[কিতাবুল মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ — হাজীদের জন্য আরাফাহর দিনের রোজা]
গ্রন্থের নাম: আল-মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ (ইসলামি ফিকহ বিশ্বকোষ)
বিষয় শ্রেণী: ইবাদাত (العبادات) $\rightarrow$ সিয়াম বা রোজা (الصيام)
অধ্যায়: পঞ্চম অধ্যায়: যেসব রোজা মুস্তাহাব, মাকরুহ ও হারাম (الباب الخامس: ما يستحب صومه وما يكره وما يحرم)
পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যেসব রোজা রাখা মাকরুহ (الفصل الثاني: ما يكره صومه)
অনুচ্ছেদ: দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: হাজীদের জন্য আরাফাহর দিনের রোজা (المبحث الثاني: صوم يوم عرفة للحاج)
[মূল ফিকহী বিধান ও চার মাযহাবের অবস্থান]
[المبحث الثاني: صوم يوم عرفة للحاج]
لا يستحب صوم يوم عرفة للحاج (١)، وهو مذهب جمهور أهل العلم من المالكية (٢)، والشافعية (٣)، والحنابلة (٤).
অনুবাদ: [দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: হাজীদের জন্য আরাফাহর দিনের রোজা]
আরাফাত ময়দানে অবস্থানকারী হাজীদের জন্য আরাফাহর দিনে রোজা রাখা মুস্তাহাব নয় (১)। আর এটিই জুমহুর (অধিকাংশ) বিজ্ঞ ফিকহবিদদের মত; যার মধ্যে রয়েছে মালেকী (২), শাফেয়ী (৩) এবং হাম্বলী (৪) মাযহাবের আলেমগণ।
(টীকা ও কিতাবের মূল রেফারেন্স):
(১) এর কারণ হলো—এই দিনে রোজা রাখলে হাজীগণ আরাফাহর ময়দানে অবস্থান (উকুফ) ও দীর্ঘ সময় দোয়া করার ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন। অন্য একটি মতে বলা হয়েছে, (আরাফাহর ময়দানে) হাজীরা হলেন আল্লাহর বিশেষ মেহমান ও যিয়ারতকারী (তাই মেহমানের জন্য রোজা না রাখাই উত্তম)।
(২) মালেকী রেফারেন্স: মাওয়াহিবুল জলীল—আল-হাউতাব রচিত (৩/৩১২); আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী—আন-নাফরাওয়ী রচিত (১/৯১)।
(৩) শাফেয়ী রেফারেন্স: আল-মাজমূ—ইমাম নববী রচিত (৬/৩৮০); মুগনী আল-মুহতাজ—খতীব শিরবীনী রচিত (১/৪৪৬)।
(৪) হাম্বলী রেফারেন্স: আল-ফুরূ—ইবনে মুফলিh রচিত (৫/٨٨); কাশশাফুল কিনা—আল-বুহূতী রচিত (২/৩৪০)।
[দলিলসমূহ এবং হাদিসের দিকনির্দেশনা (الأدلة)]
১ম দলিল: উম্মুল ফাদল (রা.)-এর হাদিস
١ - عن أم الفضل بنت الحارث رضي الله عنهما ((أنها أرسلت إلى النبي صلى الله عليه وسلم بقدح لبن، وهو واقفٌ على بعيره بعرفة، فشرب)). أخرجه البخاري ومسلم (٥).
অনুবাদ: ১. উম্মুল ফাদল বিনতুল হারিস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী কারীম ﷺ-এর কাছে এক পেয়ালা দুধ পাঠিয়েছিলেন, তখন তিনি আরাফাহ ময়দানে নিজের উটের পিঠে বসা অবস্থায় ছিলেন। অতঃপর তিনি তা পান করলেন।
(৫) হাদিসের মূল রেফারেন্স: ইমাম বুখারী (হাদিস নং ১৬৫৮) এবং ইমাম মুসলিম (হাদিস নং ১১২৩) যৌথভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।
হাদিসের নির্দেশনার ধরণ (وجه الدلالة):
وجه الدلالة:
أن شربه صلى الله عليه وسلم اللبن أمام الناس في الموقف، دليلٌ على استحباب فطر هذا اليوم للحاج; وليتقوى على أداء مناسك الحج.
