🌿 **সালাফদের উপদেশ**
শিষ্টাচার ও জ্ঞানের মর্যাদা
উপস্থাপনায়: রাসিকুল ইসলাম
কাইসের এক জ্ঞানী ব্যক্তি কুরাইশের এক ব্যক্তিকে বললেন:
“ভালো আচরণের সন্ধান করো, কারণ তা বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি করে, বীরত্বের প্রমাণ দেয়, এবং মানুষের মধ্যে হৃদয়ের বন্ধন গড়ে তোলে।”
এরপর তিনি বললেন:
“শিখো, কারণ মানুষ জ্ঞানী হয়ে জন্মায় না। আর জ্ঞানী ব্যক্তি কখনো অজ্ঞের মতো নয়। যে জাতির মধ্যে জ্ঞান নেই, তাদের নেতা যখন জনতার মাঝে অবস্থান করে, তখন সে তুচ্ছ হয়ে যায়।”
তিনি আরও উপদেশ দিলেন:
“জীবনের বর্তমান অবস্থা নিয়েই সন্তুষ্ট থেকো না— উন্নতির সাধনা চালিয়ে যাও। আর তোমার প্রাপ্তি যেন কেবল পূর্বপুরুষদের অর্জনের উত্তরাধিকার না হয়।”
কারণ বলা হয়েছে:
“যে ব্যক্তি শুধু নিজের বংশগৌরবে তুষ্ট থাকে, তার ভালো আচরণই একে সত্যিকারভাবে মহান করতে পারে।”উসামা ইবন মুনকিযের উপদেশের সারসংক্ষেপ:
- আদব (শিষ্টাচার): মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সমাজজীবনের মূল ভিত্তি।
- ইলম (জ্ঞান): জ্ঞান ছাড়া জাতি ও নেতা উভয়ই মূল্যহীন।
- শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি: বংশ নয়, চরিত্রই শ্রেষ্ঠতা নির্ধারণ করে।
- আত্মউন্নয়ন: চেষ্টা ও অবিরত আত্মউন্নয়নই জীবনের প্রকৃত প্রাপ্তি।
🕊️ ব্যাখ্যা ও শিক্ষণীয় দিক:
- ভালো আচরণের মূল্য: সদাচরণ শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়—এটি বুদ্ধি, মর্যাদা ও নেতৃত্বের প্রতিফলন। সমাজে সম্পর্ক ও সম্মান প্রতিষ্ঠার মূল চাবিকাঠি এটি।
- জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব: মানুষ জন্মসূত্রে জ্ঞানী নয়; শেখার মাধ্যমেই জ্ঞান অর্জন করতে হয়। জ্ঞানহীন জাতি বা নেতা কখনো সম্মান পায় না।
- আত্মতুষ্টি থেকে সতর্কতা: জীবনযুদ্ধে আত্মতুষ্টি উন্নতির পথে বাধা। মানুষকে চেষ্টাশীল ও আত্মোন্নয়নমুখী হতে হবে।
- প্রকৃত সম্মান: সদাচরণ ও জ্ঞান মিলেই মানুষকে সত্যিকারের সম্মানিত ও প্রভাবশালী করে তোলে।
📚 মূল উৎস:
উসামা ইবন মুনকিয (Usāma ibn Munqidh, 1095–1188 CE) রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ **«كتاب الاعتبار» (Kitāb al-I‘tibār)** থেকে নেওয়া একটি অংশের ভাবানুবাদ।
- **গ্রন্থ:** Kitāb al-I‘tibār (The Book of Learning by Example / The Book of Contemplation)
- **রচয়িতা:** উসামা ইবন মুনকিয (Usāma ibn Munqidh)
- **অধ্যায়:** “أصل الأدب” (Aṣl al-Adab) বা শিষ্টাচারের মূল।
- **পৃষ্ঠা:** আরবি সংস্করণে (Cairo ed.), প্রায় **পৃষ্ঠা 228–234** এর মধ্যে এই অংশটি পাওয়া যায়।
*Translation reference: The Book of Contemplation: Islam and the Crusades, translated by D. S. Richards, Penguin Classics, 2008.



0 Comments