এই সনদে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রখ্যাত
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) থেকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী উপদেশ বর্ণিত
হয়েছে, যা মুসলিম উম্মাহকে ফিতনা ও দলাদলির সময়ে
হকের ওপর টিকে থাকার পথ দেখায়। তিনি বলেন:
"তোমাদের কেউ যেন দ্বীনের ব্যাপারে অন্ধ
অনুকরণকারী (ইম্মায়াহ) না হয়।"
উপস্থিত লোকরা জিজ্ঞেস করল, "ইম্মায়াহ (إمعة) কে?" তিনি উত্তর দিলেন:
"যে ব্যক্তি বলে—'আমি মানুষের সাথে আছি, মানুষ যদি হেদায়েত বা সঠিক পথে থাকে তবে
আমিও সঠিক পথে থাকব, আর মানুষ যদি গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট হয় তবে
আমিও পথভ্রষ্ট হব।' (মনে রেখো) তোমাদের কেউ যেন নিজের মনকে
এমন না বানায় যে, মানুষ কাফের হয়ে গেলে সেও কুফরী করবে।
বরং তোমরা নিজেদের এই অভ্যাসে অবিচল রাখো যে—মানুষ যদি কাফের বা পথভ্রষ্টও হয়ে
যায়, তবুও তোমরা কখনো অত্যাচার বা হকের পথ
ত্যাগ করবে না।"
৪. শব্দার্থ ও তাৎপর্য
হাদীসে ব্যবহৃত 'ইম্মায়াহ'
(إِمَّعَة)
শব্দের অর্থ
হলো—এমন এক মেরুদণ্ডহীন ব্যক্তি, যার নিজস্ব কোনো
আদর্শ বা চিন্তাভাবনা নেই। সমাজে যে হাওয়া বয়,
সেও সেই হাওয়ায়
গা ভাসিয়ে দেয়। ভালো মানুষ দেখলে সে ভালো সাজে,
আবার চারপাশের
মানুষ খারাপ হয়ে গেলে সেও খারাপ হয়ে যায়।
ইবনে মাসঊদ (রা.) এই আসারের মাধ্যমে মুসলিমদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা
সংখ্যাগরিষ্ঠতার পেছনে অন্ধের মতো না ছুটে বরং একা হলেও হকের (সত্যের) ওপর
মজবুতভাবে টিকে থাকে।
শিক্ষণীয় দিক
·
অন্ধ অনুকরণ বর্জন: সমাজ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যেদিকে
যাচ্ছে, যাচাই-বাছাই না করে চোখ বন্ধ করে সেদিকে
ধাবিত হওয়া ইসলাম সমর্থন করে না।
·
হকের ওপর একাকী হলেও অবিচলতা: পুরো পৃথিবী বা আপনার চারপাশের সব মানুষ
যদি সত্যের পথ ছেড়ে অন্যায় কিংবা বিভ্রান্তির পথে চলে যায়, তবুও একজন মুমিন একাকী হলেও হকের ওপর বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।
সহজ কথায়, এই রেফারেন্সটি সমাজে ফিতনা ও বিভ্রান্তি
ছড়িয়ে পড়ার সময়ে ব্যক্তিগতভাবে নিজের ঈমান রক্ষা করা এবং
স্রোতের বিপরীতে চলে সত্যের পক্ষে থাকার এক অকাট্য সালাফী দলিল.
১. আসার (Mawquf) হিসেবে এটি 'সহীহ' (বিশুদ্ধ)
এটি মূলত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সরাসরি বাণী (মারফূ হাদীস) নয়;
এটি সাহাবী
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.)-এর নিজস্ব উক্তি বা 'আসার' (মাওকূফ হাদীস)। সাহাবীর উক্তি হিসেবে এর সনদটি
সহীহ বা অত্যন্ত
শক্তিশালী
আল-মু'জামুল কাবীর - তাবারানী (৯/১২৭), নং ৮৬৩৬।



0 Comments