অনুবাদ: দলিল উপস্থাপনের যৌক্তিকতা:
আরাফাহর ময়দানে উপস্থিত জনসম্মুখে নবী কারীম ﷺ-এর এভাবে দুধ পান করা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে—হাজীদের জন্য এই বিশেষ দিনে রোজা না রাখা (ইফতার অবস্থায় থাকা) মুস্তাহাব; যাতে করে তাঁরা হজের প্রধান প্রধান রুকন ও ইবাদতসমূহ পূর্ণ শক্তি ও প্রাণবন্ততার সাথে আদায় করতে পারেন।
২য় দলিল: ইবনে ওমর (রা.)-এর বর্ণনা
٢ - عن ابن عمر رضي الله عنهما ((أنه حج مع النبي صلى الله عليه وسلم ثم أبي بكر، ثم عمر، ثم عثمان، فلم يصمه أحد منهم)) (٦).
অনুবাদ: ২. আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী কারীম ﷺ, অতঃপর আবুবকর (রা.), তারপর ওমর (রা.) এবং সবশেষে উসমান (রা.)-এর সাথে হজ সম্পাদন করেছেন। তাঁদের কেউ-ই আরাফাহর দিন (হজ অবস্থায়) রোজা রাখেননি।
(৬) হাদিসের তাখরীজ ও মান (Footnote 6):
এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (২/৭৩, হাদিস নং ৫৪২০), ইমাম তিরমিযী (হাদিস নং ৭৫১), ইমাম নাসায়ী তাঁর আস-সুনানুল কুবরা গ্রন্থে (২/১৫৫, হাদিস নং ২৮২৭) এবং ইমাম ইবনে হিব্বান (৮/৩৬৯, হাদিস নং ৩৬০৪)।
মুহাদ্দিসগণের মন্তব্য: ইমাম তিরমিযী হাদিসটিকে "হাসান" বলেছেন। ইমাম ইবনে জারীর তাঁর মুসনাদু ওমর গ্রন্থে (১/৩৫৫) এর সনদকে "সহীহ" আখ্যা দিয়েছেন। ইমাম বগভী তাঁর শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে (৩/৫২২) একে "হাসান" বলেছেন এবং আল্লামা আলবানী (রহ.) সহীহ সুনানুত্ত তিরমিযী-তে বলেছেন—এর সনদটি "সহীহ"।
আপনার যেটা পছব্দ হয়////////////
[كتاب الموسوعة الفقهية - صيام]
গ্রন্থের নাম: আল-মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ (ফিকহী বিশ্বকোষ)
অধ্যায়: ইবাদতসমূহ ➔ ৫. সিয়াম (রোজা)
পরিচ্ছেদ: পঞ্চম অধ্যায়: যেসব রোজা মুস্তাহাব, মাকরূহ এবং হারাম।
অনুচ্ছেদ: দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যেসব রোজা মাকরূহ।
বিষয় (المبحث الثاني): হাজীদের জন্য আরাফাহর দিনের রোজা।
[المبحث الثاني: صوم يوم عرفة للحاج]
পরিচ্ছেদ: হাজীদের জন্য আরাফাহর দিনের রোজা
لا يستحب صوم يوم عرفة للحاج (١)، وهو مذهب جمهور أهل العلم من المالكية (٢)، والشافعية (٣)، والحنابلة (٤).
لا يستحب صوم يوم عرفة للحاج (١)، وهو مذهب جمهور أهل العلم من المالكية (٢)، والشافعية (٣)، والحنابلة (٤).
অনুবাদ: আরাফাহর ময়দানে অবস্থানকারী হাজীদের জন্য আরাফাতের দিন রোজা রাখা মুস্তাহাব (উত্তম) নয় (১)। এটিই জুমহুর তথা অধিকাংশ আলেমদের মাযহাব, যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন—মালেকী (২), শাফেয়ী (৩) এবং হাম্বলী (৪) মাযহাবের উলামায়ে কেরাম।
[দলিলসমূহ (الأدلة)]
১ নম্বর দলিল:
١ - عن أم الفضل بنت الحارث رضي الله عنهما ((أنها أرسلت إلى النبي صلى الله عليه وسلم بقدح لبن، وهو واقفٌ على بعيره بعرفة، فشرب)). أخرجه البخاري ومسلم (٥).
অনুবাদ: উম্মুল ফাদল বিনতুল হারিস (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী কারীম ﷺ-এর কাছে এক পেয়ালা দুধ পাঠিয়েছিলেন, যখন তিনি আরাফাহ ময়দানে নিজের উটের পিঠে আরোহী অবস্থায় (উকুফ বা অবস্থানে) ছিলেন। অতঃপর তিনি তা পান করলেন।
হাদিসের উৎস: ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদিসটি বর্ণনা করেছেন (৫)।
দলিল প্রয়োগের ধরণ (وجه الدلالة):
أن شربه صلى الله عليه وسلم اللبن أمام الناس في الموقف، دليلٌ على استحباب فطر هذا اليوم للحاج؛ وليتقوى على أداء مناسك الحج.
