহাবিদের (যেমন: ইবনে ওমর ও আবু হুরায়রা) আমলের
সাথে সরাসরি সংগতিপূর্ণ।
- দলিলের অনুকূল: কোরআনে আইয়ামে তাশরীকের দিনগুলোতে (১১, ১২, ১৩ জিলহজ) সার্বক্ষণিকভাবে আল্লাহকে স্মরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে …। অতএব, এই দিনগুলোতে কেবল সালাতের পরেই তাকবীর সীমাবদ্ধ না রেখে, রাস্তাঘাটে ও বাজারেও (তাকবীরে মুতলাক হিসেবে) তা জারি রাখা সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী।
সিদ্ধান্ত: ১লা জিলহজ থেকে ১৩ই জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাকবীরে মুতলাক (সব সময়) চালু রাখা এবং ৯ই জিলহজ ফজর থেকে ১৩ই জিলহজ আসর পর্যন্ত এর সাথে তাকবীরে মুকায়্যাদ (সালাতের পর) যোগ করা—এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ও আমলযোগ্য মত।
②. সালাত পরবর্তী আজকার ও তাকবীরের ধারাবাহিকতায় উত্তম পদ্ধতি
সালাতের সালাম ফিরানোর পর সাধারণ আজকার (যেমন: ইস্তিগফার, আয়াতুল কুরসী, তাসবীহ-তাহমীদ) আগে পড়া
হবে, নাকি তাকবীর আগে পড়া হবে—এ নিয়ে ওলামাদের
দৃষ্টিভঙ্গি:
উত্তম পদ্ধতি হলো: প্রথমে সংক্ষিপ্ত সাধারণ আজকার সম্পন্ন
করে নেওয়া, তারপর তাকবীর ধ্বনি দেওয়া।
সঠিক ক্রমবিন্যাস:
১. সালাম ফিরানোর পর প্রথমে ৩
বার "আস্তাগফিরুল্লাহ" এবং "আল্লাহুম্মা
আন্তাস সালাম..." পড়া।
২. এরপর উচ্চস্বরে তাকবীরে
মুকায়্যাদ পাঠ করা।
৩. তাকবীর শেষ করে সালাতের
অবশিষ্ট আজকার (যেমন: ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ,
আল্লাহু আকবার) পূর্ণ করা।
এটি উত্তম হওয়ার কারণ হলো, সালাত পরবর্তী মূল আজকারগুলোর স্থান সরাসরি সালামের পর পরই,
যা কোনো অবস্থাতেই বাদ বা বিলম্ব করা উচিত নয়।
৩. তাকবীরের
শব্দাবলীর (Formulas) মধ্যে উত্তম কোনটি?
তাকবীরের শব্দাবলীর ক্ষেত্রে
শরীয়তের পরিধি অত্যন্ত প্রশস্ত, কারণ
রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে নির্দিষ্ট
কোনো শব্দচয়ন বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে সাহাবিদের আছার (বর্ণনা) বিবেচনায়
শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করা যায়:
ক. জোড় শব্দের
তাকবীর (সবচেয়ে প্রচলিত ও শক্তিশালী)
- কেন উত্তম: এটি
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে অত্যন্ত বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত। হানাফী, হাম্বলী এবং জমহুর ওলামাদের নিকট এটিই সবচেয়ে বেশি
পছন্দনীয় ও শক্তিশালী।
খ. বিজোড় শব্দের
তাকবীর (উত্তম ও জায়েজ)
- কেন উত্তম: এটি
সালমান ফারেসী (রা.) এবং ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। শাফেয়ী মাযহাবে এর
প্রচলন বেশি।
সিদ্ধান্ত: দুটি রূপই সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। তবে ইবনে মাসউদ
(রা.)-এর বর্ণিত জোড় শব্দের তাকবীরটি (প্রথমটি)
শব্দবিন্যাসের দিক থেকে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও শক্তিশালী। তবে কেউ যদি "আল্লাহু
আকবার কাবিরা..." সম্বলিত দীর্ঘ তাকবীরও পাঠ করে, সেটিও
উত্তম এবং গ্রহণযোগ্য।
৪. মসজিদের তাকবীরের
ক্ষেত্রে উত্তম পদ্ধতি
মসজিদে বা সালাতের পর তাকবীর
দেওয়ার ক্ষেত্রে এককভাবে (ব্যক্তিগতভাবে) উচ্চস্বরে তাকবীর বলাই সুন্নাহসম্মত
ও শক্তিশালী মত।
- Chanting বা কোরাস বর্জনীয়: সবাই মিলে এক সুরে, এক তালে, গান গাওয়ার মতো করে (Chorus আকারে) একই সাথে শুরু ও শেষ করার পদ্ধতিটি রাসুলুল্লাহ ﷺ বা সাহাবিদের যুগে ছিল না।
- উত্তম রূপ: প্রত্যেকে
নিজের মতো করে উচ্চস্বরে তাকবীর বলবেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই একজনের আওয়াজ
অন্যজনের সাথে মিলে গেলে কোনো অসুবিধা নেই, কিন্তু তা কৃত্রিমভাবে দলবদ্ধ কোরাসে রূপ নেওয়া উচিত নয়।
সংক্ষিপ্ত
সারসংক্ষেপ (তাকবীর গাইড)
|
বিষয় |
সবচেয়ে
শক্তিশালী ও উত্তম মত |
|
সময়সীমা |
১ থেকে ১৩ই জিলহজ সূর্যাস্ত
পর্যন্ত সব সময় (মুতলাক) + ৯ই ফজর থেকে ১৩ই আসর পর্যন্ত সালাতের পর (مُقَيَّد)। |
|
সালাতের পর নিয়ম |
সালাম ফিরিয়ে ইস্তিগফারের
পরপরই তাকবীর বলা, তারপর অন্যান্য আজকার করা। |
|
শব্দাবলী |
ইবনে মাসউদ (রা.)-এর জোড়
শব্দের তাকবীর: "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ..." |
|
পদ্ধতি |
এককভাবে, নিজস্ব গতিতে উচ্চস্বরে পড়া (সম্মিলিত কোরাস বর্জন করা)। |




0 Comments