অনুবাদ: আরাফাহর অবস্থানস্থলে (মাওকিফ) মানুষের সামনে নবী কারীম ﷺ-এর এভাবে দুধ পান করা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে—আরাফাহর ময়দানে হাজীদের জন্য এই দিনে রোজা না রাখা (ইফতার অবস্থায় থাকা) মুস্তাহাব; যাতে করে তারা হজের প্রধান প্রধান রুকন ও ইবাদতসমূহ পূর্ণ শক্তিতে সম্পাদন করতে পারে।
২ নম্বর দলিল:
٢ - عن ابن عمر رضي الله عنهما ((أنه حج مع النبي صلى الله عليه وسلم ثم أبي بكر، ثم عمر، ثم عثمان، فلم يصمه أحد منهم)) (٦).
অনুবাদ: আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী কারীম ﷺ, অতঃপর আবু বকর, অতঃপর ওমর এবং তারপর ওসমানের (রা.) সাথে হজ সম্পাদন করেছেন; তাঁদের কেউই আরাফাহর দিন রোজা রাখেননি (৬)।
حاشية ومصادر (গ্রন্থের টীকা ও মূল রেফারেন্সসমূহ)
টীকা (১): রোজা না রাখার কারণ
(১) [কারণ ব্যাখ্যা]:
وذلك لأن الصوم في هذا اليوم يضعف الحاج عن الوقوف والدعاء؛ وقيل لأنهم أضياف الله وزواره.
অনুবাদ: (হাজীদের জন্য রোজা মুস্তাহাব না হওয়ার কারণ হলো)—এই দিনে রোজা রাখলে হাজী ব্যক্তি আরাফাহর ময়দানে দীর্ঘ সময় অবস্থান (উকুফ) ও একাগ্রতার সাথে দোয়া করতে দুর্বল হয়ে পড়ে। অন্য একটি মতে বলা হয়েছে: (তারা রোজা রাখবে না) কারণ হাজীরা হলেন আল্লাহর বিশেষ মেহমান ও তাঁর ঘরের জিয়ারতকারী (আর মেহমান রোজা রাখে না)।
(২) [মালেকী মাযহাবের মূল কিতাবের রেফারেন্স]:
আল-হাত্তাব রচিত "মাওয়াহিবুল জালীল" (مواهب الجليل للحطاب) - ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩১২।
আন-নাফরাওয়ী রচিত "আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী" (الفواكه الدواني للنفراوي) - ১ ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯১।
(৩) [শাফেয়ী মাযহাবের মূল কিতাবের রেফারেন্স]:
ইমাম নববী রচিত "আল-মাজমূ" (المجموع للنووي) - ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৮০।
আল-খতীব আশ-শারবীনী রচিত "মুগনী আল-মুহতাজ" (مغني المحتاج للشربيني الخطيب) - ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৪৬।
(৪) [হাম্বলী মাযহাবের মূল কিতাবের রেফারেন্স]:
ইবনে মুফলিহ রচিত "আল-ফুরূ" (الفروع لابن مفلح) - ৫ ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮۸।
আল-বাহূতী রচিত "কাশশাফুল কিনা" (كشاف القناع للبهوتي) - ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৪০।
(৫) [১ নং হাদিসের মূল কিতাবের নম্বর]:
সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বর: ১৬৫৮
সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ১১২৩
(৬) [২ নং হাদিসের মুহাদ্দিসদের সনদ ও যাচাই]:
ইমাম আহমদ তাঁর "মুসনাদ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (২/৭৩), হাদিস নম্বর: ৫৪২০।
ইমাম তিরমিযী তাঁর "সুনান" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর: ৭৫১।
ইমাম নাসায়ী তাঁর "আস-সুনানুল কুবরা" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (২/১৫৫), হাদিস নম্বর: ২৮২৭।
ইমাম ইবনে হিব্বান তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৮/৩৬৯), হাদিস নম্বর: ৩৬০৪।
মুহাদ্দিসগণের মন্তব্য: ইমাম তিরমিযী হাদিসটিকে 'হাসান' বলেছেন। ইবনে জারীর তাঁর 'মুসনাদে ওমর' (১/৩৫৫) গ্রন্থে এর সনদকে 'সহীহ' বলেছেন। ইমাম বাগাভী তাঁর 'শারহুস সুন্নাহ' (৩/৫২২) গ্রন্থে এটিকে 'হাসান' বলেছেন এবং আল্লামা আলবানী 'সহীহ সুনানে তিরমিযী' গ্রন্থে বলেছেন—এর সনদ সহীহ (إسناده صحيح)।



0 Comments